somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -২

২২ শে জুন, ২০১১ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটি ১৯৯৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের। সেসময় আমি চট্টগ্রাম থাকতাম। দামপাড়া পুলিশ লাইনে একবার এলআরবি কনসার্ট করবে। আগেই সারা চট্টগ্রাম শহরে পাবলিসিটি হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর শুরু হলো অনুষ্ঠান। দামপাড়া পুলিশ লাইনের গেট দিয়ে ঢোকার পর ডান পাশে বিশাল মাঠ। আমরা সব বাচ্চু পাগল বন্ধুবান্ধব হুড়পাড় করে ঢুকলাম। ততক্ষণে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।

আমরা গিয়ে দাঁড়ালাম ষ্টেজের বাম পাশে মানে মাঠের বাম দিকে। কনসার্ট চলছে। ধুমধারাক্কা সব গান গাইছে। অদ্ভুত লাইটিং শো। বাচ্চু নীল বেদনা গানটা গাইছে আর পুরো ষ্টেজে নীল আলো খেলা চলছিল। সে এক অদ্ভুত অনুভুতি!! এরই মধ্যে শুরু হলো ধাক্কাধাক্কি। কনসার্টে যা হয় আরকি! দেখলাম কিছু ছেলে মিলে একটা ছেলেকে মারছে। পেটে ঘুষি মেরেছে। দেখলাম ছেলেটা চলে গেলো মাঠের এক পাশে। আমার ছেলেটাকে দেখে বেশ মায়া হলো। আমার মতই বয়স বা আমার থেকে একটু ছোট হবে। মধ্যবিরতীর সময় আমি ছেলেটার কাছে গেলাম আর আমার হাতের পানির বোতল থেকে তাকে পানি খেতে দিলাম। পেটে ঘুষি মারার জন্য ছেলেটা পেট ধরে বসে আছে। কনসার্ট শেষ হতে হতে প্রায় রাত সাড়ে নয়টা। আমি ছেলেটাকে সাথে করে গেটের বাহিরে এসে রাস্তা পার করে রিক্সায় তুলে দিলাম। ছেলেটা লালখান বাজারের ওদিকটায় চলে গেলো।

তারপ্রায় কিছুদিন পরে ছেলেটাকে আমি জিইসির মোড়ে মোহাম্মদীয়ার সামনে দেখতে পাই। আমরা দুজনই দুজনকে চিনতে পারি। জিইসির মোড় আড্ডা দেয়ার জন্য বিখ্যাত স্থান চট্টগ্রামের। এভাবে প্রায়ই বিকেলেই তার সাথে দেখা হতো। জানতে পারি ছেলেটা গীটার বাজাতো। সেই হিসেবে তার সাথে আমার সখ্য হয়ে যায়। সেই সূত্র ধরে দুইএকদিন ছেলেটা আমার বাসাতেও এসেছে, এটা অগাষ্ট মাসের ঘটনা। ওর কাছ থেকে আমি গানের জন্য গীটারের কর্ড লিখে নিতাম। জিইসির মোড়ে ওর সাথে আরো দুই একজন ছেলে আড্ডা দিতো। তাদের সাথেও কথা বলতাম কিন্তু ওদের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠেনি। কারণ আমি বুঝতাম ওরা এডিক্টেড।

অগাষ্ট মাসের ১৭ তারিখে সকাল ৯টার দিকে ছেলেটা আমার বাসায় আসে। তাকে খুব বিচলিত দেখি। সে আমার কাছে ১৫০০ টাকা ধার চায়। আমি তাকে পকেট থেকে পাচশ টাকার দুটি নোট দিয়ে বলি আমার কাছে তো আর নাই। সে নাছোড়বান্দা। তখন বলি ঠিক আছে তুমি আবার সন্ধ্যার সময় মিমি সুপার মার্কেটের সামনে এসো আমি আরো পাচশ টাকা জোগাড় করে দিবো।

