somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:| জীবন ও মনের নান্দনিক উপাখ্যান :|

০১ লা আগস্ট, ২০১৪ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে সকল কিছুর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সেটা যেকোন কিছুরই হতে পারে। তবে সব কিছুর ব্যাখ্যা নাকি আমাদের দৃশ্যমান থাকে, কিন্তু আমাদের চর্মচোখে সেটি নাকি পরিলক্ষিত হয় না। এর জন্য নাকি জ্ঞানের চোখ প্রয়োজন। মানুষের জীবন পরিধিতে অনেক বাধা-বিপত্তি, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এসব নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে থাকে। মানুষের জীবনের চক্রের উপর দিয়েই এসকল কিছু বহমান। কিন্তু কত জন পারে সেটাকে সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে??? :|:|:|:|

কোন কাউকে যদি বলি আচ্ছা বলুন তো আমার আপনার কাছে আপনার জীবনটি কেমন প্রতীয়মান হয়। উত্তরে হয়ত বা কেউ বলবেন, খুবই কষ্টকর, খুবই যন্ত্রণাদায়ক, খুবই ভালো বা মোটামুটি ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে একেকজনের অনূভুতি একেক রকমের হয়ে থাকে। কারো কাছে জীবনের ব্যাখ্যা একরকম পাওয়া যাবে না। কারণ মানুষের চিন্তা-চেতনা তাকে তার বাস্তবিক পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে ভাবতে শেখায়। তাকে উপলব্ধি করতে শেখায় জীবনের মমার্থ। পারিপার্শ্বিক বিচার-বিবেচনা তাকে জাগ্রত করতে সহায়তা করে যদি সে নিজে থেকে জীবনে কে বুঝে নেয়ার প্রয়াস করে অর্থাৎ নিজের আসন্ন ভবিষৎ সর্ম্পকে সচেতন না থাকে। নতুবা "সারা রাত রামায়ণ পাঠ করে সকালে উঠে বলবে সীতা কার বাপ" এমন অবস্থার আর্বিভাব হবে।

যদি আপনাদের জিজ্ঞাসা করি আপনাদের কাছে জীবনের ব্যাখ্যা কি???

আমার কাছে যদি কেউ জানতে চাই আমি সহজ ভাবে ব্যক্ত করার চেষ্টা করি যে, হাতুরি পেটা লোহার মত [বর্তমান]। ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, কষ্টে জর্জরিত। তাই আমার কাছে জীবনের ব্যাখ্যা খানিকটা এরূপঃ

জীবন টা হল, একটা জ্বলন্ত লোহার পিন্ড। অর্থাৎ কামারের দোকানে যেমনটি থাকে। ঐ খানে উত্তপ্ত লোহা গুলো আমাদের যুদ্ধক্ষেত্র বা জীবনের যাপনের নিরলস কষ্ট, বেদনাদায়ক পথচলা!!! ঈশ্বরের হাতে থাকে হাতুরি। যেটা দিয়ে উনি কামারের মত ঐ জলন্ত লোহার উপর অনবরত আঘাত করতে থাকেন। আর এই আঘাত গুলো হল আমাদের দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চণা, অপমান, অপবাদ, শোক ইত্যাদি সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট। যখন এই হাতুরি পেটা লোহাকে কামার পেটাতে পেটাতে একটি অবয়ব দান করে ঠিক তেমনি ঈশ্বর আমাদের এই সকল দুঃখ-কষ্ট থেকে উত্তরণের পর এমনি একটি রূপ প্রদান করেন যা আমাদের জীবনে অত্যন্ত সুখের পরশ এনে দেয় :| । আর তখনই জীবন উপভোগ্য মনে হয়। জীবনের সকল সুখের অনুভূতির ছোঁয়া স্পর্শিত হয়।

এতক্ষণ জীবন নিয়ে অনেক প্রলাপ হল, এবার খানিক মনের উপর দৃষ্টি রাখা যাক। অনেকেই বলেন, মানুষের মন নাকি সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। আমারও তেমনি ধারণা। কারণ সময়ের সাথে সাথে যেমন ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন ঘটে ঠিক তেমনি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও ঘটে। কেননা দেখুন আমরা আমাদের শিশুকালে যে সব চিন্তা-ভাবনা করতাম এখন যদি কোন সময় সেগুলো মনে করি অনেক সময় নিজেকে বোকা বোকা লাগে যে কি সব উদ্ভট চিন্তা-ভাবনা করতাম। মনস্তাত্তিক বিকাশের ফলে আমাদের সে সকল চেতনা ভাব উদিত হয়। যার ফলে পরিবেশ পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকে আমাদের মনেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে।

সময়ের চলমান প্রবাহের সব কিছুর পরিবর্তন এটাই এক নিদারুণ বাস্তবতা। মানুষের মননশীল চিন্তা ভাবনা পারে তাকে সঠিক দিকে পরিচালিত করতে, আবার চিন্তা ভাবনা ব্যতয় ঘটলে জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

মানব মন চঞ্চল প্রকৃতির তেমনি দুবোর্ধ্য। কারণ কার মনের মনোভাব কেমন সেটা উপলব্ধি করাটা অনেক কষ্টসাধ্য বটে। অনুমানের উপর আর কতটাই বা নির্ভর করে থাকা যায়!!! যেমন ধরুণ কাউকে এক দেখাতে পছন্দ হয়ে যাওয়া। তাকে ভালোলাগা, অতঃপর ভালোবাসা। সবই তো মনের মননশীলতার উপরই নির্ভরশীল।
কারণ এসকলের বোধটুকুর পাথেয় যে মনই প্রদান করে। এরজন্য মনকে বোঝা বড় দায় বটে। কেননা নিচের অজান্তে কাকে নিজ থেকে মন দেয়া-নেয়া ঘটে যায় সেটার উপলব্ধি জটিল। তবুও মনের উপর কোন জোর খাটে না। কারণ মন স্বাধীন। আমাদের মাঝে করুণা, সহানুভূতি, প্রেম, ভালোবাসা, ভালোলাগা ইত্যাদি এসবের প্রতি মূলেই রয়েছে মন। মন আমাদের মাঝে এমনই এক মাধ্যম রূপে কাজ করে যা এসবকে এক সুঁতোয় বেঁধে রেখে সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টি করে।

পরিশেষে,

মন তো এমন নয় যে,
রেখে দেব বন্দি খাঁচায়!!!
যাবে না কোথাও,
সে না বলে আমায়!!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৪ রাত ২:০২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×