somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীক্ষা -ছাত্রজীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যার নাম X( :-*

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের নাম হয়তো পরীক্ষাই । পরীক্ষা দিয়ে আসলে কি যাচাই হয় ? মেধা, পরিশ্রম, কষ্ট নাকি সাধনা ? তাই তো কবি বলে গেছেন, "ছাত্রজীবন হতো বড়ই মধুর, যদি না থাকতো পরীক্ষা" । কিন্তু আদতে পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষাজীবনের কথা কল্পনাই করা যায় না । পরীক্ষার সাধারণ অর্থ মূল্যায়ন । একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী একটি নির্দিষ্ট সময়ে (ছয় মাসে কিংবা এক বছরে) ক্লাসে কিংবা তার জীবনে কি শিখলো বা তার শেখার আগ্রহ কতটুকু, সেটাই মূল্যায়ন হয় পরীক্ষার দ্বারা । কিন্তু আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এই পরীক্ষা পদ্ধতি আদৌ কোন সুফল বয়ে আনে না । এই কথাটি বেশ কয়েকটি যুক্তি দিয়ে বুঝানো যাক তাইলে ।

প্রথম কথা, পরীক্ষা আসলে কার মূল্যায়ন ? সেই ছাত্র বা ছাত্রীর, যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলো ? জি না, আপনি ভুল জানেন বা আপনার ধারণা ভুল । পরীক্ষা আসলে একজন শিক্ষকের বা একটি পাঠ্যপুস্তকের মূল্যায়ন । কারণ একজন ছাত্র-ছাত্রী তার এই শিক্ষা সেই শিক্ষক বা সেই পাঠ্যপুস্তক থেকেই অর্জন করে । তাহলে সে কি শিখলো তা মূল্যায়ন না করে, সে যা শিখেছে তা আদতে কার্যকরী কিনা সেটাই পরীক্ষা পদ্ধতি হওয়া উচিৎ ।

দ্বিতীয় কথা, একটি নির্দিষ্ট আওতার মধ্যে বা একটি নির্দিষ্ট সিলেবাসের মধ্যে কিছু বিষয় ঝাড়া মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় সেটাই লিখে দিয়ে আসার নাম কি পরীক্ষা ? আমার কাছে এই ব্যাপারটি সবসময় হাস্যকর মনে হয় । অনেকটাই অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে (পড়ুন "পড়ে") তা বমি করে (পড়ুন ঝাড়া মুখস্ত লিখে) আসার নাম যদি হয় পরীক্ষা, তাহলে সেটি হাস্যকর হবে না তো কি ? পরীক্ষা যদি প্রকৃতপক্ষে মূল্যায়ন হয়, তবে সেটি কোন সিলেবাসের গণ্ডীর আওতায় আনা আবশ্যক নয় । কারণ আমরা সারা জীবন ধরে সিলেবাস বেধেই পড়াশুনা করলেই সব শিখে যাই না ।

তৃতীয় কথা, এই সরকার তাদের শাসনামলে প্রথমেই একটি সাহসী পদক্ষেপ হাতে নেয় । সেটি হলো সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা । এটি অত্যন্ত সাহসী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, নিঃসন্দেহে । এই সৃজনশীল ব্যাপারটাই নিজের মত করে কোন কিছু শেখা, বলা, সর্বোপরি শিক্ষাকে বাস্তববাদী করে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক । কিন্তু শিক্ষকরাই এখন এই সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায় মেতে উঠেছে । একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে যদি তার সৃজনশীল ব্যাপারগুলো কোন শিক্ষকের শেখানো বুলি আওরানোর মত কিংবা গাইড বইয়ের লেখা হুবহু করে শিখতে হয়, তাও কি হাস্যকর হয় না ? সরকার এখন নিজের ফাঁদে নিজেই ফেসে গেছে অনেকটা । ইত্যাদি ।

এরকম অনেক কারণে বলাই যায় যে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি একটি বড়সড় কৌতুক ছাড়া আর কিছুই না । এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে Open book Exam system অর্থাৎ উন্মুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি । এই পদ্ধতির আওতায় একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে বলা হবে তোমার সামনে বই কিংবা খাতা কিংবা যাই থাকুক না কেন, অমুক বিষয় সম্পর্কে তোমার ধারণা অল্প কথায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে দেখাও । বাইরের দেশগুলোতে বিশেষ করে ইউরোপ কিংবা আমেরিকা অর্থাৎ উন্নত দেশগুলো তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই পদ্ধতি যোগ করেছে আরও অনেক বছর আগেই । তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, একমাত্র এই ব্যবস্থাই শুধুমাত্র পারে আমাদের দেশীয় এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে পচে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×