somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বই নিয়ে একজন গুণি পাঠক ও লেখক এর মন্তব্য

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার পোস্টগুলো কেন যেন যারা ফ্রেন্ড নয়, তারাও দেখেন। তাই আমি এখনো জানিনা ছেলেটি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে, কী নেই। জানার সময় ছিলো না। আর এখন আমি জানার ইচ্ছেকে দমন করে লিখতে বসেছি। নিজের সততার কাছে স্বচ্ছ থাকার জন্য লেখাটি পোস্ট দেয়ার পর ওর প্রোফাইলে যাবো। যা হোক, আমি বইমেলায় যাব এবং আইডিয়া প্রকাশনায় যাব ঘোষণায় ছেলেটি ইনবক্সে দুই লাইনের একটি ম্যাসেজ দিলো।* আন্টি আমার বই আইছে। আইডিয়াতে আছে। নিবেন প্লিজ* এই রকম কাঙালিপনা এ বছর অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি সাহিত্যিক ইনবক্সে করছেন। মনে মনে আমি বিরক্ত হই। আর বেশিরভাগ সময়ই এগুলোর কোন উত্তর দেই না। এই ছেলেটির ম্যাসেজেরও আমি উত্তর দেইনি। কিন্তু কেন যেন ভীষণ মায়া হলো। আন্টি ডেকেছে বলেই হয়তো...। তাই ম্যাসেজটির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখলাম। অামি যে সব লেখকদের বই কিনবো ভেবে রেখেছি, তাদের ফেসবুক বিজ্ঞাপনের স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছি।
রংপুর আমার কিছু না। আবার অনেক বেশি কিছু। আমার দেশের একটা অংশ। রংপুর নারীমুক্তির রূপকারের, নারীর স্বপ্নদ্রষ্টার জন্মস্থান।রংপুরের উর্বর মাটিতে সোনার ছেলেদের জন্ম। সৈয়দ শামসুল হক। আনিসুল হক। আসাদুজ্জামান নূর। রংপুরে ২০০৩ থেকে ২০০৭ আমার সন্তানদের শিশুকাল কেটেছে। কেটেছে আমার সুখের সোনালি সময়। সেখানকার কিছু বন্ধু আছে, যাদের সাথে শুধু ভৌগলিক দূরত্ব ছাড়া আত্মার কোন দূরত্ব বাড়েনি। এই ছেলেটির বাড়িও রংপুর। বইটি কেনার পর জানলাম। আর বইটি গতকাল হাতে নিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, লেখা যদি অখাদ্য টাইপ হয়, তবে এই ফেসবুকেই এমনই আনক্লিন ব্যামবো দেবো। যা দেখে অন্য লেখকরা যেন আর আমাকে ইনবক্সে জ্বালাতন না করে। তাই আজ প্রথমেই ছেলেটির বইটি পড়তে নিলাম। মনে রাখতে পারি বা না পারি, আমার অভ্যাস ফ্লাপ থেকে শুরু করে মুদ্রণ, কিছু কথা (যদি থাকে) উৎসর্গ... সব পড়ি। বইটির নামে খটকা লাগলো। কেকড়ি-মেকড়ি করে লেখা "অ্যাকোয়ারিয়ামে মহীরুহ প্রাণ" অ্যাকোয়ারিয়ামে বানানটি হয় বেশি নির্ভুল, অথবা ভুল। আর এই উচ্চারণ ও আমাদের সহজ বা কথ্যভাষা নয়। কিন্তু ফাস্ট ফ্লাপেই মনটা তরল হয়ে গেলো। অসাধারন পাঁচটি লাইন। এগুতে শুরু কারলাম, উৎসর্গ করা হয়েছে দুইজন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা *মীর আনিসুল হক পেয়ার ও ফেরদৌসী রহমান বিউটি কে। * পরের পৃষ্ঠায় কবি সরজ দেব এর কয়েকটি পঙক্তি।
*মানুষ! মানুষ!আর্তনাদে কেঁদে ওঠে ব-দ্বীপের বিক্ষত হৃদয়, অকস্মাৎ কেঁপে ওঠে ক্রশবিদ্ধ ভুবন। এদেশে মিছিল আছে দু'পেয়ে প্রাণীদের। এদেশে মানুষ কই, পাবলো নেরুদা?