জি. ই. ম্যূর জ্ঞানতত্ত নিয়ে আলোচনার করার ক্ষেত্রে তিনি জ্ঞানের চার টি দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১। ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষন ।
২। স্মৃতি।
৩। সাক্ষ্য প্রমান।
৪। অনুমান।
তিনি যেভাবে বর্ননা করেছেন জ্ঞান সর্ম্পকে।
প্রথমে তিনি ইন্দ্রিয় জ্ঞান সর্ম্পকে আলোচনা করেন।
১। ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনঃ জ্ঞানের সর্বাপেক্ষা মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম হিসাবে ম্যূর ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে জানা বা ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনের মাধ্যমে জানা হল জ্ঞানের সর্বপেক্ষা প্রচীনতম মাধ্যম।
ম্যূর তার বিখ্যাত গ্রন্থ some Main Problem of philosophy. তে এ সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনলদ্ধ জ্ঞান মানে হচ্ছে যে জ্ঞান আমরা আমাদের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় সমূহ ব্যবহার করে পেয়ে থাকে যেমনঃ চোখ দিয়ে দেখি, কান দিয়ে শুনি, হাত দিয়ে স্পর্শ করি। তা হল ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনলব্দ জ্ঞান। জানার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনের সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
২। স্মৃতিঃ আমরা সবাই স্মৃতির মাধ্যমেই বহু জড় বস্তুর অতীত অস্তিত্ব সর্ম্পকে জানি। ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষনের মাধ্যমে আমরা যে জ্ঞান পাই তা কোন বস্তু বা ঘটনার প্রত্যক্ষ উপলদ্ধির সাথে যুক্ত। কিন্তু অনেক সময় আমরা এমন সব জিনিসের জ্ঞান পাই যা আমরা অতীতে প্রত্যক্ষ করেছিলাম । অতীতের প্রত্যক্ষিত বিষয়ের জ্ঞান আমরা একটি আত্মিক উপলদ্ধির মাধ্যমে জানতে পারি । আমাদের অতূত ঘটে যাওয়া ঘটনা বা আবেগ অস্তিত্বশীল বস্তু ইত্যাদিকে আমরা স্মরন করে থাকি। এভাবে কোন বস্তু বা বিষয় কে জানাই হল স্মৃতির মাধ্যমে জানা। আগুন হাত পোড়ায় এ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কেউ আর আগুনে হাত দেই না। এ ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান স্মৃতিলদ্ধ।
৩। সাক্ষ্য প্রমানঃ আমরা যেসব বস্তুর অস্তিত্ব সর্ম্পকে জানি যেগুলোকে আমরা নিজেরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে কখনও প্রতক্ষ্য করিনি । এক্ষেত্রে সে গুলোর জানার ভিত্তির মূলে রয়েছে অন্য লেকের সাক্ষ্য প্রমান যারা তাদের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে এগুলোকে প্রত্যক্ষ করেছেন।
উদাহরন স্বরূপ দিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে আমরা না দেথলেও বা আমাদের সে সর্ম্পকে কোন স্মৃতি না থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সর্ম্পকে আমরা কিছু না কিছু জানি এভাবেই জানার প্রক্রিয়াই হচ্ছে সাক্ষ্যের মাধ্যমে জানা। ম্যূর অবশ্য এটিকে নিজের যোগ্য মাধ্যমে হিসেবে সাক্ষ্য প্রমানেকে অস্বীকার করা যায় না।
৪। অনুমানঃ জ্ঞানের মাধ্যমে হিসেবে অনুমানের কথাও ম্যূর স্বীকার করেছেন। কোন জ্ঞাত বিষয়ের ভিক্তিতে অজ্ঞাত বিষয়ের ধারনা উপার্জনের একটি মানসিক প্রক্রিয়া হচ্ছে অনুমান। অনেক সময় আমরা এমন কিছু জিনিসের অস্তিত্ব সর্ম্পকে জানি যা আমরা কেউই ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করিনা।এক্ষেত্রে আমরা অনুমানের মাধ্যমে কিছু জিনিসের অস্তিত্ব জানব । যেমনঃ আমরা যখন বলি যা আমরা ঘরটি দেখেছে তখন আমরা ঘরটির সব অংশ অর্থাৎ পিছনের অংশ দেখিনি কিন্তু তার পরেও আমরা ধরে নিই যে আমরা ঘরটির সব অংশকে দেখেছি।সুতরাং এক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান অনুমান লদ্ধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


