somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লতিফ হলের এক বিভিষীকাময় রাত /:)

১৪ ই জুলাই, ২০১১ ভোর ৪:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৫.০৩.০৯
রাত ১০.১০
লতিফ ছাত্রাবাস
ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ।।

হলের সামনে আসতেই চিৎকার, শোরগোল আর দৌড়াদৌড়ীর আওয়াজ। থমকে দাড়ালাম হলের সামনের ফুটপাতে। হলের মধ্যে তখনও হৈ হুল্লোর চলছে। এমন সময় পুলিশ আসল এবং হলে ঢুকে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে সবাইকে ধমকাতে লাগলো। এই ফাকে আমি বুকের ধকধক ভয় নিয়ে হলের ভেতরে ঢুকে পরলাম।
৩য় তলায় আমার ব্লকের সামনে এসে যে পরিস্থিতি দেখলাম তাতে বুকের ধকধকানি বৃদ্ধি পেয়ে কাপতে লাগলাম। ব্লকের সবাই হাতিয়ার সমেত পজিশন নিয়ে করিডোরে বেরিকেট দিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে এক বড় ভাই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসতে হুকুম দিল। তারপর বেরিকেট মাড়িয়ে কোন মতে রুমে পৌছলাম।
সংঙ্গে সংঙ্গে এক ভাই এসে ধমকিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন এতক্ষন কোথায় ছিলাম.. বললাম অফিস করে এসেছি.. ভাই আর কিছু না বলে তার হতে থাকা চকচকে একটা *** দিয়ে বলল, আয় পেছনে থাকিস, তোদের সামনে যেতে হবে না। মনে মনে চাচ্ছিলাম পেছনে নয় একেবারে হলের বাইরে থাকতে কিন্তু তখন তা আর সম্ভব নহে।
আমরা ১ম বর্ষের ব্যাচ। ব্লকে আমাদের ব্যাচের জনা দশের মত ছিলাম । সবাইকে *** সজ্জিত অবস্থায় পেয়ে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করলাম কিন্তু কোন ভাবেই মনকে বুঝাতে পারছিলাম না। আশার কথা ছিল, গন্ডোগেলটা ছিল অন্য দুটি গ্রুপের মধ্যে তাই এ গ্রুপ এর (আমি গ্রুপে কখনো সক্রিয় ছিলাম না বাট ব্লকে ছিলাম তাই ) প্রস্তুত ছিল সতর্কতা মূলক। তাই আমি কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে সবার পেছনে অবস্থান নিলাম। এরই মধ্যে বাহিরথেকে কয়েকজন নতুন সদস্য যোগ দেওয়ায় হাতিয়ারের সংকট পড়লে আমি আমার হাতিয়ার অন্য এক ভাইকে সোপর্দ করে মুক্ত হলাম।। মনে হল উহুদ পাহাড় সড়ে গেল। সবার পিছনে এসে আমি আর আমার এক ব্যাচ মেট তাবলীগের একটা রুমের সামনে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করতে লাগলাম। তেমন কিছু দেখলেই তাবলীগী ভাইজা্নদের রুমে আশ্রয় নিব বলে ঠিক করেছিলাম.... B-)

এর মধ্যে পুলিশ হল থেকে কেন যে হল থেকে প্রস্থান করল আমি বুঝতে পারলাম না X( অথচ হলের প্রত্যেক ব্লকে এভাবে অস্ত্রসহ ছাত্ররা অবস্থান নিচ্ছে।। তাই পরিস্থিতির ষোলকষা তখনই পূর্ণ হল,,

মুহু মুহু গুলি আর বোমার শব্দে আমার কান ফেটে যাবার উপক্রম হল। আমার ছিলাম তৃতীয় তলায় আর গোলাযোগ হচ্ছিল দ্বীতিয় তলায়। আমরা প্রস্তুত ছিলাম এজন্য যে দোতালা থেকে ঐ রেশ যেন আমাদের ব্লকে না আসে।

যে দুগ্রুপের মধ্যে গন্ডগোল ছিল তারা হল চিকা রাসেল গ্রুপ এবং জাকির গ্রুপ। চিকা গ্রুপের প্রবল আক্রমণের মুখে জাকিরের সৈন্য সামন্ত ক্রমেই পিছু হটছিল। এক পর্যায়ে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। তখন হলের জানালাগলেোতে কোন গ্রীল ছিল না। তাই জাকির গ্রুপের সবাই জানালা দিয়ে পালায়নের দিকে মনোযোগ দেয়। কিন্তু বিধি বাম সেখানেও চিকার পুলাপাইন:) কিল ঘুষি এবং বাংলা হাতিয়ারের কোপ সহ যার যা ছিল (মানিব্যাগ, মোবাইল, ঘড়ি, শার্ট ইত্যাদি) এগুলো চিকার লোকজনের হাতে সোপর্দ করে তারপর ভো দৌড়।

প্রায় ২০-৩০ জন সেদিন আহত হয়েছিল। গুরুতর আহত ৫ জন, দুজনের পায়ে গুলি আর অনেকর হাত, মাথা জখম হয়েছিল।

সর্বশেষে বাংলা ছবির শেষ দৃশ্যপটের মত পুলিশ এসে উপস্থিত, ততক্ষণে জাকির গ্রুপের ব্লকের যাবতীয় মালামাল চিকার পোলাপান ভ্যানিস করে দিয়েছে। এবং আহতের চিৎকারে লতিফের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছিল।

এতক্ষণে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। কারণ আমাদের গ্রপের সাথে ওরা লাগতে আসেনি। পরের দিন ফোন রিসিভ এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে প্রাণ উষ্ঠাগত হয়ে পড়ল।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১১ ভোর ৫:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×