* আহ্... কী অসাধারন লেখনি দাদা। কবি সরোজ দেব আমারও শ্রদ্ধেয়জন। আর মহীরুহ বইটির লেখক কবি, মীর রবির প্রতি ভালোবাসা বাড়তে শুরু করলো। কাগজের ভাঁজে ভাঁজে বাচ্চা বয়সের এই কবির শ্রদ্ধা বোধ আর সচেতনতা দেখে। পৃষ্ঠা উল্টে পড়লাম বইটির প্রথম কবিতা "শারদ" তারপর শ্মশান! অস্থিরতা বোধ হতে লাগলো আমার। আমি জানি না এটা কি আমার ভুল মুগ্ধতা?? নাকি আমার এই লেখা যারা পড়বেন, তারাও আমার মত মুগ্ধ হবেন...! বিশেষত এইটা জানার জন্যই আমি রবির কয়েকটি কবিতাসহ এখন এই লেখাটি লিখতে বসে গেলাম। আর অস্থির হয়ে গেলাম আরো ভেতরের সারবস্তু কেমন সেটা দেখতে। ডিফারেন্স কবিতা আমাকে স্তম্ভিত করলো... ছেলের সাহস কত!! ৯৮ সালে জন্ম নেয়া পুঁচকে একটা ছেলে, বলে কিনা " শয়তান সত্য হলে গাধা আর ঈশ্বরের কোনো পার্থক্য থাকে না! " আসলে ছেলেটা তো কোন সাধারন ছেলে নয়। যদিও সে আমার ছেলের চেয়েও দুবছরের ছোট। কিন্তু সে তো মীর রবি! সূর্যের মত দীপ্ত উজ্জ্বল তেজি। সে তো কবি। আর কবিদের তো কাপুরুষ হলে চলে না..! তাই কবিরা অকপট লিখতে পারেন সমকামীতার কথা। লিখতে পারেন ক্ষোভে কিম্বা ব্যাঙ্গাত্মকভাবে, স্তন ঢেকে রাখুন। রবির যে কয়টি কবিতা চোখে পড়লো, সবই প্রায় দুঃসাহসিক। যেমন "একজন ঈশ্বর বিক্রেতা" আমার ধারণা ওঁর প্রতিটি কবিতাই অসাধারন। এবং বাজিমাতের জন্য ওঁর এই একটি বই-ই যথেষ্ট। এই কবির পরিচর্যার প্রয়োজন। নিরপেক্ষ বিচারে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কবিদের সম্মাননা দেয়, সে যায়গাগুলোয় রবিকে আপনারা নিয়ে যান। আমার বিশ্বাস উনি লড়াই করতে পারবেন। ওঁর বই কিনুন। পড়ুন। বিচার করুন। অনেক অনেক কবির থেকে রবি অনেক বেশি ভালো লিখে। আমার থেকে তো বটেই। কিন্তু আমি যে তোর জন্য কিছুই করতে পারবো না রে বাপ। আমার নিজেরই এতো উদাসীনতা... এই কলম ছাড়া আমার কোন ক্ষমতা নেই। এটাই আমার একমাত্র অস্ত্র। তবে আমি এ ও জানি, এই অস্ত্র বড় জাগরূক ও। যদি তার সঠিক ব্যবহার জানা থাকে। আপনি পারবেন রবি। আপনি এভাবেই এগুতে থাকুন। জয় একদিন অাসবেই।
আমি মাত্র কয়েকটি কবিতার ছবি তুলে পোস্টটির সাথে দিলাম। আপনারা পড়ুন। না পড়লে, বা জানলে ভালো কবি বের হয়ে আসবে কী করে? হিংসে না করে আসুন আমরা মেধার মূল্যায়ন করি। আমার থেকেও কেউ ভালো লিখে, এই বোধ থেকে ভালো লেখার কবিদের স্বতঃপ্রাণদিত হয়ে তুলে ধরি। জায়গা করে দেই। আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা কবি। তবে এতো মুগ্ধতার মাঝে যে খটকা আমার থেকে গেলো তা হলো, আপনার অনেক কবিতার শিরনাম ইংরেজিতে। কবিতার ব্যাপ্তিতে ভাষা কখনো প্রতিবন্ধক হওয়া উচিত নয় জেনেও মাতৃভাষার প্রতি অন্ধত্ব নিয়ে মনে হয়েছে, বইটির নাম কবিতার শিরনাম সব বাংলা হলেই শতভাগ ভালো হতো। পরিশেষে বলবো কবি, এতো কম বয়সে আপনার লেখায় এতো দক্ষতায় আমি মুগ্ধ হয়ে সম্মান স্বরূপ তোমাকে আপনি করে বলেছি। আপনি করেই বলতে চাই। আমি আবারও বলবো, মীর রবি আমার কেউ না। কিন্তু সে দেশের মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। মাভৈ।
.
চন্দ্রশিলা ছন্দা

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৫৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বরাজনীতি চলে স্বার্থের হিসেবে, আমরা চলি অন্ধ আবেগে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২২


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হলো বিশ্লেষণ। চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম নিয়ে যতই হাহাকার থাকুক, ভূরাজনীতি নিয়ে জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। চায়ের দোকানে বসে যিনি নিজের বাসার গ্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×