somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

"...ইহাকে পাইলাম"

১১ ই অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

--দোস্ত, বিয়াটা এইবার কইরা ফালা।
--তোরে না কইছি, আমার বিয়া নিয়া কোন কথা কবি না।
--তুই বিয়া না করলে এইরকম প্রত্যেকদিন ই কমু।
--তুই কি আমারে জোর কইরা বিয়া করাইতে পারবি?
--না, আমার ঠেকছে।
তোরে জোর কইরা বিয়া করাইতে যামু।
--তাইলে আর বিয়া নিয়া কোন কথা কবি না।
--আরে, তুইতো আমার একমাত্র দোস্ত।এইলাইগাই তো কই। আর দুই বছর পর তো কোন মাইয়াই আর তোর কাছে আইবো না।
একটা ভালো বুদ্ধি দিলাম,
না তা মানবি না!কোনখানের কোন মাইয়ার লাইগা বইসা আছে।
যাইয়া দেখ ঐ মাইয়া তোর লাইগা বইসা নাই।
--আমার যাওয়ার সময় আর একটা কথাও বলবিনা কিন্তু।
--না, তা বলব কেন?
তুই শালা তো হিজড়া।

এভাবে প্রায়ই নাহিদ আর রফিকের ঝগড়া হয়।
দুজনেই খুলনায় থাকে।
অনেকদিন ধরেই ওদের এই বন্ধুত্ত।
ওরা কেউই মনেহয় জানেনা ওদের এই বন্ধুত্ততা কতদিনের, কিভাবে হল।

নাহিদ এখনো বিয়ে করেনি।
বয়স বেশী একটা হয়নি। সে নাকি বিয়ে করবেনা!রফিকের টেনশন ওর মন মরা নিয়ে।
সারাদিন যেন কি সব ভাবে।
উল্টা পাল্টা ছবি আঁকে, কবিতা লিখে আরো যত উদ্ভট উদ্ভট কাজ করে। জোর করে ওকে পাঠাচ্ছে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। চাকরিটা পেলে জোর করেই বিয়েটাও দিতে হবে। তারপর বৌ ই ওকে সোজা করে ফেলবে। রফিকের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে ওঠে।

নাহিদের কাল সকালেই ইন্টারভিউ।
তাই আজ ই সে চলে যাবে ঢাকায়।

দুই.
বাসটা একটু জোরেই চলছিল।
সময় পুষিয়ে নেওয়া আরকি।
সিগন্যালটা পেরোতে যাবে, ঠিক এই সময় লাল বাতি জ্বলে উঠল। হঠাত্‍ কড়া ব্রেক করতে হলো।
দাড়িয়ে থাকা যাত্রীরা একজন আরেকজনের গায়ের উপরে।
লম্বা চুলওয়ালা ছেলেটা পানি খাচ্ছিল। সে একেবারে পানিতে ভিজে একাকার। তার উপড় আবার নীলিমা তার যেয়ে পড়েছে।
অন্য সময় হলে নীলিমা হাসত, খুব হাসত।
এখন আর হাসেনা নীলিমা।

পুরো বাস জুড়ে হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে।কেউ পানিতে ভিজে গেছে,
কারো বাদাম পরে গেছে,
কারো বা ফাইল খুলে গিয়ে একাকার।
নীলিমার সামনে গিয়ে কয়েকটি কাগজ পড়ল।
লোকটি কাগজ গুলো তুলে নিচ্ছেন।
নীলিমা ওর পায়ের কাছে পড়ে থাকা কাগজ গুলো তুলতে হাত বাড়ালো।
একটা ছবিও আছে। নীলিমা যেন চোঁখে তারা দেখলো।
একি, এ ছবি এখানে এলো কি করে। চোঁখ তুলে সামনে তাকিয়ে, মোটা ফ্রেমের চশমা ওয়ালা লোকটাকে দেখলো। পুরোনো স্মৃতিগুলো যেন মূহুর্তেই জেকে বসল তাকে।হাত কাঁপছে নীলিমার।
কাঁপা কাঁপা হাতে ছবিটি আর কাগজগুলো লোকটির দিকে এগিয়ে দিল নীলিমা। লোকটিও তার দিকে তাকিয়ে আছে।
--নীল না?
--কেমন আছ নাহিদ ভাই?

বাসের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে, ওরা যেন ছিনেমার নায়ক-নায়িকা।
--একটু সামনেই আমার বাসা, যাবে আমার সাথে?
--আচ্ছা?

