somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাঈনউদ্দিন মইনুল
উন্নয়ন ও মানবাধিকার কর্মী। শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্য কাজ করি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে কৌতূহলী।

কৃষ্ণাঙ্গদের খ্রিষ্ট: দীর্ঘ কারাভোগের পর প্রেজিডেন্ট হয়েও ক্ষমতার লোভে পড়েন নি ম্যান্ডেলা

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৯৯ সালে যখন প্রেজিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়, তখন তিনি দ্বিতীয়বার আর ক্ষমতা নিতে রাজি হন নি। থাবো এমবেকি’র হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রতিজ্ঞা ছিলো, তিনি একবারই প্রেজিডেন্ট হবেন দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন। ক্ষমতায় এসে পূর্বে-দেওয়া কোন প্রতিশ্রুতির কথা কে কবে মনে রেখেছে?

প্রেজিডেন্ট পদ থেকে অবসর নেবার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তবু সাধারণ মানুষের নয়নের মণি হয়ে রইলেন ‘মাদিবা’ ম্যান্ডেলা। মানবাধিকার, বিশ্ব শান্তি এবং এইডস প্রতিরোধের পক্ষে কাজ করে যাবার নতুন প্রতিজ্ঞা নিলেন তিনি।

নতুন প্রতিজ্ঞার পেছনে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত বেদনার কথা। তার এক পুত্র মাদিবা থেমবেকি ঊনষাট সালেই গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। অবশেষে ২০০৫ সালে তার একমাত্র জীবিত সন্তানটি মরণব্যাধি এইডস-এর মারা যান ৫৫ বছর বয়সে।

রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত উভয় জীবনেই ম্যান্ডেলা অনেক হারিয়েছেন এবং নিজেও হেরেছেন। তার বিখ্যাত উক্তিটির মতো প্রতিবারই তিনি ওঠে দাঁড়িয়েছেন। এখনও দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের সামনে এক নিশ্চয়তার পর্বত হয়ে!

২০০৪ সালে তিনি আরেকবার অবসর নেন তারই বাইরের জীবন থেকে। এই অবসর হলো, নিজের পরিবারের মানুষগুলোকে সময় দেবার জন্য। তিনি তখন তার ভক্তদেরকে বলেছিলেন, “আর আমাকে ডেকো না – আমি এবার তোমাদেরকে ডাকবো।” তবু তার অবসর নেওয়া হয় নি। অবশেষে তিনি এমন অবসর নিলেন, যখন আর কেউ কাউকে আর ডেকে পাবে না। শ্রদ্ধাঞ্জলি!




কৃষ্ণাঙ্গদের খ্রিষ্ট ম্যান্ডেলা যখন মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসলেন, তখন শব্দনীড়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ‘শকুনেরা অপেক্ষায় আছে’ শিরোনামে । আজ বসে ভাবছিলাম, কী দরকার লিখে, কী হবে তাকে নিয়ে লেখলে? গান্ধি, মার্টিন, তেরিজা, বঙ্গবন্ধু, আতাতুর্ক, আরাফাত – তাদের নিঃস্বার্থ অবদানকে কতটুকু কাজ লাগিয়েছিলাম আমরা? শতাব্দির প্রতিনিধি, জীবনের চেয়েও মহান আদিবা ম্যান্ডেলাকে নিয়ে লেখলে কী হবে আমাদের? লেখা তো কম হয় নি, বলা তো কম হয় নি! শুধুই জেনারেল এর পর জেনারেল: কূটকৌশলী রাজনীতিবিদ পেয়েছি। এরপর তো আর নেতা পেলাম না প্রিয় বাংলাদেশে? ম্যান্ডেলার দৃষ্টান্ত বুঝার বা তার মতো গণমানুষের নেতা বা বিশ্বনেতার হবার মতো ত্যাগী রাজনীতিক কি এদেশে এখন আছে? যদি থাকতো, তবে কেন অসহায় মানুষগুলো আজ রাস্তায় বের হতে ভয় পায়? কেন দিনমুজুরেরা তাদের মেহনত করার অধিকারটুকু আজ পাচ্ছে না? তবে কি বাংলাদেশ নেতাশূন্য হয়ে আচে? ম্যান্ডেলার মতো আকাশ-সমান নেতাদের আলোচনা আসলেই, নিজ দেশের রাজনীতির প্রতি ধিক্কার আসে।

‘শকুনেরা কেন অপেক্ষা করছিলো গতবছর?’ তারা চেয়েছিলো কত তাড়াতাড়ি এবার অসুস্থ ম্যান্ডেলা মারা যাবেন, আর কত তাড়াতাড়ি তারা নিউজ ব্রেইক করবে! ম্যান্ডেলা মৃত্যুর আগে থেকেই পৃথিবীকে প্রস্তুত করছিলেন গত দু’বছর ধরে। হয়তো তিনি জানতেন হঠাৎ মৃত্যু তা যতই স্বাভাবিক হোক, পৃথিবীর মানুষগুলো তা মেনে নিতে পারবে না। তবুও মাত্র একজন মানুষের মৃত্যু সমগ্র বিশ্বকে একসাথে স্তম্ভিত করে দিলো। সারা পৃথিবী শোকাগ্রস্ত। মৃত্যু তার হবেই, কিন্তু তবুও যেন মানুষগুলো আজ নিঃস্ব। অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা হিসেবে কিংবা বর্ণবাদ বিরোধী বৈশ্বিক প্রতিবাদের আইকন হয়ে কিংবা কালো মানুষের যীশু হিসেবে মাদিবার নাম কি কেউ মুছে দিতে পারবে?



//কালো কালো মানুষের দেশে
ওই কালো মাটিতে
রক্তের স্রোতের শামিল
নেলসন ম্যান্ডেলা তুমি
অমর কবিতার অন্ত্যমিল //


এদেশে ম্যান্ডেলাকে নিয়ে গান হয়... মিছিল সমাবেশ হয়... শুধু প্রয়োগ হয় না।

তাকে নিয়ে লেখলেই কী না লেখলেই কী।
জানে তো সবাই, মানে তো না!




------------------------------------------------------------------------
*ছবি ও তথ্য ইন্টারনেট থেকে।
**টাইমলাইন: নেলসন রুহিহ্লাহ্লাহ ম্যান্ডেলা ।
*** ম্যান্ডেলার খেতাবের শেষ নেই। ‘কালো মানুষের যীশু’ না বলে আমি বললাম ‘কৃষ্ণাঙ্গদের খ্রিষ্ট’।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:২০
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×