বহুদিন পর আমি ফিরে গেছি সেই চেনা জনপদে, বেখেয়াল কিশোরের ছিদ্র পকেটের আধুলির মতো একদিন যেখান থেকে গড়িয়ে পড়েছিলাম অবহেলায়। গড়তে, গড়তে....গত হলো কত পথ! বহুদিন পর আমি ফিরে গেছি বোতামখোলা খোলা, ঘাসের জামা পরা সেই পথে। বহুদিন পর আমি ফিরে গেছি সেই উত্তরের মাঠে, চেনা বিলের শরীরের গন্ধে আপ্লুত হয়েছি ভীষণ! বহুদিন পর আমি পা ছুঁইয়েছি বন্ধুর বাড়িয়ে দেওয়া ফুটবলে!
পানাপুকুরের পাড়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা। মাথার মাঝখানে টাক, বাকি চুলগুলো সাদা, মুখেও কদম ফুলের মতো খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি-গোঁফ। বয়সের ভারে ঈষৎ শীর্ণ বাঁকা শরীর।
আমি বলি, ‘কেমন আছেন?’
‘শরীররটা ভাল না। তুই কেমন আছিস?’
‘ভাল।’
আমাকে আপাদমস্তক দেখতে থাকেন আমার আত্মীয়। তারপর বলেন, ‘আবার আসার সময় আমার জন্যে এইরম এট্টা সাদা জামা আর এট্টা কালা প্যান নিয়ে আসিস।’
আমি ঘাড় নেড়ে বিনয়ের সাথে বলি, ‘আনবো...!’
স্বপ্নটা ভেঙে যেতেই আমি চোখ মেলে তাকাই। কোথায় সেই পথ! কোথায় উত্তরের মাঠ, বিল আর কোথায়ই বা বন্ধুর বাড়িয়ে দেওয়া ফুটবল! আমি শুয়ে আছি প্রতিদিনের একঘেয়ে বিছানায়; একা! হঠাৎ স্বপ্নে দেখা আমার আত্মীয়ের মুখ মনে প’ড়ে যায়। বহুদিন আগেই তিনি পৃথিবী থেকে নিয়েছেন বিদায়।
সাদা জামা, কালো প্যান্ট! এই উপহার আমি পৌঁছে দেব কোথায়!
ঢাকা।
২১.০২.১৪
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



