somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এত বছর পর সামুতে এসে নস্টালজিক হয়ে গেলাম

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার পর যখন বেকার আর বোরিং সময় কাটাচ্ছিলাম তখন আমার ছোটবেলার বন্ধু ব্লগার তানভীর সজিব আমাকে সামু ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়। ব্লগ আর ব্লগিং জিনিসটা যে কি এই ধারণা ছাড়াই সামুতে আমার পথচলা শুরু হয়।
খুব অল্প দিন আমি এখানে নিয়মিত ছিলাম। লেখালেখি আমি কখনোই ভাল পারিনা আর সেভাবে কখনো লেখাও হয়নি। আমার ব্লগ শুধুমাত্র আমার ডায়রি লেখার মতই সাধারণ ছিল। তবে এই স্বল্প সময়ে খুব সুন্দর একটা অবসর কাটানো সময় আর বেশ কিছু ভাল বন্ধুত্ব সামু থেকে আমার মূল্যবান প্রাপ্তি।

ব্লগে শেষবার লগ ইন করেছিলাম ১২ই ডিসেম্বর,২০১২ইং সালে(আমার করা শেষ কমেন্ট দেখে ধারণা নিলাম)। তারপর কতটা বছর কেটে গেল। লগ ইন না করতে করতে পাসওয়ার্ড টাও ভুলে গেলাম একসময়। দীর্ঘ বিরতি শেষে আবার ফিরে এলাম প্রিয় ব্লগে। 'আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে...'।

অনেকদিনের গ্যাপ। তাই কেমন একটু অন্যরকমও লাগছে। তখনকার সমসাময়িক ব্লগারদের নিকগুলো দেখছিনা জন্য নিজেকে একটু অনাকাঙ্খিত লাগছে কেন যেন। ব্লগিং করলে সমসাময়িকদের সাথে অন্যরকম আন্তরিকতার সৃষ্টি হয়। বন্ধুত্বের একটা সার্কেল তৈরী হয়। আন্তরিকতা, ভাললাগা আর ভালবাসার এক নতুন জগতের সন্ধান পাওয়া যায়। মনে পড়ছে ব্লগার বন্ধু ফারজুল আরেফিন এর কথা। কমেন্ট আদান প্রদান করতে করতে খুব সুন্দর বন্ধুত্ব হয়েছিল। অনেক ভাল লেখা স্বত্বেও জেনারেল থেকে নিরাপদ ব্লগার হতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল বহুদিন। একসময় এ নিয়ে হতাশাগ্রস্হ হয়ে ব্লগিংটাই ছেড়ে দিতে চাইত। এটা নিয়ে আমাদের অন্যান্য সহ ব্লগারদেরও মন খারাপ ছিল। যেদিন তিনি নিরাপদ ব্লগার হলেন, আমরা (সহ ব্লগাররা) সবাই খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। ব্লগে তখন দেখেছিলাম ভাতৃত্ববোধের উদাহরণ। ব্লগে দেখছিনা আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় ভাইয়াকে। সুন্দর কবিতা লিখতেন তিনি। বলব তন্ময় ফেরদৌস এর কথা। আন্তরিকতার আবহে ছোট ভাই হিসাবে সবসময় পাশে পেয়েছি। মাহ্ফুজার রহমান কেও মনে পড়ছে। আমার ব্লগে এসে কবিতা কমেন্ট করতেন আর রিপ্লাই এ কবিতার মত করে না লিখলে মাইন্ড করতেন। হা হা হা।
বিশেষ ভাবে মনে পড়ে কাউন্সেলর কে। ব্লগে উনার সাথে এত সুন্দর বন্ধুত্ব আর হৃদ্যতা ছিল যা আমি সবসময়ই মিস্ করব। আমি এখনো জানিনা সত্যিকারের এই মানুষটি কে? বা এই নিকটা কার? অথবা এখনো তিনি ব্লগে আছেন কি না! তবে খুব খুশি হব উনাকে ফিরে পেলে।

