somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক চিলতে হাসি(গল্প)

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকেল সাড়ে ৪ টায় কোচিং আর এখন ই বাজে ৩ টা ৪৫। বাসা থেকে কোচিং যেতে আরো ৪৫ মিনিট লাগবে আর যদি বাস জ্যামে পড়ে তো ১ ঘন্টা এর আগে কোনো ভাবেই পৌছানো সম্ভব নয়, এমন সাত পাচ ভাবতে ভাবতেই ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়ল তূর্য। মিরপুর থেকে বিহঙ্গ বাস ধরতে হবে ফার্মগেটে যেতে, লোকাল বাস তাই যাত্রী চাহিদা কম নয় ব্যাপক ভীড় থাকে তবে এই টাইমে তেমন একটা ভীড় থাকেনা।
সপ্তাহে ৪ দিন এইভাবে যেতে হয় তূর্যর আর স্টুডেন্ট খারাপ না খুব ই ভালো SSC ও HSC দুটাটেই গোল্ডেন পেয়েছে। এখন স্বপ্ন বুয়েটে ভর্তি হবার, বাবা মা তেমন আশা করেনি ওর থেকে তবে প্রতিবার ও বাবা মাকে তাদের স্বল্প চাহিদার চেয়ে অপ্রত্যাশিত ভাবে একটু বেশী ই দিয়েছে.

আর বাবা মাও তুর্যকে অপ্রত্যাশিতভাবে একা করে দূর দেশে চলে গেছেন। মাঝ রাতে ঘুম না এলে মা'র সেই পুরনো ছবিটা বইয়ের ভাজ থেকে বের করে দেখে আর কাদে তূর্য, ওর কান্নার সাথে নিস্চুপ রাত্রিও যেন নিজের কান্না চেপে রাখতে পারেনা তাই বৃষ্টি ঝরিয়ে দেয়। হীম শিতলে যখন সবাই এক সুখময় নিদ্রার আশায় ঘুমুতে যায় ঠিক তখন তূর্যর ব্যাথা গুলি আরো তীব্র আকার ধারন করে। এসএসসি পরিক্ষার রেজাল্ট দেয়ার পরেই এক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা মা দুজনেই মারা যান। পৃথিবীতে রইল কেবল ৩ ভাই বোন। তূর্য সবার ছোট তাই সবার আদুরেই তবে তার লক্ষ্যটা সেই আদুরে থাকতে দেয় নি কারন তার পড়া লেখার খরচ কেউ বহন করতে রাজী নয়, বাবাও তেমন ধণী ছিলেন না যে তিন মারা গেলে তার সম্পদ থাকবে তা দিয়ে পড়া লেখাটা চালিয়ে যাবে।

তবে তূর্যের উদ্যমী আগ্রহ আর পড়ালেখার নেশাটা তাকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগাতে থাকল, বোনের বাসায়, ভাইয়ের বাসায় কিছু দিন থেকে থেকে ইন্টারটা কোনভাবে কাটালো। টিউশনি, নিজের কলেজ আর নিজে কিছু ছেলে মেয়েদের পড়ায়েই দিন আর মাস কেটে যেত।
খুব একটা মন্দ ছিলনা তবে খুব একটা ভালো থাকা থেকে অনেক বেশী ভালো আছি এমন কিছু হবে বলে ধারনা করল তূর্য আর এই অনেক বেশী ভালো থাকার কারণটা হবে নবনী। তূর্যের ব্যাচমেট ও ভালো ফ্রেন্ড। তেমন ভালো ফ্রেন্ডশীপ না থাকলেও খুব আগ্রহ করেই নিয়মিত স্টাডিতে নোট সহ বিভিন্ন সাজেসন দিয়ে নবনীকে হেল্প করত তূর্য। তূর্যের প্রতি নবনীর আগ্রহটাও কম ছিল না, নবনী তূর্যের অবস্থা জানত আর কেবল নবনী না কোচিং এর কম বেশী সবাই জানত তাই কোচিং এ ভালো ছাত্রের সুবাদে তূর্য ফ্রী ই পড়ত। বন্ধু মহলেও যথেষ্ট হাস্যউজ্বল তূর্য আর নবনী।
নবনী তূর্যের খুব কাছা কাছি চলে এসেছিল, সব বিষয়ে তূর্যকে জিঞ্জাসাবাদ করত। এই যেমন, তুমি ঠিক ঠাক খাও না কেন, রাত এতো জাগো কেন? কোচিং এ দু একদিন না এলে বলে
- তুমি তো ভালো ছাত্র তুমি যদি ভালো রেজাল্ট না করো তো আমরা তো গোল্লায় গেলাম, রেগুলার কোচিং করবা চামচিকা বুঝলা! আর তূর্যের সেই এক হাসি আর এক কথা-
-আরে চাশমিস, আপনার কথা অগ্রাহ্য করিবার কোন হেতু তো খুজিয়া পাইনা… এই কথার শেষে নবনীর ঠোটের কোনে এক চিলতে মিষ্টি হাসি উকি দিয়ে যায়… মনের ভিতর অনেক কষ্ট থাকলেও এই মেয়েটার মুখটা দেখলে নিমেষেই দুঃখ গুলি কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।

