somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবার মধ্যেই ভালো-খারাপ দুইটা দিক থাকে । খারাপিগুলাকে কবর দিয়ে ভালো কিছুকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্বটুকু সম্পূর্ণই নিজস্ব :#)

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভরদুপুরে দরজায় নক । বেশ খানিকক্ষণ ধরে ।

- (একনাগাড়ে টিভির দিকে তাকিয়ে) এই যাও না, দরজাটা খুলো না...
- (পেপার পড়তে পড়তে হঠাৎ বিরক্ত হয়ে) ধুর, ছুটির দিনটাতেও আমাকে কাজ করতে হয়...
- (এবার টিভির দিক থেকে স্বামীর দিকে তাকিয়ে) ও মা, ছুটির দিনে কি মানুষ মরে যায় ? নাকি শীতনিদ্রায় চলে যায় ?
- (এবার পেপারটা মুখের সামনের থেকে সামনের টেবিলে রেখে) না, তা তো বলিনি আমি । কিন্তু তুমি খুললেও তো পারো দরজাটা ।
- (আবারও টিভির দিকে মনোযোগ) এই না, না, দেখছো না, আমি টিভি দেখছি । পার্বতী মনে হয় এখনই বাপের বাড়ি চলে যাবে ।
- (অবাক হয়ে) এ্যা, পার্বতী কে ?
- ধুর, ডিস্টার্ব করো না তো, দেখতে দাও...
- পার্বতী কে, এটা তো আগে বলো
- এই যে সিরিয়াল "প্যায়ার তো এ্যাসিই হোতে হ্যায়" এর নায়িকা ।
- মানে, ভালোবাসা এভাবেই হয়ে যায় ? বাহ, বাক্যটা তো বেশ সুন্দর ।

তাদের কথোপকথনের মধ্যে দরজায় আবার নক ।

- (অনেকটাই কাকুতির মনোভাব নিয়ে) এই যাও না, প্লিজ, দরজাটা খুলে দেখো না যে কে এসেছে !!
- (কিঞ্চিৎ মশকরা করে) কিন্তু পার্বতী বাপের বাড়িই বা কেন যাচ্ছে, সেটা আমি জানবো না ?
- আচ্ছা, বাবা, আমিই তোমাকে বলছি, ওর স্বামী ওকে চড় মেরেছে তাই ।
- কি !!! ও রে, ব্যাটা তো দেখছি পুরাই হারকিউলিস । এত সাহসও হয় মানুষের ?
- মানে ?
- ঘরের বউয়ের গায়ে হাত তুলা আর যুদ্ধ তো এখন একই জিনিস ।
- (ঢং করে রাগ দেখিয়ে) এই যাও তো ।

থাক, বউকে আর বিরক্ত করে লাভ নেই, মনে মনে ভাবলো সামসুর সাহেব । দরজা খুলে দেখলো এক ভিক্ষুক । ৪০-৪৫ বছর বয়সী মধ্যবয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী, প্রায় হাড্ডিসার দাড়িওয়ালা মানুষটির চাওয়ার মধ্যে কেমন জানি একটা মায়া কাজ করলো । সামসুর রহমান তৎক্ষণাৎ পকেট থেকে ১০ টাকার একটা নোট বের করে লোকটির হাতে দিলো ।

- স্যার, কিছু মনে না করলে, একটু খাইতে দিবেন ?

সামসুর রহমানের কাছে মধ্যবয়সী লোকটির খাওয়ার কথা বলতেই সামসুর রহমানের কেমন জানি কান্না পেয়ে গেলো । আজ প্রায় ২ বছর হলো বাবাকে হারিয়েছেন তিনি । হঠাৎ কোন মধ্যবয়সী কিংবা বৃদ্ধ লোক দেখলেই নিজের বাবার কথা মনে পরে তার । বাবার জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি জীবনে । বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তানই ছিলেন তিনি । অনেক কষ্টে পোস্টঅফিসের দপ্তরী বাবা তাকে মানুষ করেছেন, ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছেন । যখন বাবা-মাকে দেখার সময় আসলো তার নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে তখন আত্মসম্মানী বাবা পুত্রের উপর নির্ভরশীল থাকতে আপত্তি জানালো, সেই থেকে বুড়া-বুড়ি গ্রামের বাড়িতেই থাকতো । সামসুর রহমান অনেক অনুরোধ করেছেন কিন্তু কোনভাবেই নিজের বাবা-মাকে নিজের বাড়িতে আনতে পারেননি । মা কে হারান আরও প্রায় ৬ বছর আগেই । এরপর থেকে বাবা ধীরে ধীরে আরও ভেঙে পড়তে থাকেন । এরপর তো ৩ বছর আগে থেকেই শয্যাশায়ী হন, হাসপাতালে প্রায় ১ বছরের চিকিৎসা শেষে অবশেষে ঠিক ২ বছর আগেই চলে যান পৃথিবী ছেড়ে । কেন নিজের ছেলেকে নিজের বাবা-মায়ের সেবাটুকু করার সুযোগ পর্যন্ত দেননি তার বাবা, সেটা আজ পর্যন্ত পরিস্কার না সামসুর রহমান সাহেবের কাছে । ভাবতে ভাবতেই চোখের কোণে পানি চলে এলো তার ।

- স্যার, কাঁদছেন ? থাক, স্যার, খাবার লাগবে না । মনিবের মন অসন্তুষ্ট রেখে সেই খাবার পেটে দি-ই বা কি করে ?
- (চোখ মুছতে মুছতে) আরে না, না, বসেন । এই সাবিনা, এদিকে এসো ।

স্ত্রী সাবিনাকে ডেকে অবশেষে নিজেদের দুপুরের খাবার থেকে কিছু অংশ মধ্যবয়সী লোকটিকে দিলেন । লোকটিও বেশ তৃপ্তভাবেই খেলো আর যাবার সময় বেশ দোয়া করে গেলো । সামসুর রহমান লোকটিকে যখন ইচ্ছা তখন এসেই খেয়ে যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে দিলেন ।

মোরাল অব দ্যা স্টোরিঃ আমাদের আশেপাশে ভালো মানুষের অভাব নেই । অভাব খালি তাদের খুঁজে বের করা । আমরা ১০১ টা খারাপ লোককে খুঁজে বের করে আমাদের সমাজকে, দেশকে, পৃথিবীকে খারাপ বলতেই পারি কিন্তু ১০১টা ভালো লোককে কষ্ট করে খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিতে রাজী হই না । ভালো হওয়াটা এখন যেন বড় অন্যায় । এই জন্যই ভালো মানুষগুলো খারাপ মানুষ হওয়ার মুখোশ পরে থাকে । আরও ভালো করে ভেবে দেখলে আমরা কেউই জন্মগতভাবে খারাপ নই, আমরা খারাপ পরিস্থিতির জন্য, সম্পর্কের জন্য, নিয়তের জন্য । আমাদের ভিতরের খারাপির বিরুদ্ধে মোকাবিলা, যুদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদেরই । আর এটার জন্য কারও বলে দেওয়ারও দরকার হয় না । দরকার হয় শুধু সঠিক সময় আর সুযোগের ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×