আরেকজন যার কথা না বললেই না, তিনি হচ্ছেন আহমেদ আরিফ ভাইয়া। আমি যখন ব্লগে নতুন এসেছি, তখন উনার রম্যগুলোই ছিল এখানে আমার মূল আকর্ষণ। কি-যে সুন্দর লিখতেন তা আর কি বলব! উনার প্রোফাইল পিকের সুন্দর বাচ্চাটার ছবিটা দেখলেই যে কারোর মন ভাল হয়ে যেত বলে আমার ধারণা। উনি আলোচিত আর সমালোচিত দুইভাবেই পরিচিত ছিলেন বলে শুনতাম। অনেক নিক, অনেক ক্যাচাল, এগুলোর কথাও শুনেছি। এসব নিয়ে আমি কখনোই আগ্রহী ছিলাম না। তবে আহমেদ আরিফ নিকটার অনেক বড় ফ্যান ছিলাম। উনাকে নিয়ে এত লিখছি তার একটা কারণও আছে। একবার ব্লগে কেউ একজন স্বল্পসময়ের একটা পোস্ট দিয়েছিল আহমেদ আরিফ আর তার মেয়ে ভক্তদের সম্পর্ক নিয়ে। বিস্ময়করভাবে সেখানে আমার নামটিও নাকি ছিল! মানুষের অদ্ভূত মেন্টালিটি! কে বা কেন দিয়েছিল সেটাও পরে জেনেছি। কারণ তিনিও (পোস্টদাতা / দাত্রী) উনার ফ্যান ছিলেন আর আমার ফেইসবুকে ভাইয়া এ্যাড থাকাতেই ক্ষেপে গিয়ে এমন পোস্ট দিয়েছিলেন। যাইহোক, যখন ব্লগে এমন পোস্ট এসেছিল তখন অলরেেডি আমি ব্লগে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার পরিচিত আরেক বন্ধু ব্লগার আমাকে এমনটা জানানোর পর আমি ব্লগে পোস্টটি দেখতে পাই এবং সেখানে প্রতিবাদ করে কমেন্ট লিখতে লিখতেই পোস্টদাতা পোস্টটি ডিলিট করে দেয়। এমন তিক্ত এবং নোংরা অভিজ্ঞতাটিতে আমি এত বিরক্ত হই যে ব্লগিং এর প্রতি বিরূপ মনোভাব চলে আসে আমার। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আর এই কারণটাও হয়ত: ছিল আমার ব্লগ বিমূখতার অন্যতম কারণ।
আরেকবার বিব্রত হয়েছিলাম তাও এক ব্লগার বন্ধুর জন্যই। আমার ব্লগের কি এক সমস্যা হওয়ায় আরেক ব্লগার বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে আমাকে সাহায্য করে সমাধান করে দিয়েছিলেন। সেই উপকারের ভিত্তিতেই আমার লগ ইন পাসওয়ার্ড তিনি জেনেছিলেন। আমিও ব্যাপারটা তেমন সিরিয়াস ভাবে না নেয়ায় পাসওয়ার্ড আর পরিবর্তন করিনি। আমার আরেকজন পছন্দের ব্লগার ছিলেন নেবুলা মোর্শেদ। উনার মহাকাশ আর নক্ষত্র সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক সহজ সুন্দর পোস্টগুলো আমি অন্যরকম পছন্দ করতাম। একবার উনার এক পোস্টে কমেন্ট করার পর পরই আমার নিক থেকে করা অন্য আরেকটা কমেন্ট দেখতে পেলাম। আমার কমেন্টটি পজিটিভ ছিল কিন্তু অন্যটি একটু নেগেটিভ টাইপের ছিল। বুঝতে বাকি রইল না আমার নিক ব্যবহার করে অন্য কারোর কমেন্টটি কার হতে পারে। নেবুলা মোর্শেদ সাহেব নিতান্তই ভদ্রলোক ছিলেন তাই হয়ত আমাকে অপমান করে কোন রিপ্লাই দেননি। তবে অনাকাঙ্খিত ঘটনাটিতে আমি তাকে স্যরি বলায় কমেন্টটি তিনি ডিলিট করে দিয়েছিলেন।

আরেকটি কথা ভেবে আমি এখনও মজা পাই তা হল, কাল্পনিক ভালবাসা নিকটির সাথে আমার পরিচয়। আমি সবসময়ই নতুনদের লেখা পড়তে ও মন্তব্য করতে পছন্দ করতাম। কাল্পনিক ভালবাসা নামের নতুন দেখা নিকটিতেও তাই মন্তব্য করতে করতে পরিচয় হয়। একসময় ব্লগিং থেকে দূরে সরে গেলেও আমার ফেইসবুকে পছন্দের ব্লগার হিসাবে কাল্পনিক ভালবাসার বন্ধুত্ব থেকে যায়।আমার এখনো ভাবলে হাসি পায় যে আমি বহুবছর উনাকে কেবলমাত্র নতুন ব্লগার হিসাবেই জানতাম।

অনেক প্রাসঙ্গিক আর অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা লিখে ফেললাম। হরেক মানুষ, হরেক মেন্টালিটি এটাই বোধহয় স্বাভাবিক। তবে ব্লগ হচ্ছে আমার কাছে সাহিত্য, আইডিয়া বা বিভিন্ন জ্ঞান শেয়ার করার খুব সুন্দর একটা জায়গা। নির্ভর করে মানসিকতার ওপর আপনি পজিটিভলি নাকি নেগেটিভলি নিবেন। সবচেয়ে বড় কথা ব্লগ হচ্ছে একটা সাহসের জায়গা যেখানে যে কেউ যে কোন কিছু লিখে ফেলতে পারে কোন রকম সংকোচ বা জড়তা ছাড়া। আর যেহেতু ব্লগারদের পারস্পরিক সম্পর্কটা একধরণের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সম্পর্ক রক্ষায় সচেতন থাকাটাও জরুরী।

সামুকে অনেক ধন্যবাদ আমার ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ডটি ফিরে পেতে সাহায্য করার জন্য। নিয়মিত থাকব নাকি আবার অনিয়মিত হয়ে পড়ব জানিনা তবে সামু সবসময় আমার কাছে বিশেষ ভালবাসার জায়গা হয়ে ছিল, আছে এবং থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:১৮
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×