somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুইটম্যানের ‘প্রাণী’ - মাঈনউদ্দিন মইনুল।

১৭ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভাবি আমি, ফিরে গিয়ে হয়ে যাই প্রাণী,
বাস করি প্রাণীদের সাথে,
তারা কত শান্ত আর আত্মতৃপ্ত,
আমি থেমে গিয়ে প্রাণীদের দিকে তাকিয়ে থাকি দীর্ঘসময়।

তারা তো ক্লান্ত হয় না
নিজেদের অবস্থা নিয়ে করে না কোন অভিযোগ,

তারা তো রাতের আঁধারে জেগে থেকে
নিজেদের পাপ নিয়ে করে না ক্রন্দন,

তার তো ঈশ্বরের প্রতি কর্তব্য নিয়ে
কথা বলতে বলতে অন্যকে অসুস্থ করে না,

তাদের মধ্যে কেউ তো নেই অসন্তুষ্ট
কেউ তো নেই পাওয়ার লোভে মত্ত,

তারা তো একে অন্যের সামনে হাঁটু গেরে বসে না
অথবা স্মরণ করে না সহস্র বছর পূর্বের কোন স্বজাতিকে,

তারা তো সমগ্র পৃথিবীতে সম্মানীত নয়, অসন্তুষ্টও নয়।

এভাবে তারা আমার সাথে তাদের অভিন্ন সম্পর্ককে প্রকাশ করে
আর আমি তা করি গ্রহণ,
তারা আমার চিহ্নগুলো বহন করে,
সরলভাবে নিজের বলে প্রমাণ করে।

আমি ভাবি, কোথায় পেলো তারা আমার চিহ্নগুলো,
তাদের রাস্তায় কি আমি বহুকাল পূর্বে হেঁটেছিলাম,
আর অবহেলায় রেখে এসেছিলাম আমার চিহ্নগুলো?

চিরকালের জন্য অতঃপর আমি
এগিয়ে এসেছিলাম সামনে,
সঞ্চিত করেছিলাম আরও, এবং
গতিময়তার সাথে প্রকাশ করেছিলাম আরও,
বন্ধনহীন আর অভাবহীন আমি, এবং
এই প্রাণীদের সাদৃশ্য নিয়ে।

নিজের স্মৃতির স্পর্শ থেকে খুব দূরে না গিয়ে,
এখানে যা ভালবেসেছি তাকে মেনে নিয়ে,
এখন আমি ভ্রাতৃবন্ধনে তার সাথে এগিয়ে যাই।

একটি ত্যাজী ঘোড়ার বৃহৎ সৌন্দর্য্য, আমার আদরে
সতেজ হয়ে সচকিয়ে ওঠে,
মাথা তার কপালের দিকে উঁচু
আর দু’কানের মাঝে প্রশস্থ,
অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো চকচকে আর কোমল
লেজ তার ভূমিতে ধূরি ঝাড়ে,
চোখগুলো দুষ্টুতায় ঝলঝল করে,
কানগুলো সুন্দর আকারের, উন্মুক্তভাবে নড়াচড়া করে।

আমার দু’পায়ের গোড়ালির আলিঙ্গনে
প্রসারিত হয়ে ওঠে তার নাসারন্ধ্রগুলো,
তার সুগঠিত প্রত্যঙ্গগুলো কেঁপে ওঠে
যেই দৌড়াতে শুরু করি।

কিন্তু এক মুহূর্ত দৌড়াতেই আমি ছেড়ে দেই,
ঘোড়া তোমাকে,
তোমার ক্ষিপ্রতার কী প্রয়োজন
যখন আমি নিজেই পারি দৌড়াতে?

দাঁড়ালে এমনকি বসে থাকলেও
আমি তোমার চেয়ে ক্ষিপ্রতর।




*হুইটম্যানের ‘ঘাস’
**হুইটম্যান এবং ‘অনুবাদ’ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পূর্বের লেখাটি দেওয়া আছে।


---------------------------------------------------------
Animals by Walt Whitman

I think I could turn and live with animals, they are so placid and self-contain’d;
I stand and look at them long and long.

They do not sweat and whine about their condition;
They do not lie awake in the dark and weep for their sins;
They do not make me sick discussing their duty to God;
Not one is dissatisfied—not one is demented with the mania of owning things;
Not one kneels to another, nor to his kind that lived thousands of years ago;
Not one is respectable or industrious over the whole earth.

So they show their relations to me, and I accept them;
They bring me tokens of myself—they evince them plainly in their possession.

I wonder where they get those tokens:
Did I pass that way huge times ago, and negligently drop them?
Myself moving forward then and now and forever,
Gathering and showing more always and with velocity,
Infinite and omnigenous, and the like of these among them;
Not too exclusive toward the reachers of my remembrancers;
Picking out here one that I love, and now go with him on brotherly terms.

A gigantic beauty of a stallion, fresh and responsive to my caresses,
Head high in the forehead, wide between the ears,
Limbs glossy and supple, tail dusting the ground,
Eyes full of sparkling wickedness—ears finely cut, flexibly moving.

His nostrils dilate, as my heels embrace him;
His well-built limbs tremble with pleasure, as we race around and return.

I but use you a moment, then I resign you, stallion;
Why do I need your paces, when I myself out-gallop them?
Even, as I stand or sit, passing faster than you.
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কেন অটোপ্রমোশন চাচ্ছি?

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে অধিভুক্ত কলেজগুলো পুনরায় খোলার এক মাসের মধ্যে তারা সবার ফাইনাল পরীক্ষা নেবে। কিন্তু আমাদের কলেজ আবার কবে খুলবে বা কত বছর পরে খুলবে কেউ জানে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

জীবনের প্রাপ্তি কি?
প্রশ্নের মূখে নিজেকে বড়ই অসহায় মনে হয়!
কেঁচোর মতো গুটিয়ে যাই নিজের ভেতর!

ভাবনা তো ভার্চুয়াল
চেতনা তো অদৃশ্য
আসলেইতো! নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে হাঁপিয়ে উঠি!

সততা: দুর্বলতা হিসেবে প্রতিপন্ন
কৃচ্ছতা- ব্যার্থতার অনুফল হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জিজ্ঞাসা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪২



১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা দূর্নীতি করে ধনী হলো তাদের সরকার গ্রেফতার করছে না কেন?

২। চিপা গলির মধ্যে রাস্তায় অসংখ্য দোকানপাট, পুলিশ বা সিটিকরপোরেশন ওদের সরিয়ে দিচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাড়ফুঁকের নামে নারীদের ধর্ষণ করতেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৪৪


  উনি এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। এই কাঠমৌল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধু। এর আগেও এই মৌল্লা ঝাড়ফুঁকের নামে একাধিক নারীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু লোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীর্ষ শিল্পপতিদের মৃত্যু যেন অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নতুন সংকট বয়ে না আনে!

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫০

১।
মির্জা আব্বাসের কল্যাণে নুরুল ইসলাম বাবুল ভূমিদস্যু পরিচয় পেয়েছেন সত্য, তবে বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবাহান সহ বড় বড় ভূমিদস্যু বাংলাদেশে রাজার হালতেই আছে। শীর্ষ বেসরকারি ভুমিদস্যু বসুন্ধরা, ইস্টার্ণ, স্বদেশ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×