somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

ভাইয়া, আপনি বেরাজিল নাকি আরজেনটিনা ?? #:-S :||

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিনের মত আজও বাবার কথামত বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলাম । রোজ রোজ ঐ একই কথা, "তোমাকে আর বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারবো না । এত বড় ডাঙ্গর ছেলে, আর কিনা বাপের ঘাড়ে চেপে ভাত খায় । একদিনও তো দেখলাম না চক্ষুলজ্জায় কম খাচ্ছো কিংবা কোনকিছুর দাবি কম করছো !! ছোট ছোট ভাইবোনগুলোর দিকে তাকিয়েও তো কিছু করতে পারো । আসলেই কি একটুও লজ্জা নেই তোমার ? এর থেকে তুমি বাড়ি থেকে চলে গেলেই হয়তো আমার ভালো হতো" ।

মা বাবাকে থামাতে অনেক চেষ্ঠা করেন কিন্তু পারেননা । কিছু মানুষকে তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ করতে দিতে হয়, না হলে তারা ভিতরে ভিতরে গুমরে মরে । আমি তাই মাঝে মাঝে মা কে বারণ করি বাবাকে থামাতে কিন্তু সবাই যেন চিরাচরিত কাজ করতেই পছন্দ করে । প্রতিদিনের মত কথা গিয়ে শেষ হয় ঐ একটি জায়গায়, আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেই নাকি বাবা খুশি হন । আমিও তাই বাড়ির বাইরে চলে যাই । ঘণ্টা দুই-তিনেক থাকার পর শুরু হয় ফোনের পর ফোন । এই মোবাইলটাও বাবার দেওয়া । ব্যবহার করতে ইচ্ছে হয় না তখন, কিন্তু মায়ের ফোন তো, তাই উপেক্ষা করা কঠিন । এরপর ফোন ধরলে শুরু হয় মায়ের চিরাচরিত কান্না আর বারবার অনুরোধের পর আমার বাধ্য হয়ে আবারও বাড়ি ফিরে যাওয়া ।

তবে বাড়ির বাইরের সময়টা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য । হাঁটতে হাঁটতে পার্কে চলে যাই । এরপর সেখানে একটা ফাঁকা বসার জায়গা পেয়ে একাকী বসে যাই, কখনও ফাঁকা না পেলে ঘাসে বসে যাই । সেখানে বসে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্নরকম কর্মকাণ্ড দেখি । অনেক অদ্ভুত আর স্বাভাবিক কাজ । মনে হতে পারে, হয়তো পার্কটি আমার বাড়ির পাশে কিন্তু না । বাড়ি থেকে প্রায় ঘণ্টা খানেকের হাঁটা পথ । আমি বাবার টাকা বাচিয়ে হেঁটেই চলে যাই পার্কে ।

আজকে বাইরে বেরুতেই ঝুম বৃষ্টি । একবারে কাকভেজা যাকে বলে সেই ভেজা ভিজে যাচ্ছি, বুঝছি কিন্তু কি করার !! আজকে হয়তো ঘণ্টা দুয়েকের আগেই মায়ের ফোন চলে আসবে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ফিরে যাবো কি !! অন্য কিছু না ভেবে ভিজে ভিজেই হাঁটতে হাঁটতে পার্কে চলে গেলাম । অন্য দিনের তুলনায় বৃষ্টিস্নাত দিনটাতে পার্কে লোকসংখ্যা অনেক কম, এটাই তো স্বাভাবিক । গুটিকতক পথশিশুদের দেখলাম মনের আনন্দে একসাথে ফুটবল খেলছে । বিশ্বকাপের মৌসুম বলে কথা । আজকে অনেক ফাঁকা বেঞ্চ পাওয়ার পরও কি মনে হলো আমি ঘাসে গিয়ে বসলাম । বৃষ্টির দিনে এই ঘাসে অনেক পোকা, সাপ, কেঁচো ইত্যাদি থাকতে পারে, থাকুক, এইখানেই বসবো আমি ।

বৃষ্টির পানি চোখে লাগলো বলে কিনা জানি না, হঠাৎ মনে হলো আমি কাঁদছি । আমার ভিতর থেকে অবশ্য এই অনুভূতি এতটা প্রখর হলো না, তাই আমি নিজেই শিউর না । না চাইতেও পুরনো ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গেলাম । বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান আমি । অনেক আদরের ছোটবেলা থেকেই । পড়াশুনাতেও মেধাবী, অন্তত রেজাল্ট তো তাই বলে । এসএসসি, এইচএসসি দুটোতেই এ+ আর অনার্সে ফাস্ট ক্লাশ ফোর্থ হলাম । অন্য আরও ৮-১০ জন সাধারণ ছাত্রের মত আমার চোখেও স্বপ্ন তখন বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকুরী করবো । কিন্তু সোনার হরিণ কি এত সহজে ধরা দেয় !! মাস্টার্সের রেজাল্টও একরকম খারাপ হলো এই বিসিএসের চক্করে । অনেক পড়লাম কিন্তু ৩-৪ বছরেও ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল না । জানি না কেন কিন্তু হতাশ হয়ে পড়লাম । মূলত যারা সবচেয়ে বেশি আশা দেওয়ার কথা সেই বাবা-মাও যেন আমার উপর ভরসা হারিয়ে ফেললেন । ফলস্বরূপ, পরিণতি তো প্রথমেই বললাম ।

ভাইয়া, বলটা দেন তো । হঠাৎ করে একটা কণ্ঠ আমাকে ফ্ল্যাশব্যাক থেকে টেনে সোজাসুজি বর্তমানে নিয়ে এলো । ফ্ল্যাশব্যাক থেকে ফিরে এসেই দেখি আমার দুই পায়ের ফাঁকে ঐ বলটা, যেটা নিয়ে এতক্ষণ পথশিশুগুলো খেলছিল । কিভাবে চলে এসেছে কে জানে !! আমি বললাম, "দিতে পারি এক শর্তে । আমাকেও খেলায় নিতে হবে ।" দুই জন এসেছিল আমার কাছে, আমার কথা শুনে দেখলাম তারা চোখাচোখি করছে । অবশেষে ওদের কাছ থেকে একটা অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন পেলাম, "ভাইয়া আপনি বেরাজিল না আর্জেন্টিনা ?" কি !! ওদের প্রশ্ন শুনে আমার প্রচণ্ড হাসি চলে এলো । হো হো হো হা হা হা ।

আমার এরকম পাগলের মত হাসি হাসতে দেখে ওরা দুইজনেই যেন ভয় পেয়ে গেলো । কিন্তু আমি যেন হাসি থামাতেই পারছি না । অজান্তেই একটা ভাবনা মনে এলো, তাই তো !! আমি তো ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনাই । বাংলাদেশ কি আদৌ আমি কখনও ছিলাম ??
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেয়ারের আত্মকথা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩০


চেয়ারের আত্মকথা

চেয়ারটি নাকি একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, "মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাকে বানানো কাঠটাকেও যদি ততটা ভালোবাসত, তবে পৃথিবীতে এত অহংকার জন্মাত না।"

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

চেয়ারটি বলল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×