somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মধুচাক ও মৌমাছির হুল

০৬ ই আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘মুখোমুখি বসি বন্ধু ও আমি
সুখ দুঃখ নারী ও যৌনতা প্রেম
ঘোর জীবন আর পলিটিক্স
এলোমেলো স্ফুরণ-বিচ্ছুরণ আর কথাদের আমোদ
রাগ অভিমানে একই বন্ধন- আয় মাখামাখি হই...’
.
বন্ধু ও ভালবাসা আমার কাছে একটি অসংজ্ঞায়িত শব্দ। কখনো এই শব্দ দুটোকে সংজ্ঞায়িত করতে পারি না। ছোটবেলা থেকেই আমি বন্ধুদের প্রতি ভিষণভাবে দুর্বল। আমি যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম, তখন ক্লাসের ক্যাপটেন ছিলাম। রুলস ও আদর্শের কাছে ছিলাম তখন থেকেই কঠোর। মুরাদ ছিল আমার ক্লাসের বন্ধু। স্কুলের শৃঙ্খলায়, ক্লাসের শৃঙ্খলায় ওর কিছু বিশৃঙ্খলা আমাকে ক্ষেপিয়েছিল। কিছু মন খারাপের পর্ব জন্মেছিল সে সময়ে। দীর্ঘ আট বছর চলেছে সেই রাগ আর অভিমানের পর্ব। ভাবতেই কেমন লাগে- একটু শৃঙ্খলাবদ্ধতার আর্শিক দ্বন্দে বন্ধুত্বের মাঝে এমন দূরত্ব জন্মাতে পারে! মুরাদের কথা মনে পড়লে আমার লিমন-জাহাঙ্গীরের কথা মনে পড়ে। ওদের রাগ-অভিমানের পর্বটাও দীর্ঘ দূরত্বের। লিমনের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে অভিমান হয়। কেটেও যায় এমনি এমনি। কিন্তু জাহাঙ্গীর? আমার আর ওর মধ্যকার আদর্শের যে দ্বন্দ, অহমিকার যে চাতুরতা তা ভালবাসাটুকুকে জাগিয়ে রেখেও দূরত্ব তৈরি করে প্রতিনিয়ত। ভিষণভাবে ওকে মেনে নিতে না পেলেও, ওকে ইগনোর করতেও পারিনা কখনো। যদিও বারবার ভুলে গ্যাছে- ও বন্ধুত্ব ও মানববাদই মানুষের মিলনকেন্দ্র।

আজকাল ভিষণভাবে অভিমান হয় কৌশিকের উপর। উচ্চ মানসিক বয়সের এই আমরা দুজন মানুষ আদর্শের জায়গাটুকুতে বেশ সবল। আমাদের সকাল কিংবা সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গরিয়ে রাত- স্মৃতির টিউবলাইট- এখন জোনাকির ক্ষিণ আলো। হয়তো দূরত্ব বেড়ে গ্যাছে হয়তো যায়নি। হয়তো ও ভুলে গ্যাছে অন্যদের ভিড়ে। আমাদের অভিমান আজ নিশ্চই বেওয়ারিশ। বেওয়ারিশ হয়ে থাকে কিছু স্মৃতি। নেয়ামুলের কথা বলি। ভিষণ নাড়া দিত ও। হৃদযের ভিতর এখনো চাগড়ে ওঠে- তুই আমার ভাই? অসংজ্ঞায়িত থেকে যায় সব কিছু। চিত্রপট পাল্টে যায়। নতুন চিত্রকল্প সৃষ্টি হয়। হয়তে ও-ও ভুলে গ্যাছে । এখন ভোলা মানুষের সংখ্যায় দিন বাড়ে। এটাই কিশ শাশ্বত নিয়ম? নতুনকে স্থান করে দিতে গেলে মুছে দিতে হয় অতীত স্মৃতি! তাই হবে হয়তো। এই ভেবে মেনে নেই না মানা সম্পর্কের দূরত্ব। ব্যক্তিভাবনায় বৃথা সুখ খুঁজি। ভুলে থাকার অবাঞ্চিত অভিনয় নিয়ে মেতে থাকি রাতভোর। ইয়াসির বা নেয়ামুলই কি- যারা ভুলতে জানে তারাই সুখি! শুধু শুধু হাহাকার করে ওঠে রিষিণ পরিমলের কবিতা-
.
‘ভাঙন ভাঙন ভাঙনের চণ্ডধ্বনি
প্রাণের প্রাণিত বোধের পর
ক্রুশ বিদ্ধ করে আহা! অন্ধ অহঙ্কারে।’
.
একা হাটি, একা চলি। সরোজ দেবের মতো ভাবি- আমিও আজ নিঃসঙ্গ কেবিনের শবযাত্রি। তবুও ভিতরটা চিৎকার করে- ওরা বন্ধু কিংবা ভাই, ফেলে দিতে পাবি? পারি না। একে একে ভাসে মুখ- মুরাদ, নেয়ামুল, কৌশিক, জাহিদ, অভ্র, মিসির, লিমন, জাহাঙ্গীর, মোশাররফ, ইয়াসির! স্মৃতি জমাট বাঁধে। বাস্তবতা নিয়ে সময় চলে। ঘড়ির কাটা বলে ওঠে- তুহিন ও লিয়ন : মামাদের কোনো গল্প নেই! সায়ানোড বাতির আলোয় অ্যাম্বুলেন্স সিগন্যাল ভাসে, ছায় মাখে ছবি- কৌশিক, নেয়ামুল, তুহিন। দূরে দাঁড়িয়ে থাকে সৈকত, খোরশেদ, নাজমুল বা আরো অন্য কেউ। আমি শুনি- কেনো বাড়লে বয়স ছোট্ট বেলার বন্ধুরা সব হারিয়ে যায়... উত্তরহীন পড়ে যাই-
.
‘ক্রমশ কমছে প্রান্তরে প্রাণের ঢেউ
ভাঙাচাকে একা আমি নিঃস্ব মধুমাছি...’
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×