ন্যায় আর অন্যায়ের ব্যাপারটা আপেক্ষিক। একই কাজ কারও কাছে ন্যায় আবার কারও কাছে অন্যায়। এমন বহু ব্যাপারই আছে যা আমাদের সমাজে ন্যায় আবার অন্য সামাজে সেটাই অন্যায়। তবু কিছু বিষয়ে মনেহয় বিশ্ববাসী একহতে পেরেছে, যেমন- হত্যাকে পৃথিবীর সর্বত্রই অন্যায় মনে কারা হয়।
শুধু রাষ্ট্র বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিতেপারে। যদিও রাষ্ট্রের এই ক্ষমতার সাথেও পৃথিবীরসব মানুষ একমত নয়। তার মানে আমাদের কাছে ন্যায় অন্যায়ের স্যুপারিওর এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে পৃথিবীর সকল মর্তকুল একমত হতে পারে।
তার মানে ন্যায় অন্যায়টা ইউনিক নয়।
তাহলে এর মাপকাঠি কি হবে? আইএস দুইটা দেশের বিশাল অংশ দখল করে নিজেরা একটা রাষ্ট্র ঘোষণা করে দিল। সেখানে তাদের তৈরি আইন অনুযায়ী অন্য ধর্মানুসারী দের হত্যা করছে। তাদের মতে এটি অন্যায় নয় !
কিন্তু আমাদের মতে চরম অন্যায়।
আমাদের দেশে যারা ব্লগারদের হত্যা করছে তাদের সাথে এসব ব্লগারের বিরোধ টা মতের। টাকা পয়সার নয়। এদের কাউকে অর্থের জন্য হত্যা করা হয়নি। যারা হত্যা করছে তারা মনে করছে এদের হত্যা করা উচিত এবং অন্যায় নয়। অন্যায় মনে করলে তো হত্যাই করা হতনা।
আমারা যারা এ সমাজে বাস করছি তারা আবার মনে করছি যারা হত্যা করেছে তারা অন্যায় করেছে। আইন অনুযায়ী তাদের শাস্থিও মৃত্যুদণ্ড অর্থাৎ হত্যা।
তারমানে হত্যাকারীরা ন্যায় মনে করে বিরোধী মতের ব্লগার ও লেখকদের কে হত্যা করছে। আবার আমরা ন্যায় মনে করে হত্যাকারিদের হত্যা করছি অর্থাৎ আমরাও হত্যাকারী !!
তাহলে কি দাঁড়াল ব্যাপারটি !
ন্যায় অন্যায়ের সর্বজনীন কোন ব্যাখ্যা নেই।
আমার মতে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস হল- ইউনিটি অব “ল”
আমরা আজও ন্যায় অন্যায় গুলোকে আলাদা করতে পারিনি। বিভিন্ন মতবাদ তৈরি করে সাধারন মানুষের মাথার দখল নিতে চাচ্ছি। যে যত বেশি মাথা দখলে নিতে পারছে তার আইন তত মজবুত।
তাহলে সমস্যাটা আমাদের মাথায় আমরা যারা মাথাগুলো বিভিন্ন মতালম্বিদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। আপনার ধড়ের উপর যে মাথা সেটি যে একান্তই আপনার তা নিশ্চিত করুন। কারও কাছে বিক্রি না করে নিজের বিবেক খাটান, মনেরাখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালত আপনার বিবেক।
কালকের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল- নিহত ফয়সালের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে হত্যার প্রতিক্রিয়া। ক্ষুব্ধ, হতাশ এই বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যাঁরা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, উভয় পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।
এই লোকটিই আমার মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটালেন। যথেষ্ট হয়েছে। এবার বন্ধ করুন। আপনার মতবাদ আপনার পকেটে রাখুন, সকাল বিকাল স্যালাইন বানায়া খান। অন্যকে খাওয়াতে যাবেননা প্লিজ।
অন্যের লেখা পছন্দ নাহলে পড়বেননা।
অন্যের বিশ্বাস পছন্দ নাহলে মানবেননা।
তাকে হত্যা করবেননা প্লিজ
তার হত্যার বিচার চেয়ে আপনাকে হত্যা করে (মৃত্যুদণ্ড) আমাকে হত্যাকারি বানাবেন না।
যুক্তির বিপরীতে যুক্তি দিন ।
যুক্তিকে চাপতি দিয়ে খণ্ডান যায়না। যুক্তিকে চাপাতি দিয়ে কোপালে খুনই ছড়াবে।
সবশেষে বলবো- ইউনিটি অব ‘ল’ তে আসুন। যে সমাজে আছেন সে সমাজের আইন কে শ্রদ্ধা করুন। নিজের মাথা নিজের হেফাজতে রাখুন। হেফাজতে ইসলাম অথবা দূর’হ ইসলামের কাছে বিক্রি করে দিবেন না।
উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