কথামত সন্ধ্যাবেলা তাকে মিমি সুপার মার্কেটের সামনে পাই এবং তাকে পাঁচশ টাকা দেই, সে সময় সে একাই ছিল। তাকে খুবই বিদ্ধস্ত দেখি। সে আমার সাথে বাসায় আসে রাতে আমার বাসায় থাকবে বলে। রাত প্রায় বারোটার দিকে হঠাৎ করেই সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এবং যাওয়ার সময় সে বলে তার খুব বিপদ তবে সে চেষ্টা করবে টাকাটা ফেরত দিতে কিন্তু যদি না পরে তবে আমি যেন ঐ ১৫০০ টাকার দাবী ছেড়ে দেই। এই বলেই সে তীব্র গতিতে বের হয়ে যায়। এরপরে তাকে আর কোথাও দেখিনি। এভাবে কেটে যায় প্রায় আরো প্রায় দুই মাস। একদিন বিকেলে আমি জিইসির মোড়ে দাড়িয়ে আছি তখন সেই দুটি ছেলেকে দেখতে পাই (যারা ঐ ছেলেটির সাথে ওখানে আড্ডা দিতো)। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি তাদের বন্ধুর ব্যাপারে। তাদের কাছে জানতে পারি, সেই ছেলেটি একটা রোড এসকিডেন্টে জুলাই মাসের ৩০ তারিখে মারা গেছে। আমি কথাটা বিশ্বাস করি না।

একদিন আমি তার এলাকায় যাই এবং তার খোঁজ করি। ওরা যেখানে আড্ডা দিতো সেখানকার একটা চায়ের দোকানদারকে তার কথা জিজ্ঞাসা করি। দোকানদার আমাকে যা জানালো তা হলো সে জুলাই মাসের শেষ দিকে বাসের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে।

আমি খুবই আশ্চর্য হয়ে যাই। কারণ সে তো আমার কাছে অগাষ্টের ১৭ তারিখ সকাল বেলাতেও এসেছিল। কিন্তু তাহলে ১৭ তারিখ আমার কাছে কে এসেছিল? আর কে-ই বা আমার কাছে ১৫০০ টাকা ধার নিয়েছিল?

আমি আজও এর কোন উত্তর পাইনি। এটা একটা রহস্য হয়ে আছে আমার কাছে।

[পাঠক/পাঠিকার উপরে এই পোষ্টের বিষয়বস্তু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ব্যাপারে কোন চাপ নেই]
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১১ রাত ৮:০৬
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুপ থাকি আমি চুপ থাকি... হই না প্রতিবাদী

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৩



©কাজী ফাতেমা ছবি
--------------------------
অবাক চোখে দেখে গেলাম
এই দুনিয়ার রঙ্গ
ন্যায়ের প্রতীক মানুষগুলো
নীতি করে ভঙ্গ।

বুকের বামে ন্যায়ের তিলক
মনে পোষে অন্যায়
ভাসে মানুষ ভাসে শুধু
নিজ স্বার্থেরই বন্যায়।

কোথায় আছে ন্যায় আর নীতি
কোথায় শুদ্ধ মানুষ
উড়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর আবদুস সালাম [২৯ জানুয়ারি ১৯২৬ -২১ নভেম্বর ১৯৯৬]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৫


নিয়ম করে প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় নোবেল পুরষ্কার প্রদানের মহা উৎসব। সুইডেনের রাজার কাছ থেকে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোলায় ৪ জনের মৃত্যু, ৬ দফা দাবী নিয়ে ভাবুন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



ভোলায়, ফেইসবুকে নবী (স: )'কে গালি দেয়া হয়েছে; এই কাজ কি ফেইবুকের আইডির মালিক নিজে করেছে, নাকি হ্যাকার করেছে, সেটা আগামী ২/৪ দিনের মাঝে পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেইসবুকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চির যৌবন ধরিয়া রাখিবার রহস্য

লিখেছেন মা.হাসান, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৫২



সতর্কিকরণঃ এই পোস্টর শুরুতে ১০ লাইনের একটি পদ্য আছে (তবে ইহা কবিতা পোস্ট নহে) ।



কোন বৃক্ষের খাইলে রস
বিবি থাকেন চির বশ ।।
কোন গাছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাঙের বিয়ে [শিশুতোষ ছড়া]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৬


কোলা ব্যাঙের বিয়ে হবে
চলছে আয়োজন ।
শত শত ব্যাঙ ব্যাঙাচি
পেলো নিমন্ত্রণ ।।

ব্যাঙ বাবাজী খুব তো রাজী ,
বসলো বিয়ের পিড়িতে
ব্যাঙের ভাইটি হোঁচট খেলো,
নামতে গিয়ে সিড়িতে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×