somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষায় আছি!

১৬ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিচে যাচ্ছিলাম। হইচই শুনলাম। দোতলায়। তুমুল গণ্ডগোল হচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। ঘরের গণ্ডগোল বাইরের মানুষকে দেখাচ্ছে।
তারা কি তাদের অভ্যন্তরীণ প্রেম ভালোবাসাও মানুষকে দেখায়! প্রায়শই এমন হইচই শুনি।
দরজা খোলা। এগিয়ে গেলাম। তর্ক- বিতর্ক শেষে স্ত্রী খাটের তলে ঢুকে গেছেন। তাকে তার স্বামী টেনেও বের করতে পারছেন না।
স্ত্রী পণ করেছে। স্বামী 'সরি' না বলা পর্যন্ত বের হবেনা। স্বামী ব্যাচারাকে শায়েস্তা করতেই হবে।
কিন্তু দু' মিনিট পর খাটের নিচ থেকে "ও আল্লাগো, আমারে মাইরে ফেললো গো , আমারে বাঁচাও বলে কাঁদতে লাগলো।"
কি আজব স্বামী মেঝেতে দাঁড়িয়ে কিভাবে মেরে ফেলবে তাকে। আমরা দৌড়ে খাটের কাছে গেলাম।
খাটের নিচে নাকি শত শত তেলাপোকা। আহারে বোকা মহিলা!
স্বামীকে অনুশোচনায় ভোগাতে যেয়ে তেলাপোকার ভয়ে তার নিজের জীবনই যায় যায় অবস্থা।
তাকে বের করে আনলাম সবাই মিলে। আগে তেলাপোকা থেকে বাঁচুকতো।
মানুষ সবসময় জিততে চায় সবকিছুতেই। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না।

আমি মহামানব নই। অসাধারণতো নই। যাচ্ছিলাম বাসে গাবতলিতে।
সেদিন বসেছিলাম সংরক্ষিত মহিলা সিটে। এক মেয়ে উঠলো। উঠেই সে আমাকে কড়া ধমক দিলো- "কি ব্যাপার মহিলা সিটে কেন। উঠেন, উঠেন।"
বললাম- "আপু আমি এমনিতেই উঠতাম। রাগ করছেন কেন। ফাঁকা ছিলো তাই একটু বসছিলাম।"
আমি দাঁড়িয়ে আছি প্রায় আধাঘন্টা ব্যাপী। জ্যাম দেখে বাস হার্ড ব্রেক কষলো।
মেয়েটা আহ! বলে চিৎকার করে উঠলো। সে ঘুমাচ্ছিল বসে। সামনের সিটের সঙ্গে তার মাথা ধাক্কা লেগেছে জোরেসোরেই।
মেয়েটা কপাল চেপে ধরে প্রায় কেঁদে উঠলো।
আমি মনে মনে বলছি – প্রকৃতি খুব দুষ্টু। কখন কার উপর কিভাবে প্রতিশোধ নেয় বোঝা মুশকিল। কি খারাপ ব্যবহারই না সে আমার সাথে করেছিল ওঠার সময়।

এক দোকানে গেলাম সিগারেট কিনতে। দোকানটায় প্রায় আসি।
দাম দিতে যাবো এমন সময় দোকানী ক্ষেপে গেলো।
"টাকা খুচরা না করে সিগারেট নিলেন কেন? আগেই কইতেন আপনাকে সিগারেট দিতাম না।"
চরম আহত হলাম এমন আচরণে। এ কি ব্যবহার রে ভাই!
সে খুচরা করে দাম রাখলো বটে, কিন্তু বিরবির করে আমাকে তুলোধনা করলো।
কিছু বললাম না।
রাগতো আমারও আছে। চেপে গেলাম।
শুধু মনে মনে বললাম-
"তুই মূর্খ। তার সাথে রেগে প্রতিশোধ নিয়ে লাভ কি। এই দোকানে আর আসবোই না। লস কার হলো ? একটা কাস্টমার হারালি।"
এটাই সাইলেন্ট রিএকশান। সাইলেন্ট 'রিভেঞ্জ'।

জীবনে ধাপে ধাপে হররোজ অপমানিত হই, আমি আমরা অনেকেই। অনেক কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনি।
এসব ভাবতে ভাবতে খোলা মাঠে হাঁটছিলাম সন্ধ্যায়। একবার মনে হলো নাহ আর চুপ থাকবো না। মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করবো খারাপ লাগলে।
হঠাৎ পায়ের কাছে দেখি একটা ছোট্ট বট গাছের চারা। তার উপর পা দিতে যেয়ে থেমে গেলাম।
বসে পরলাম।
ভালো করে শিশু গাছটাকে দেখছি। এই গাছ একদিন বড় হবে। কত ঝড়ঝঞ্চা এর উপর দিয়ে যাবে।
কিন্তু যখন সে বিশালার বৃক্ষে পরিনত হবে তখন কিন্তু কেউ লাথি দিয়ে অপমান করে উপড়ে ফেলতে পারবেনা। তার নিচেই শত্রু মিত্র সবাই এসে ছায়া নেবে। আশ্রয় নেবে হাজার হাজার পাখি। তার উপর তখন অনেক কিছুই নির্ভরশীল হবে।
বড় কে হলো- আল্টিমেটলিতো সেই শিশু গাছটাই।
আমি অপেক্ষায় আছি সে বড় বটবৃক্ষ হবার। সব কিছু ভুলে যেয়ে। আসেন বৃক্ষ হই। বটবৃক্ষ।

সংগৃহীত।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিলেশনশিপ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৩

রিলেশনশিপ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

কোনো রমণীর সাথে রিলেশনশিপে
জড়াইনি বলে প্রতিদিন-ই শুনতে হয়
উপহাস, ঠাট্টা, বিদ্রূপ, পরিহাস, তাচ্ছিল্য
ও ব্যঙ্গ কতো কথা, খুব খারাপ লাগে
সারাদিন তা কানে খালি বাজে
পালাতে ইচ্ছে করে বিমর্ষ, লাজে!

বয়স হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×