somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্তির বিপরীতে অস্র

০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ন্যায় আর অন্যায়ের ব্যাপারটা আপেক্ষিক। একই কাজ কারও কাছে ন্যায় আবার কারও কাছে অন্যায়। এমন বহু ব্যাপারই আছে যা আমাদের সমাজে ন্যায় আবার অন্য সামাজে সেটাই অন্যায়। তবু কিছু বিষয়ে মনেহয় বিশ্ববাসী একহতে পেরেছে, যেমন- হত্যাকে পৃথিবীর সর্বত্রই অন্যায় মনে কারা হয়।
শুধু রাষ্ট্র বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিতেপারে। যদিও রাষ্ট্রের এই ক্ষমতার সাথেও পৃথিবীরসব মানুষ একমত নয়। তার মানে আমাদের কাছে ন্যায় অন্যায়ের স্যুপারিওর এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে পৃথিবীর সকল মর্তকুল একমত হতে পারে।

তার মানে ন্যায় অন্যায়টা ইউনিক নয়।

তাহলে এর মাপকাঠি কি হবে? আইএস দুইটা দেশের বিশাল অংশ দখল করে নিজেরা একটা রাষ্ট্র ঘোষণা করে দিল। সেখানে তাদের তৈরি আইন অনুযায়ী অন্য ধর্মানুসারী দের হত্যা করছে। তাদের মতে এটি অন্যায় নয় !
কিন্তু আমাদের মতে চরম অন্যায়।

আমাদের দেশে যারা ব্লগারদের হত্যা করছে তাদের সাথে এসব ব্লগারের বিরোধ টা মতের। টাকা পয়সার নয়। এদের কাউকে অর্থের জন্য হত্যা করা হয়নি। যারা হত্যা করছে তারা মনে করছে এদের হত্যা করা উচিত এবং অন্যায় নয়। অন্যায় মনে করলে তো হত্যাই করা হতনা।
আমারা যারা এ সমাজে বাস করছি তারা আবার মনে করছি যারা হত্যা করেছে তারা অন্যায় করেছে। আইন অনুযায়ী তাদের শাস্থিও মৃত্যুদণ্ড অর্থাৎ হত্যা।
তারমানে হত্যাকারীরা ন্যায় মনে করে বিরোধী মতের ব্লগার ও লেখকদের কে হত্যা করছে। আবার আমরা ন্যায় মনে করে হত্যাকারিদের হত্যা করছি অর্থাৎ আমরাও হত্যাকারী !!

তাহলে কি দাঁড়াল ব্যাপারটি !
ন্যায় অন্যায়ের সর্বজনীন কোন ব্যাখ্যা নেই।
আমার মতে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস হল- ইউনিটি অব “ল”

আমরা আজও ন্যায় অন্যায় গুলোকে আলাদা করতে পারিনি। বিভিন্ন মতবাদ তৈরি করে সাধারন মানুষের মাথার দখল নিতে চাচ্ছি। যে যত বেশি মাথা দখলে নিতে পারছে তার আইন তত মজবুত।

তাহলে সমস্যাটা আমাদের মাথায় আমরা যারা মাথাগুলো বিভিন্ন মতালম্বিদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। আপনার ধড়ের উপর যে মাথা সেটি যে একান্তই আপনার তা নিশ্চিত করুন। কারও কাছে বিক্রি না করে নিজের বিবেক খাটান, মনেরাখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালত আপনার বিবেক।
কালকের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল- নিহত ফয়সালের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে হত্যার প্রতিক্রিয়া। ক্ষুব্ধ, হতাশ এই বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যাঁরা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, উভয় পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।

এই লোকটিই আমার মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটালেন। যথেষ্ট হয়েছে। এবার বন্ধ করুন। আপনার মতবাদ আপনার পকেটে রাখুন, সকাল বিকাল স্যালাইন বানায়া খান। অন্যকে খাওয়াতে যাবেননা প্লিজ।
অন্যের লেখা পছন্দ নাহলে পড়বেননা।
অন্যের বিশ্বাস পছন্দ নাহলে মানবেননা।
তাকে হত্যা করবেননা প্লিজ
তার হত্যার বিচার চেয়ে আপনাকে হত্যা করে (মৃত্যুদণ্ড) আমাকে হত্যাকারি বানাবেন না।
যুক্তির বিপরীতে যুক্তি দিন ।
যুক্তিকে চাপতি দিয়ে খণ্ডান যায়না। যুক্তিকে চাপাতি দিয়ে কোপালে খুনই ছড়াবে।

সবশেষে বলবো- ইউনিটি অব ‘ল’ তে আসুন। যে সমাজে আছেন সে সমাজের আইন কে শ্রদ্ধা করুন। নিজের মাথা নিজের হেফাজতে রাখুন। হেফাজতে ইসলাম অথবা দূর’হ ইসলামের কাছে বিক্রি করে দিবেন না।

উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:২৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×