কোচিং ঢুকতেই একটু লেট হলো, তবে স্যার কিছু না বলে ইশারাতে ঢুকতে বল শিহাব ওর সাথে বসার জন্যে ৩ নাম্বার বেঞ্জে একটা সিট খালি রেখেছিল আর তূর্যকে দেখেই ওকে ওর সাথে বসতে বলল। শিহাব আস্তে আস্তে তূর্যকে বলল
-তূর্য শুনছিস গতকালকে পিয়াস নবনীকে প্রপোজ করেছে? তূর্য পুরাই হতভম্ব, অবাক হয়ে শিহাবের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
অবাক হওয়ার কারন পিয়াস হল এই কোচিং এর সবচেয়ে স্মার্ট আর বড়লোক ছেলে।
-নবনী কি একসেপ্ট করছে?
-জানি না, আজ তো আসেনাই, আর দেখ পিয়াস কি মাঞ্জা মারছে। তূর্য ঘার ঘুড়িয়ে পিছে তাকালো, তবে পিয়াসকে না নবনীকে দেখতে। আসলেই আজ আসেনি মেয়েটা!
সোজা হতেই দেখল শিহাবের হাতে একটি গোলাপ আর একটি চিঠি যা শিহাব পড়ছে। আসলে এগুলা সব তূর্যের। শিহাব পুরো চিঠিটা পড়ল তূর্য কোন বাধা দিল না আর বাধা দিয়েই কী লাভ, যেকোন মেয়ে পিয়াসের অফার একসেপ্ট করবে আর হয়ত নবনীও করবে। শিহাব খুব উৎকণ্ঠ নিয়ে তূর্যকে জিঞ্জাস করল
-দোস্ত এতো ভালোবাসিস ওকে? সেই কবে লিখেছিস চিঠি কিন্তু দিলিনা কেন?
-হুম বাসি! কিন্তু ভয় হয়, আমার তো তেমন কিছু নেই আর ও আমার বন্ধু! থাক হয়ত ও আমার ছিল না…
শিহাব নীরবে দেখতে থাকল তূর্যকে আর হয়ত ভাবছিল এই ছেলে আর কত হারাবে?

মাথার উপর গোল চাদ আর সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে শুয়ে আছে তূর্য! বুয়েটে সে চান্স পেয়েছে, সেদিনের পর তূর্য নবনীকে আর দেখেনি। নবনী কোচিং আসেনি। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল, স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল অপরিচিত নাম্বার…
-হ্যালো কে?
-কে? চামচিকা? বুকটা কেপে উঠল তূর্যের…
-কে নবনী?
-না, তোমার চাশমিস।
অনেকদিন পর নবনীর দেখা, ও এখন ঢাবিতে পড়ছে, সেই মায়াবী চেহারা আর সেই এক চিলতে হাসির ফুয়ারা যেন এখনো উজ্জিবিত।এতটা খুশি আমি আগে ওকে দেখিনি হয়ত পিয়াসের সাথে সুখেই আছে আমার নবনী।
বিদায় মুহুর্তে নবনীকে খুব বলতে ইচ্ছে করছিল-
" চাশমিস তুমার সেই এক চিলতে হাসিটা দাও না যেটা দেখে আমি আমার দুঃখ গুলো ভুলে যেতাম।"
-তূর্য কিছু বলার ছিল তোমাকে
-বল
-না থাক যাই,ভালো থেক।
এক রাশ কালো মেঘ যেন নবনীর চেহারায় খেলে যাচ্ছে, হয়ত বন্ধুকে বিদায়ের দু;খ।
মেসে আসার পর শিহাব এর কল আসল-
-দোস্ত নবনী কিছু বলছে তোরে?
-কি বলবে?
-আরে তুই শুনলে টাসকী খাবি
-কি হইসে বলবি? মনটা খারাপ আমি কেটে দিব।
-আরে আগে শুন… নবনী তোমারেই ভালোবাসে। আর এইটা বলতেই তোকে কাল ফোন করে দেখা করতে বলেছিল।
-তাহলে পিয়াস?
-পিয়াস সেইদিনেই রিজেক্ট হইছিল তবে ও তোর নামে নবনীকে বলছিল তুই আর আফরিন নাকি প্রেম করছিস আর এইটা শুনেই নবনী আর কোচিং এ যাই নি।

জিবনটা খুব সুন্দর লাগছে আজ, আজ নবনীর হাতে আমার লেখা সেই চিঠিটা দিব সাথে একটা গোলাপ…নবনীর কোন গোলাপ পছন্দ? white রোজ না রেড? ফুল আর চিঠিটা দিয়ে নবনীকে বলব
"তুমি কি আমাকে দিবে, আমার না ঘুমানোর রাতে তোমার একচিলতে হাসি, আমি একবার নয় বার বার বলব তুমায় ভালোবাসি খুব ভালোবাসি....
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×