
জয়ন্ত ফেরিওয়ালার হাতুরির ঘায়ে তোবড়ানো ভাঙারি সিলভারের গামলার মতো আধখানা চাঁদ আকাশে, নির্জন রাতে তারক বৈরাগীর হাতের খঞ্জনির মতো আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে একনাগাড়ে ডাকতে থাকে ঝিঁঝিপোকা, উঁচু কোনো গাছের অন্ধকারাচ্ছন্ন ডালে বসা কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর শোনা যায়। গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে নগ্ন পায়ে দৌড়তে থাকে পরিমল, অমল আর বিলাস। তিনজনের পরনেই কাছা মারা লাল ধুতি, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। পথ চলতে চলতে ওরা কখনও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে, কখনো পুরোনো কবর, পোড়ো ভিটে, হ্যাজাকবাতি দেখে, কিংবা কোনো গন্ধ বাতাসে ভেসে ঘ্রাণান্দ্রিয়ে আসায় ওদের একেকজনের স্মৃতিতে চাগাড় দিয়ে ওঠে বিভিন্ন ঘটনা। আর স্মৃতির ঘোড়ায় চড়ে ফিরে আসে মহি মৌয়াল, বিনোদ চক্রবর্তী, তেজরাজ রুংটা, দেবী বৈষ্ণবী, তারাপদ দাস এবং আরও কেউ কেউ। তবে ওরা তিনজনই স্মৃতিযাপন করে আশালতার সঙ্গে, তিনজনের কাছে ভিন্ন ভিন্নরূপে ফিরে আসে আশালতা।
মাঠ ভেঙে, ধুলোমাখা পথ ভেঙে, অন্ধকার ফুঁড়ে ওরা কখনও দৌড়ে কখনও হেঁটে সামনে এগোয়। কোথায় যায়?
বাংলাদেশের ফরিদপুর-রাজবাড়ী অঞ্চলের এক লোকসংস্কৃতিকে উপজীব্য করে লেখা এই আখ্যান।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


