somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সব টেক্টবুক ইসলামি ধর্মপুস্তক বানিয়ে ফেলা হলেও এদেশী বোকো-হারামজাদারা সন্তুষ্ট হবে না

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এত অল্পতে এরা সন্তুষ্ট হবে?
সব টেক্টবুক ধর্মপুস্তক বানিয়ে ফেলা হলেও এদেশী বোকো-হারামজাদারা সন্তুষ্ট হবে না।

১৯৭১ এ আমলাদের পরামর্শ মত চললে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ তো দূরে কথা শুরুই করাই সম্ভব হত না।
এখন দেখেন অবস্থা .. ক্লাস ওয়ানের শিশু ছেলেমেয়েদের ওড়না ও ওড়নার অন্তর্নিহিত জিনিষ শেখানো হচ্ছে।

স্কুলের বাংলা টেক্টবুক কে ইসলাম ধর্মপুস্তক বানিয়ে ফেলা হল।
সবধর্মের বাচ্চাদের ইসলামধর্ম শিখতে হবে দেখা যাচ্ছে।
ধর্ম সাবজেক্ট ও ধর্ম টেক্টবুক থাকার পরও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.), পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘বিদায় হজ’ ও ‘শহিদ তিতুমীর’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর দির্ঘদিন প্রচলিত সুকুমার রায়, হুমায়ুন আজাদ, ইত্যাদি ডজনখানেক উদারপন্থি লেখদের জনপ্রীয় প্রবন্ধ কবিতা এমন কি ৭১ এ মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দিপ্ত করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বাংলাদেশের হৃদয় হতে' কবিতাটি পর্যন্ত বাদ দেয়া হল।

এই দেশের মানুষ এমনিতেই ধর্মপ্রাণ। এদেরকে আরো মুসলমান বানাতে পাগল হয়ে যাচ্ছে কেন? কার ভয়ে?
এত অল্পতে এরা সন্তুষ্ট হবে? এদের চাহিদা তো অসীম।



* দক্ষিণ এশিয়ার সাধারন মুসলমানরা মনে করে হিন্দুয়ানি লেখা বাদ দেয়া হলে ইসলাম বিপন্নঅবস্থা থেকে রক্ষা পাবে।
দক্ষিণ এশিয়ার কট্টরপন্থি মুসলমানরা মনে করে - মাদ্রাসা শিক্ষা ছাড়া অন্য সব শিক্ষা হারাম।
অতচ মাদ্রাসা ব্যাবস্থা সুধুমাত্র ভারত উপমহাদেশ এলাকায়ই সীমাবদ্ধ। আরব, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইন্দনেশীয় এলাকা, কোথাও মাদ্রাসা নেই।


* পাকি ও আফগান তালেবান মুসলিমরা মনে করে সুধু ইসলামী শিক্ষা (সুধু ছেলেদের) ছাড়া অন্য সব শিক্ষা হারাম। গার্লস স্কুল বা মেয়ে মাদ্রাসা বা যেকোন নারীশিক্ষা হারাম। যে কারনে মালালাকে গুলি করা হয়েছিল।


* আলকায়দা, আইএস, পুর্ব আফ্রিকার আল সাবাব ও মধ্য আফ্রিকার বোকোহারাম।
এরা মনেকরে সুধু নারী শিক্ষা না, যে কোন শিক্ষাই হারাম।
মুসলমানদের যুদ্ধশিক্ষা ছাড়া যে কোন শিক্ষাই হারাম। নবীজি (স) সময়কালে কোন স্কুল-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, তাই এইসব হারাম। এদের কাছে কোন প্রানীর ছবি আঁকা, ছবিতোলা, ভাষ্কর্য তৈরি করা সহ সকল শিক্ষাই হারাম।
বোকোহারাম শব্দের অর্থই 'শিক্ষা হারাম'।

সুতরাং হাসিনা! লাভ নেই।
স্কুলের টেক্টবুক সবকিছু ইসলামি ধর্মপুস্তক বানিয়ে ফেলা হলেও এদেশী বোকো-হারামজাদারা সন্তুষ্ট হবে না।

