somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুর ওপারে -২

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমার জীবনে অনেক কিছু ঘটে গেছে।
দুই দিন এর মত আমি অচেতন ছিলাম । আসলে আমি অচেতন ছিলাম না।

আমি দেখছিলাম ডাঃ রা আমাকে আই সি ইউ তে নিয়ে বুকে সক দিচ্ছিল। আমাকে বাচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করছিল। আমি আমার নিজের নিথর দেহ টা কে দেখলাম। কত নিস্পাপ মনে হচ্ছিল।আমার নিজের তখন মনে হতে লাগল আমি বোধ হয় মারা গেছি। এও মনে হলনা যে স্বপ্ন দেখছি। অনেক সময় স্বপ্ন দেখলে মনে হয় স্বপ্ন দেখছি কিন্তু আমার তেমন কিছু ই মনে হল না।

আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম তার কথা গুলো।
তিনি বলতে লাগল আমার মধ্যে তখন খারাপ লাগার অনুভুতিগুলো ছিল না। শুধু একটু আশ্চর্য লাগছিল। কিন্তু তাও সাময়িক সময়ের জন্য। পরে ভাবতে লাগলাম যে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।মনে হচ্ছিল যা ঘটছে এটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেকে ওজনহীন অনুভব করলাম। দেখতে লাগলাম আমি শূন্যে ভাসছি ।নিচে খেয়াল করলাম আমার ভাই ডাঃ এর সাথে কথা বলছে।স্পষ্ট শুনলাম লাইফ সাপোর্ট রাখবে কি রাখবে না তা নিয়ে কথা বলছিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাই তো আপনি তাদের সাথে কথা বলতে চান নি?
জাফর ভাই বলল, না। আমি বললাম না। মনে হচ্ছিল সব স্বাভাবিক ভাবে চলছে। আমার নিজের উপর নিয়ন্ত্রন ও আধো আধো। যতটুক মনে আছে আমি বোধহয় নিজেকে নিয়ন্ত্রনও করতে চাই নি। ভাবছিলাম যা হচ্ছিল সব স্বাভাবিক ভাবে হচ্ছে।
আমি তার কথা শুনছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম তার মনে হয় মাথাটা আসলেই পুরা গেছে।

সে বলল। আমি বুঝতে পারছি তুমি মনে হয় আমার কথা বিশ্বাস করছ না। যাই হোক বিশ্বাস করা না করা তোমার ব্যাপার। তবে একটা সত্যি কথা কি জানো? ওর পর থেকে এখন আর আমার মধ্যে কোন মৃত্যু ভয় নেই।

আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন?
তিনি বললেন আমি তখন যে শান্তি পেয়েছি তুমি কল্পনাও করতে। ওই শান্তির সাথে জাগতিক কোন শান্তির তুলনা হয় না। এই জন্যই তো বললাম আমি ফিরে না আসলেই ভাল ছিলাম। যাই হোক তার পর দেখতে লাগলাম একটা টানেল এর মত কিছু একটা। আমি রোবটের মত ওদিকে ভেসে যেতে লাগলাম। আমি যে ভেসে ভেসে যাচ্ছিলাম সে অনুভূতিটা এখন ও আমার স্পষ্ট মনে আছে।
আমি মনে মনে হাসছিলাম আর জিজ্ঞেস করলাম তারপর?
তিনি বললেন, তার পর অনুভূতিটা ছিল এমন যেন আমি অনেক দ্রুত গতিতে ভেসে যাচ্ছি। দূর থেকে দুরান্তরে সেই টানেল টার মধ্য দিয়ে। অন্ধকার টানেল। গাঢ় সেই অন্ধকার। কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছিলাম না শুধু অনুভূতিটা হচ্ছিল এমন যে অনেক দ্রুত ভেসে যাচ্ছি। হঠাত দেখতে পেলাম একটুকরো আলো। অনেক উজ্জ্বল সে আলো।ধীরে ধীরে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছিল ।এত উজ্জ্বল যে মনে হল চোখ ঝলসে যাবে। কিন্তু না আমার কাছে আরও ভাল লাগছিল আলোটাকে। ধিরে ধিরে আলোটা আমার কাছে চলে আসল। আসলে বুঝতে পারছিলাম না আমি আলোর কাছে গেলাম না আলো টা আমার কাছে আসল।
পরে খেয়াল করলাম এটা মানুষের আকৃতি ধারন করছে। সব কেমন জাদুর মত ঘঠছিল।কিন্তু আমি আশ্চর্য হলাম না। ওই যে বলেছিলাম না সবকিছু ই স্বাভাবিক মনে হতে লাগল। দেখলাম ঘন মেঘ না কি জানো এমন একটা যায়গায় চলে এসেছি আমি। এ যেন এক নতুন শহর। স্পষ্ট শুনতে পেলাম আলোর মত ওই প্রাণীটি আমাকে বলল স্বাগতম। সাথে সাথে হাজার হাজার অমন প্রানি দেখতে পেলাম এক সাথে আমাকে সাগতম জানাচ্ছে।
আমি ও ধন্যবাদ জানালাম। চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম অপূর্ব সৌন্দর্য। অপার্থিব সেই সৌন্দর্য। আমি ভাসতে লাগলাম। আমার পৃথিবীর কথা আমার আপনজনদের কারও কথা তখন মনে পরছিল না।ওখানে আরও অনেক কিছু দেখলাম কিন্তু সব মনে নেই। হঠাত শূনতে পেলাম কে যেন আমাকে বলছে তোমাকে যেতে হবে। আমি লক্ষ করলাম আমি পরে যাচ্ছি। অনেক উপর থেকে পরলে যেমন অনুভুতি হয় তেমন অনুভুতি হচ্ছিল।
তার পর আর কিছু মনে নেই। পরে তাকিয়ে দেখি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।
আমি বললাম আপনি নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেছেন।
ভাই বলল, হুম আমি ও সেটা ভেবেছিলাম কিন্তু সবকিছু খুব ই বাস্তব মনে হচ্ছিল।
আমি বললাম থাক ভাই এ বেপার নিয়ে চিন্তা করার কোন দরকার নেই। এখন সুস্থ আছেন আল্লাহর কাছে সুকরিয়া করেন।

পরে দুপুরে খেয়ে দেয়ে আমি জাফর ভাইর বাসা থেকে বের হলাম। তার কথা গুলো মোটেও আমলে নিলাম না।
পথে দেখা হল জাফর ভাইয়ের ছোট ভাইর সাথে। আমি রিক্সা বিদায় দিয়ে তার সাথে একটা চায়ের দোকানে ঢুকলাম। গল্প শুরু করলাম চা খেতে খেতে। বললাম তোমাদের বাসা থেকেই এমাত্র আসলাম ।জাফর ভাইর সাথে গল্প করলাম এতক্ষন।

সে বলল, তোমাকেও নিশ্চয়ই শুনিয়েছে তার লোমহর্ষক কাহিনী?
আমি বললাম ,হুম।
ও বলল , আর বল না যাকে পায় তাকেই শুনায়। মনে হয় সাইকোলজিকাল কোন প্রবলেম হইছে অপারেশন এর পর।

আমি বললাম, আচ্ছা ফরিদ তুমি ওদিন হাসপাতালে ডাঃ এর সাথে লাইফ সাপোর্ট নিয়ে কি কোন কথা বলেছিলে?

ফরিদ বলল ,হ্যা। ডাঃ তো লাইফ সাপোর্ট সরিয়েই নিতে চাইছিল। আমি নিষেধ করছিলাম।
আচ্ছা এই কথা কি তোমার ভাইয়া জানে?আমি বললাম।
না তো। একথা বলতে ভুলে গেছিলাম। আমার নিজের ই মনে ছিলনা। তুমি জিজ্ঞেস করাতে মনে পড়ল। তখন তো মনের অবস্থা বোঝ ই। দু দিন কারো সাথে কথা বলিনি এতটাই ভেঙ্গে পরছিলাম।

(চলবে)
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের জন্য কি জাপানের পরিণতি অপেক্ষা করছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৮


ইরানের মোল্লাতন্ত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও একটা বিষয় কিন্তু ঠিক, ওরা ভাঙে, তবে মচকায় না৷পৃথিবীর কত কত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে কাপড় নষ্ট করে ফেলে, অথচ ইরান সগর্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×