somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোথা থেকে শুরু করতে হবে?

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের সার্থক রূপকার ভ্লাডিমির ইলিচ উইলিয়ানভ লেনিন ইস্ক্রা বা স্ফুলিঙ্গ নামক পত্রিকার ১৯০১ সালের মে মাসে প্রকাশিত ৪র্থ সংখ্যায় লিখেছিলেন ছোটো একটি লেখা। শিরোনাম, ‘Where to Begin?’।
সেই লেখার প্রথমে তিনি লিখছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ জোর দিয়ে রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ‘কী করতে হবে’ এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আমরা কী পথ গ্রহণ করবো ( যা নিয়ে গত ৮০ ও ৯০ দশকে আলোচনা হয়েছিল)তা নিয়ে এই আলোচনা নয়। বরং আমাদের পরিচিত পথ বা আদর্শের মধ্য থেকে আমরা কী বাস্তব পন্থা গ্রহণ করবো বা কীভাবে তা আত্মস্থ বা বাস্তবে রূপায়ণ করবো তা নিয়েই এই আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক কাজের পদ্ধতি বা পরিকল্পনা নিয়ে এই আলোচনা।
এরপর তার লেখায় পার্টিতে চলমান বিভিন্ন চিন্তাধারা বা মতভেদ বিষয়ে তিনি কথা বলেন।
তিনি বলেন, লাইবনেখট-এর উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে- ‘যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতির বদল হয় তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রণকৌশলও বদলে নিতে হবে।‘ (If the circumstances change within twenty-four hours, then tactics must be changed within twenty-four hours.”)
লেনিন পার্টিতে যারা উক্ত চিন্তা লালন করেন তাদের বিষয়ে বা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে তার উক্ত লেখায় তী্ব্র সমালোচনা করে লেখেন-
কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আন্দোলনের কৌশল বা পার্টি সংগঠনের বিশেষ কিছু বিষয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কৌশল বদলানো সম্ভব । কিন্তু সাধারণভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং আবশ্যিকভাবেই সংগ্রামী ধারার সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বা জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই জারি রাখার প্রয়োজনয়তা আছে কী না তা নিয়ে ২৪ ঘন্টা বা ২৪ মাসের মধ্যে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে পারে একমাত্র সার্বিকভাবে নীতি বিবর্জিত ব্যক্তিগণই।
অর্থাৎ, সংগঠন ও সংগ্রাম ও জনগণকে সংগঠিত করার জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি বা রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি আরো বলছেন,
পরিবর্তিত পরিস্থিতি বা সময়ের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা নিতান্তই হাস্যকর। যে কোনো সময় তথা ‘একঘেয়ে শান্তিপূর্ণ’ সময়ে বা যেভাবেই বলি না কেন‘বিপ্লবী চেতনার ক্ষয়মানতার’ সময়েও সংগ্রামী ধারার সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম জারি রাখা আবশ্যিক অপরিহার্যভাবেই প্রয়োজনীয়। বিস্ফোরন্মুখ বা ঝাঁকুনির সময়ে সংগঠন দৃঢ় করতে গেলে দেরী হয়ে যাবে। মুহূর্তের মধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করার মতো প্রস্তুতি বা সক্রিয়তা পার্টির মধ্যে থাকতে হবে।
এরপর তিনি ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে কৌশল বা রণকৌশল বদলের’ দৃষ্টিভঙ্গিকে ভ্রান্ত প্রমাণের জন্য আলোচনা টেনে নেন।
