somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসামের গেরিলা সংগঠন উলফার প্রতিষ্ঠা দিবস ০৭ এপ্রিল

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭ এপ্রিল, ২০১৫। ১৯৭৯ সালের এই দিনে আসামের শিবসাগরের রঙঘর নামে এক এলাকায় আসামের স্বাধীনতাপন্থী কয়েকজন যুবনেতা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম বা উলফা গঠন করেন। ভীমকান্ত বোরগোহাইন, পরেশ বড়ুয়া/বোড়া, রাজীব রাজকোনওয়ার প্রকাশ অরবিন্দ রাজখোয়া. অনুপ চেটিয়া প্রকাশ গোলাপ বড়ুয়া/বোড়া, প্রদীপ গোগোই, প্রকাশ সমীরণ গোগোই, ভদ্রেশ্বর গোহাইন , মিথিঙ্গা দাইমারী, চিত্রবন হাজারিকা, শশধর চৌধুরী প্রমুখ এই সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ে রয়েছেন।

আসামের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে এই সংগঠেনর জন্ম হয়েছিল। ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক আসাম গঠন ছিল তাদের মূলমন্ত্র।

উলফা তাদের সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলার প্রারম্ভে ঘোষনা করেছে-

পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় ও সমূহ উন্নতির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। সাচ্চা কথা্ এই যে, সংগ্রামের ইতিহাস মানে হলো অন্যায়ের বিপরীতে ন্যায় এবং মিথ্যার বিপরীতে সত্যকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এছাড়াও একটি জাতি যখন বিজাতীয় শাসনের অধীনে থাকে তখন তার স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তির লড়াই ব্যতীত অন্য কোনো পথ খোলা থাকে না।

১৯৮৪ সালে উলফা তাদের কার্যক্রম জোরদার করতে তৎপরতা চালায়। তারা প্রথমে ব্যাপকভাবে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তারা নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপ গঠন করে । সংগঠনের কর্মীদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ভারতের নাগাল্যান্ডের ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড বা এনএসসিএন এবং মায়ানমার বা বার্মার গেরিলা সংগঠন কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্টস আর্মি বা কে আই এ’র সহায়তা গ্রহণ করে বলে জানা যায়। উলফার প্রভাব আসামে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত সরকার ১৯৮৬ সালের ৭ নভেম্বর এই সংগঠনকে বেআইনী ঘোষনা করে।

এখানে বলা প্রয়োজন আসাম হলো ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের মধ্যে অন্যতম এবং বড় একটি রাজ্য।

ভারত উলফার কার্যক্রমকে দমন করার জন্য সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে। ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে অপারেশন বজরঙ, ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে অপারেশন রাইনো, ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অপারেশন অল ক্লিয়ার এবং পরবর্তিতে অপারেশন রা্‌ইনো দুই নামে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে উলফাকে দমনের চেষ্টা চালায় ভারত।

এতে উলফার অনেক সদস্য আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। ১৯৯২ সালে উলফার উচ্চস্তরের কয়েকজন নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে আত্মসমর্পন করে।

উলফা এই সময় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পাশের দেশ বাংলাদেশ ও চীনে আশ্রয় নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালায় বলে জানা যায়। এবং এক পর্যায়ে তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশের ডিজিএফআই-এর সাথে তারা সম্পর্ক রেখে কাজ করতো বলে ভারত সরকার বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে।

উলফার কিছু অংশ ভুটানেও আশ্রয় গ্রহণ করে। তবে ২০০৩ সালে ভুটান সরকার উলফাসহ বেশ কয়েকটি গেরিলা সংগঠনকে তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে এবং উলফাকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়।

২০০৪ সালের দিকে উলফা ভারত সরকারের সাথে আলোচনায় বসার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার পিপলস কনসালটেটিভ গ্রুপ নামক মধ্যস্থতাকারী একটি দলের মাধ্যমে ভারত সরকার উলফার সাথে আলোচনায় বসে। ২০০৬ সালের দিকে আবার সংঘাত শুরু হয়। দুই পক্ষই আলোচনা থেকে সরে যায়।

২০০৯ সালের দিকে উলফার প্রধান অরবিন্দ রাজখোয়া বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। এরপর তাকে ভারতে ফেরত নেয়া হয়। সেখানে আবার নতুন করে ভারত সরকার উলফার সাথে আলোচনা শুরু করে। কিন্তু উলফার অন্যতম নেতা পরেশ বড়ুয়া ভারত সরকারের সাথে তাদের বন্দী নেতাদের মধ্যেকার আলোচনাকে মেনে নেননি। তিনি এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, তিনি আসামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কর্মী সংগ্রহ করে উলফার সামরিক শাখা শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এরই মাঝে আসামের এই লড়াইয়ে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জনের। এখন সংঘাত তেমন না থাকলেও পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফার কার্যক্রম চলতে থাকায় এবং আসামের জনগণের মাঝে সংগঠনের কার্যক্রম জারি থাকায় ভবিষ্যতে আসামের লড়াইয়ের পরিণতি কী হবে তা একমাত্র ভবিষ্যতই বলে দেবে এই মাত্র ধারণায় নেয়া যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:

উলফা ওয়েবসাইট

জি নিউজ ওয়েবসাইট

উইকিপিডিয়া

গ্লোবাল সিকিউরিটি ওয়েবসাইট

এসএটিপিডটঅর্গ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×