দুপুরে লঞ্চডুবির দুঃসংবাদটা পাওয়ার পর থেকেই একটা শঙ্কা কাজ করছে, কখন যেন শুনতে হয় কোন আত্মীয়, বন্ধু, বন্ধুর স্বজন কিংবা পরিচিত জনের মৃত্যু সংবাদ! নদী পেরোলেই রাজবাড়ী। আর রাজবাড়ী থেকে ফেরী পারাপার গাড়ি খুবই কম। বেশীরভাগ মানুষ লঞ্চ পারাপারের গাড়িতেই আসে-যায়। তাই এই মৃত্যুর ধাক্কাটা রাজবাড়ীতেই বেশী লাগার কথা। লেগেছেও তাই। এখনও পর্যন্ত্ব বন্ধু বা নিকট স্বজনের মৃত্যু সংবাদ না পেলেও পরিচিতজন কিংবা পড়শীর স্বজনের মৃত্যু তালিকা ক্রমাগত লম্বা হচ্ছে। কেউ কেউ পুরো পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন, অনেক শিক্ষক নিয়ে ফিরছিলেন এস, এস, সি পরীক্ষার খাতা। তারা অনেকেই আর কোনদিন ফিরবেন না। হারিয়ে যাবেন পদ্মার জলে। কেউ কেউ ফিরবেন লাশ হয়ে।হারিয়ে যাবে এস,এস,সি পরীক্ষার খাতাও!
এই রুটের লঞ্চগুলো খুবই ছোট। শ'খানেক যাত্রীবাহী লঞ্চে যাত্রী বহন করে দু'শ-আড়াইশ জন পর্যন্ত! ঘাটে পুলিশ থাকে কিন্তু এসব দেখার কেউ থাকে না। সাধারণ যাত্রীরা প্রতিবাদ করতে পারেন না। ঘাটের মানুষ (!) কেমন হয় তা অনেকেই জানেন। বাস্টার্ড চাইল্ড!এটা দূর্ঘটনা নয়, হত্যা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর একই অবস্থা চলছে। পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পোড়ানোর দায় না হয় বিএনপি-জামায়াতের। এই হত্যার দায় কার? কী উত্তর দেবেন নির্লজ্জ হারামজাদা নৌ-মন্ত্রী?
২০ হাজার টাকায় কী শোক মুছে যাবে স্বজনের? যে মা পরীক্ষার খাতা নিতে এসেছিলেন, মায়ের অভাব ঘুচবে কি বাড়িতে রেখে আসা তার ছোট্ট শিশুর?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