তিনি বলেন, কিন্তু এই ‘রণকৌশল’ তথা ‘কৌশল’ বদলানোর জন্য আবশ্যিকভাবেই প্রয়োজন একটি ‘রণকৌশল’। এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বা যে কোনো সময়ে রাজনৈতিক সংগ্রাম সংঘটন করার মতো একটি করিৎকর্মা শক্তিশালী সংগঠন না থাকলে ধারাবাহিক কার্য পরিকল্পনা, দৃঢ়বদ্ধভাবে নীতিতে সম্মোহিত অবিচলতা, দ্রুততম উপায়ে কার্য সাধন ইত্যাদির প্রসঙ্গ বা প্রশ্ন আসে না বা থাকে না।
তিনি বারে বারে জনভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ও সংগ্রামের উপরই গুরুত্ব আরোপ করতে চেয়েছেন।
পরবর্তি আলোচনায় তিনি সন্ত্রাসবাদী কর্মপন্থা নিয়ে মতামত পেশ করেন। তিনি বলছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার অস্তিত্ব ব্যতীত এবং স্থানীয়ভাবে বিপ্লবী সংগঠনের দুর্বল অস্তিত্ব থাকা মানে, এটি, বস্তুত, তা সন্ত্রাস মাত্রে পর্যবশিত হতে পারে।( Without a central body and with the weakness of local revolutionary organisations, this, in fact, is all that terror can be.)।
তিনি তৎকালীন তাদের সংগঠনের অবস্থার প্রেক্ষিতে ‘আক্রমণ হানো(To the assault)’ এই পন্থা ব্যবহারের পরিবর্তে ‘শত্রুর দুর্গকে ঘেরাও(Lay siege to the enemy fortress)‘ করার জন্য কর্মসূচি নিতে আহ্বান জানান। এরপরই তিনি লিখেন, পার্টির বিদ্যমান সমগ্র শক্তিকে এখনই আক্রমণের জন্য আহ্বান জানানো বর্তমান সময়ের করণীয় কর্তব্য হতে পারে না। কথায় নয় বরং কাজে বা বাস্তবে আন্দোলন পরিচালনায় সমর্থ এবং সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন করা বর্তমান কর্তব্য হয়ে দাড়িয়েছে।
এরপর তিনি একটি প্রকাশনা বা প্রচারণামূলক পত্রিকার প্রয়োজনীয়তা কথা তোলেন। এই প্রকাশনার মাধ্যমে সারা রাশিয়ার নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা যাবে বলে মত দেন।
সর্বশেষে তিনি বলছেন,
আমরা নিরন্তরভাবে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত প্রস্তুতির কথা বলে আসছি। এবং এটা আমাদের চিন্তায় নেই যে শুধুমাত্র নিয়মিত আঘাত অথবা সংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারীর পতন ঘটানো সম্ভব। এই ধরণের চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গী হাস্যকর এবং গোঁড়ামীপূর্ণ।
অপরদিকে যথার্থতই এটা সম্ভব এবং ঐতিহাসিকভাবে অধিকতর সম্ভবপর যে, স্বেচ্ছাচার বা স্বৈরাচারিতার পতন হবে একটা স্বতস্ফূর্ত ঝাঁকুনি বা একটা অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক জটিলতার চাপে যা নিরন্তরভাবে প্রতিনিয়ত তাকে সকল দিক থেকে আশংকার মধ্যে রেখেছে।
তিনি আরো বলছেন,
কোনো রাজনৈতিক সংগঠনই জুয়াড়ীর মতো কোনো বিস্ফোরণ বা জটিলতা সৃষ্টির আশাকে ভিত্তি করে তার কাজ চালাতে পারে না। যতই অপ্রত্যাশিত বা নিয়তি কিছুর উপর আমরা নির্ভরতা কমাতে পারবো ততই ‘ঐতিহাসিক মোড় ‘ ফেরানোর সময়ে আমরা অসচেতন বা অসাড় হয়ে কম থাকতে পারবো।
দ্রস্টব্য: লেখাটি মার্ক্সিস্টস.অর্গ ওয়েবসাইট-এর Where to Begin? শীর্ষক লেনিনের লেখা থেকে সংক্ষেপ করে ভাবানুবাদ আকারে লেখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রেক্ষিত বিবেচনা করে লেখার অবতাড়না করা হয়েছে।
অনুবাদে দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×