somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি যুদ্ধ বেচে খাই।

০৭ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেক দিন আগের কথা।এক দেশে ছিল এক হাঁস বিক্রেতা।সেই বিক্রেতার যে সে হাঁস ছিল না , ছিল স্বর্ণের ডিমপারা হাঁস।সেই হাঁস প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম দিত। সেই বিক্রেতা হাজি মাথায় নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সেই হাঁস বিক্রি করত।যে লোক ওই হাঁস কিনত সে ই বিশাল বড়লোক হয়ে যেত। তবে দুঃখের বিষয় হল সবার তা কেনার যোগ্যতা সবার ছিলনা। যার কাছে বিশেষ ধরনের এক কার্ড থাকত তারাই সেই হাঁস কিনতে পারত। আর সেই কার্ড দেওয়া হত ওই দেশের কিছু সন্মানি ব্যাক্তিদের কে ।কিন্তু দুঃখের বিষয় ছিল শুধু কার্ড থাকলেই কেউ স্বর্ণ কিনতে পারত না। তার দরকার ছিল অনেক টাকার।

হাসেম মিয়ার টাকা ছিল কার্ড ও ছিল। সে হাঁস বিক্রেতার কাছ থেকে একটি হাঁস কিনে নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে লাগল।

এদিকে করিম মিয়ার কার্ড ছিল।সে একজন পানের দোকানদার ছিল ।তাই টাকা পয়সা বেশি ছিল না। হাঁস কিনতে না পারায় সে গরিব গরিব ই রয়ে গেল।

আবুল মিয়ার ও শখ হল এরকম একটা হাঁস কিনবে । তার কাছে টাকাও ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার কোন কার্ড ছিল না। কিন্তু তার মাথায় বুদ্ধি ছিল প্রচুর। সে গেল নীলক্ষেত। ওখানে গিয়ে ঠিক হাসেম মিয়ার কার্ডের মত একটি কার্ড বানাল। ব্যাস কেল্লা ফতে। মন মত দেখে শুনে নাদুস নুদুস একটা স্বর্ণডিমওয়ালা হাঁস কিনে ফেলল। মনের আনন্দে হাঁস নিয়ে বাড়ি ফিরে এল এবং রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেল।

আবুল মিয়ার দেখাদেখি তার বড়লোক প্রতিবেশীরাও গেল নীলক্ষেত বানিয়ে ফেলল কার্ড। সবাই একটা একটা করে হাঁস কিনে নিয়ে আসল। রাতারাতি সবাই বড়লোক থেকে বিশাল বড়লোক হয়ে গেল।

ওদিকে করিম মিয়া ওই রাজ্যের সন্মানিত ব্যাক্তি হয়েও রয়ে গেল পানের দোকানদার।

এদিকে অনেক টাকা থাকার পরও ভুয়া কার্ড ছিলনা বিধায় হাঁস কিনতে পারলনা রহিম। অন্যরা বরলোক হয়ে গেল এবং এতে করে যাদের টাকা ছিল কিন্তু কার্ড ছিলনা তারা গরিব হয়ে যেতে লাগল।

অনেকদিন এভাবে চলতে চলতে শুরু হল অর্থনৈতিক বৈষম্য। মুদ্রাস্ফিতি শুরু হলে। এক কেজি আলুর মুল্য হল দশ স্বর্ণমুদ্রা যা আগে ১ টি তাম্র মুদ্রায় পাওয়া যেত । যাদের হাঁস ছিল তাদের কোন চিন্তা ছিল না। তারা সাচ্ছন্দেই জীবন যাপন করছিল। কিন্তু বাধ সাধল রহিম মিয়ারা। তারা মাঠে নেমে গেল, বিদ্রোহ করল। এবং শেষে ওই হাঁস বিক্রেতাকে দিল মার। মারের চোটে সে গেল মরে। শেষমেষ রাজা চাপের মুখে কার্ড দিল উঠিয়ে।তারপর থেকে সেই রাজ্যের প্রজাগণ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

হয়ত অনেকেই গল্পটির থিম টি ধরতে পেরেছেন। হ্যা, আমি বিসিএস এর কোঁটার কথাই বলছিলাম। স্বর্ণের ডিম পাড়া হাঁসের মতই এর চরিত্র । আর আবুল মিয়া ও তার অনুসারিরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব করছে। আর রহিম এর মত লোকেরা মেধাবীদের।

আর হাঁস বিক্রেতা বলতে আমি কাকে বুঝিয়েছে হয়ত আপনারা সবাই বুঝতে পারছেন

আর তাদের উদ্দেশ্যেই বলছি, যুদ্ধ নিয়ে ব্যাবসা করে আর কতদিন খাবেন ।মানুষ আর এখন গাধা নেই। আপনাদের এই কোটা প্রথা একদিকে যেমন মেধাবীদের অবমুল্যায়ন করছে অন্যদিকে এক অর্থে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।

কারন আমি হলফ করে বলতে পারি এই কোটা প্রথার কারনেই দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়ছে।এবং এই একমাত্র কারনেই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও গলা উচু করে বলতে পারে না যে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা (ভিক্টিম আমি নিজেই।)

আর নারী কোটা, উপজাতি কোটা সব মিলিয়ে মোট ৫৬% উল্লেখ্য বর্তমানে নারীরা কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় আমাদের মেডিকেল কলেজেই ছেলে মেয়ের অনুপাত ৫০:৫০তারপরও নারী কোটা রাখাটা কতটুকু যৌক্তিক?

শুধুমাত্র এই ৫৬% ই না আরও রয়েছে অঘোষিত মামা কোটা।সবমিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সামান্য কিছু অংশ বাকি থাকল মেধাবীদের জন্য। তাহলে আর মেধার মুল্যায়ন টা কই রইল। যে দেশে মেধার কোন মুল্য নেই সে দেশের উন্নতি কি আদৌ সম্ভব? যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে একবার তো ধরা খেলেন যার ফলশ্রুতিতে ৫-০ তে হোয়াইট ওয়াস হলেন। এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ১০ টা সিট পাবেন কিনা সন্দেহ আছে।

গল্পের শেষ টা যেমন হয়েছে সেই পরিনতির জন্যেই প্রস্তুত হন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের জন্য কি জাপানের পরিণতি অপেক্ষা করছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৮


ইরানের মোল্লাতন্ত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও একটা বিষয় কিন্তু ঠিক, ওরা ভাঙে, তবে মচকায় না৷পৃথিবীর কত কত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে কাপড় নষ্ট করে ফেলে, অথচ ইরান সগর্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×