somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

গতকাল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাকে সমর্থন করেছিলেন ? হ্যাঁ, আপনিই তো লিজেন্ড =p~

১৯ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত বনাম পাকিস্তানের খেলা হয়েছে এবং শক্তিশালী ভারতীয় ক্রিকেট দলকে ১৮০ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ-২০১৭ এর চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান । হ্যাঁ, ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র আর ব্রিটিশদের কল্যাণে পাকিস্তানিদের সাথে আমাদের পুরনো একটা সম্পর্ক ছিল । খেলা শুরু হওয়ার আগে আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিল যে আমি এই দুইটি দলের মধ্যে কোন দলের সাপোর্টার ? আমি জবাবে বলেছিলাম, আমি এন্টি ইন্ডিয়া । তার মানে স্বভাবতই আমার সাপোর্ট হেলে যায় পাকিস্তানের দিকে । প্রশ্নকর্তা এটাই ধরে নিয়েছিল । কিন্তু আমি উত্তর দিয়ে আমি নিজেই অবাক । সত্যিই তো, এন্টি ইন্ডিয়া হলে তো আমাকে পাকিস্তানকেই সাপোর্ট করতে হয় । কিন্তু তাদের পুরনো কুকীর্তির জন্য সেটাও তো করা উচিৎ না । তাহলে উপায়...... !!

ফেসবুকে ঢুকলেই কতিপয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী (আমার কাছে এদেরকে কেন জানি সবসময় কট্টরপন্থী বলেই মনে হয়) ভাই/আপুদের এদেশের ক্ষমতাসীন সরকার আর ভারতের প্রতি অত্যন্ত তৈল মনোভাব দেখলে সত্যিই গা গুলিয়ে আসে । বলছি না, আমাদের ক্ষমতাসীন সরকারের সব খারাপ, তাদেরকে মোটেও সাপোর্ট করা যায় না । কিন্তু ভাল-খারাপ সবকিছুর মধ্যেই আছে । তাদের ভালো বিষয়গুলো নিয়ে যেমন মাত্রাতিরিক্ত পামজাতীয়ভাবে গেঁজানো হয় ঠিক তেমনি তাদের খারাপ বিষয়গুলো নিয়েও (মাত্রাতিরিক্ত না হোক) যে সমালোচনাটুকু করা উচিৎ, যেটা এই হিন্দু ভাই/আপুরা কোনদিনই করেন না (ভবিষ্যতেও করবেন না বোধ করি) ।

এবার আসি তাদেরই অতিরিক্ত ভারতপ্রীতি নিয়ে । আমাদের দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই মুখে স্বীকার না করলেও শুধুমাত্র ধর্মজনিত কারণেই ভারতের উপর আলগা একটা মহব্বত প্রদর্শন করেন প্রায়শই । ভারত এদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ । আমাদের দেশেই অধিকাংশ মানুষ যেখানে ভারতের সংস্কৃতির আমাদের দেশের সংস্কৃতির উপর ভয়ংকর আগ্রাসনকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তখন সেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন মুখে পুরো কলুপ এটে বসে থাকেন । আচ্ছা সবকিছু বাদ দেই, ক্রিকেট নিয়েই যেহেতু কথা হচ্ছিল, সেটা নিয়েই বলি । ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাথে ভারত যখন ভয়ংকর অন্যায় করলো, তখন বেশ কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজনকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করতে দেখেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে আবার যা সেই । এরাই আবার পরবর্তীতে ভারতের ক্রিকেট সাফল্যে চিৎকার-চেঁচামিচি করে আনন্দমূলক পোস্ট দিয়ে দিয়েছেন । তার মানে কি দাঁড়ালো !! সমস্যার শুরু কিন্তু এখানেই । এই আপনারাই আবার পাকিস্তানকে ধর্মজনিত কারণে সাপোর্ট করলে তাকে রাজাকার, জন্ম ঠিক নেই, পাকিস্তানের দালাল, চামচা ইত্যাদি বলতে ছাড়েন না । যেন ভারতের সাপোর্ট করার কারণে আপনাকে আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়ে গেছে । :/ :/

আমার কয়েকজন স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা এই খেলায় কোন দলের সাপোর্টার ? তারাও বলে স্যার, আমরা ভারতকে একেবারে সহ্য করেই পারি না । তাই আমরা পাকিস্তানের সাপোর্ট । এরপর যেটা হলো সেটার জন্য সত্যিই আমি প্রস্তুত ছিলাম না । এদের মধ্যেই হঠাৎ কেউ একজন বলে ওঠলো, "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" । আমি হঠাৎ-ই আঁৎকে উঠলাম । বলে কি সে !! যেই শ্লোগানটাকে বন্ধ করার জন্য ১৯৭১ সালের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করলাম, ৩০ লক্ষ মানুষকে হারালাম, ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হারানোর সাক্ষী হলাম সে শ্লোগানটাই কিনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একজনের কাছে শোনা লাগলো !! কি সূক্ষ্মভাবে ভারতের বিরোধিতা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে !! এই তরুণ প্রজন্ম বড়ই হচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ঘৃণা করে !! আসলেই ভাবতে অবাক লাগে না ? এই ক্ষমতাসীন সরকার যদি আইন করে সবার মুখ বন্ধ না করতো কিংবা সবাইকে যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দিতো, তাহলে সেই বিরোধিতাগুলো খালি অন্তরে না, মুখ দিয়েও বেরিয়ে যেতো । :(

ভারত আমাদের যুদ্ধে সাহায্য করেছে, আমাদের পাকিস্তান থেকে রক্ষা করেছে, আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, আমাদের পরিবারের মত ইত্যাদি রাবিশ কথাবার্তা বন্ধ করেন । ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের সাহায্য করেছে একমাত্র আমাদের যেন অনন্তকাল শোষণ করতে পারে । ভারত যদি সত্যি সত্যি আমাদের বন্ধু হতো, হাজারো ফেলানি কখনও তাদের কাঁটাতারে ঝুলতো না, বন্ধুরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষের অন্যতম প্রিয় খাদ্য গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করতে সেই বন্ধুই নতুন করে নাটক শুরু করতো না (অথচ ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি ইত্যাদিতে সেই গরুর মাংস রপ্তানি ঠিকই হচ্ছে), তিস্তা চুক্তি নিয়ে এরকম তালবাহানা করতো না, আমাদের সংস্কৃতির ছিটেফোঁটাও তাদের দেশে ঢুকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতো না, বেগারদেশ/কাংলাদেশ ইত্যাদি উপাধির আবিস্কারই হতো না, তাই নয় কি ? বাদ দিন তো, এই বন্ধু বন্ধু নাটক । শোষণ যারা করে তাদের শোষক বলে, বন্ধু না । তাহলে কি বুঝা গেলো, তরুণ প্রজন্ম কেন তাদের এত ঘৃণা করে ? কারণ তারা তো যা দেখে সেটাই বিশ্বাস করবে, তাই না ? ইতিহাস তো দেখার বিষয় না, শোনার বিষয় আর সবশেষে বিশ্বাস করার বিষয় । তাই পাকিস্তানকে ঘৃণা করছেন, খুব ভালো কথা কিন্তু ভারতের বিষয়টা নিয়েও সিরিয়াসলি চিন্তা করে দেখুন । তাদের আদৌ কোন ক্ষেত্রে সাপোর্ট করা যায় কি ?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:০৪
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×