* সংযুক্তি -
ওড়না বাদেও
হেফাজতে ইসলামের পরামর্শে বাংলা বই থেকে বিম্পি-জামাতের আরপিত, পরে বাদ দেওয়া ১৭টি গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধের তালিকা প্রকাশ করা হয় যার সবই ২০১৭ সালের বইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে যে ১২টি গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ-নিবন্ধকে নাস্তিক্য বাদী ও হিন্দুত্ববাদী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, তার সব কটিই বাদ দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ন আজাদও এবার শিকার !
শুরুটা ছিল এমন, বাংলা, ইংরেজিসহ সাধারণ শিক্ষার মূল বিষয়গুলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তা করতে গিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই থেকে মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ছবিটি বাদ দিতে হয় । সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় লালন শাহের ‘মানবধর্ম’ কবিতা। বাদ পড়ে বিপ্রদাশ বড়ুয়া ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গদ্য, জ্ঞানদাশের পদ্যসহ আরও কিছু বিষয় বাদ।

এর আগে তৃতীয় শ্রেণীর আমার বাংলা বই-এর প্রচ্ছদ চিত্রে এক কিশোর হাফপ্যান্ট পরে নৌকা বাইছে, নৌকায় বসে এক কিশোরী শাপলা ফুল তুলছে। মাদ্রাসার বইয়ে এই প্রচ্ছদ পরিবর্তন করে কিশোরকে পায়জামা পরানো, কিশোরীর মাথায় হিজাব দেওয়া হচ্ছে , আর হাফ হাতা জামাটি ফুল হাতা করার কথা জানানো হয় । পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদচিত্রে এক গ্রামীণ নারী পানির কলসি নিয়ে ফিরছেন। তাঁর মাথায় ঘোমটা দেওয়া। পাশে আরেক নারী নদীর দিকে মুখ করে দাঁড়ানো। কিন্তু তাঁর ঘাড়ের পাশ দিয়ে সামান্য পিঠ দেখা যায়।
মাথার ঘোমটা থাকার পরও শিল্পীর আঁকা কলসি হাতে নারীর পিঠের এই অংশটিও শিল্পীর অনুমতি ছাড়াই এডিট করে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

‘মানবধর্ম’।
এটি লালন শাহের লেখা। এটা রাখা যাবে না। পরিবর্তে আসে কবি ফররুখ আহমদের পদ্য ‘মেঘ বৃষ্টি আলোর দেশে’।
মংডুর পথে বাদ, মদিনার পথে প্রতিস্থাপন’।
জ্ঞানদাশের পরিবর্তে মুহাম্মদ সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ পদ্যটি অন্তর্ভুক্ত। ব্রতচারী নৃত্য বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছিল, যা আমলা নিয়ন্ত্রিত স্টিয়ারিং কমিটি ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যসূচি থেকে নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের 'লাল ঘোড়া ' নামক গল্প এবং সুকুমার রায়ের 'আনন্দ ' কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র পশুপ্রেমী এবং ফুলকে ভালবাসার অপরাধে!! লাল ঘোড়া গল্পে 'লালু ' নামক পশুটির প্রতি ভালবাসা নাকি মুসলমানদের পশু কোরবানি বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র রয়েছে!! তাছাড়া, ফুলের প্রতি ভালবাসা নাকি ইসলাম বিরোধী!! কিন্তু কালীদাস রায়ের 'অপূর্ব প্রতিশোধ ' কেন বাদ দেওয়া হয়েছে? এই কবিতায় তো ইসলামিক ধ্যান -ধারনা সম্বলিত। তারপরও বাদ দেওয়া হয়েছে!! কারন, হিন্দু কবি -লেখক আমাদের পাঠ্যসূচিতে থাকতে পারবেনা এবং এটাই সত্য যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ক্রিয়ার মাধ্যমে জাতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।
শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারনে অনেক গল্প -কবিতাই বাদ পড়েছে। যেমনঃ
★সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'মে দিনের কবিতা'।
★রণেশ দাশগুপ্তের 'মাল্যদান' যেখানে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
★অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইতে বুদ্ধদেব বসুর 'নদীর স্বপ্ন' কবিতা।
★ নবম শ্রেণীর বাংলা বইতে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পালামৌ' গল্প।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের চেহারা তো মাত্র আমরা দেখছি! .. আরো আসছে।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০১
২১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×