নাহিদ, নীলিমার পিছে পিছে হেটে যাচ্ছে আর স্মৃতি গুলোকে হাতরে দেখছে।

বাবা-মা হীন এতিম একটা ছেলে নাহিদ। দুর সম্পর্কের আত্বীয় ছিল নীলিমাদের। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে আশ্রয় দিয়েছিল নীলিমার বাবা আশরাফ সাহেব। কিন্তু উপকারের কথা মনে রাখতে পারেনি নাহিদ। ভালোবেসে ফেলেছিল নীলিমাকে। কিভাবে যেন ওদের প্রেমটাও হয়ে গিয়েছিল।
জীবনটাকে ওরা উপভোগ করতে শিখেছিল। এভাবেই কেটে গিয়েছিল তিনটি বছর।কিন্তু জানাজানি হয়ে গিয়েছিল ওদের প্রেম। নাহিদ বাড়িতে ছিলনা, ওর ঘর সার্চ করে পাওয়া গিয়েছিল নীলিমার একটা ছবি। তারপর নাহিদ কে বাড়ি থেকে বিতাড়ন আর নীলিমাদের ঢাকায় চলে আসা।
শপথ করেছিল নাহিদ, সে আর জীবনে বিয়ে করবেনা।
কয়েকদিন পর নাহিদের নামে একটা চিঠি এসেছিল, খামের ভিতর শুধু একটা ছবি, নীলিমার ছবি।
গ্রাজুয়েট হওয়ার পর একটা চাকরী খুজছে নাহিদ। আর দীর্ঘ দুই বছর পর নীলিমার সাথে দেখা।

--এটাই আমার বাসা।
-- তোর স্বামী?
--নেই!
--চাচা-চাচী?
--জানিনা!
--মানে!?
নীলিমার চোঁখে জল। নীলিমা বলতে শুরু করল,
এতক্ষন যেন শুধু বলার অপেক্ষায় ই ছিল।

বাবা আমাকে বিয়ে দিয়েছিল সাগরের সাথে, মস্ত বড় গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী। বিয়ের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় তার অত্যাচার। অনেক রাত করে মদ খেয়ে বাসায় ফিরত। খুব মুখ খারাপ করত প্রথম প্রথম।
কিন্তু কিছু দিন যেতেই গায়ে হাত তোলা শুরু করল।
আস্তে আস্তে অত্যাচারের পরিমান বাড়তে থাকল।
মাঝখানে দু মাস মায়ের কাছে চলে এসেছিলাম, আবার বুঝিয়ে শুনিয়ে দিয়ে এসেছিল।
কিন্তু অত্যাচার কমেনি, বরং আরো বেরেছিল।
এরি মধ্যে ঘরের আলমারিতে ওর আগের বউ এর ছবি আবিষ্কার করায় অত্যাচার আরো বেড়ে যায়।
হঠাত্‍ করেই বাসায় তার বন্ধুদের আসা যাওয়া বেড়ে যায়।
ওরা আমার সাথে বাজে ভাষায় কথা বললেও ও কিছু মনে করত না। বরং আমাকেও বলার জন্য বলত।
ওদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি পালিয়ে আসি। ছয় মাসের মত আমি এখানে আছি। একটা কোচিং এ পড়াই।

হঠাত্‍ নাহিদের হাত চেপে ধরে নীলিমা।
নাহিদ অসস্তি বোধ করে।
-আর একবার এক হতে পারি না আমরা নাহিদ দা?
-না, তা হয় না। আমার স্ত্রী আছে।
-তাহলে একটা পর স্ত্রীর ছবি এতদিন আগলে রেখেছ কেন?
-ওটাতো ফেলে রেখেছিলাম, ওটা দেখে একটা স্কেচ করেছিলাম। ক্লায়েন্ট স্কেচটার মেইন কপি দেখতে চেয়েছিল তাই।

নীলিমা কাঁদছে, নিজের জন্য নয় নাহিদের মিথ্যে বলার ভঙ্গি দেখে।
নাহিদ চলে আসে। যাওয়ার আগে এক টুকরা হাতে দেয় নীলিমা। শুধু বলে, ইচ্ছে হলে ফোন কোরো।


আনমনে রাস্তায় হাটছে নাহিদ। একটা বাস পাশ কেটে চলে যায়। নাহিদ দাড়িয়েই থাকে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে। হাতে মোবাইল তুলে নেয় সে।
দুটো কল করে। একটা রফিককে আরেকটা নীলিমাকে।
------------------------
------------------------
তিন.
নাহিদের চাকরিটা হয়ে গেছে। আজ নাহিদ আর নীলিমার বিয়ে হয়েছে। সবচেয়ে বেশী খুশি রফিক।
নাহিদ বারান্দায় দাড়িয়ে আছে। আকাশের তারা গুলো দেখছে। এসময় কেউ একজন তাকে পিছে থেকে জড়িয়ে নেয়। নাহিদ হাত দুটি হাতে হাতে তুলে নেয়।
আনমনে বলে ওঠে,"আমি পাইলাম, ইহাকে পাইলাম, কাহাকে পাইলাম। এ যে দুর্লভ এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে?"
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×