আমার বিদেশী বন্ধুরা যখন বলতো 'তুমি কী পোস্ট দাও, শুধু বক্স দেখায়?' আমি তখন বেশি গুরুত্ব দিতাম না। মনে করতাম, এটি তাদের কম্পিউটারের সমস্যা। গত দু'বছরে ইংরেজিতে কোনকিছু লেখা প্রায় বাদ দিয়েছি। কী ফেইসবুক, কী ব্লগ - সবখানে বাংলা।
তিন বছর পর দেশের বাইরে এসে প্রথম ধাক্কাটি খেলাম ফেইসবুক থেকে। পেইজ খুলেছে, কিন্তু কিছুই পড়া যাচ্ছে না। আমার সবগুলো পোস্ট অস্পষ্ট সব বক্সে ঢেকে আছে। ফেইসবুকে যেসব বন্ধুর প্রোফাইল নাম বাংলায়, তারাও অপরিচিত হয়ে গেলো! শুধু ছবি দিয়ে চিনতে হচ্ছে। প্রথম আলো পত্রিকায় ক্লিক করলাম, একই অবস্থা! বাংলা ফন্ট ডাউনলোড না করলে বাংলায় লেখা কোন কনটেন্টস পড়া যাচ্ছে না। তাহলে ইউনিকোডের কী সুবিধা আমরা পেলাম?
অবশেষে সামুতে এসে বিস্ময় আনন্দে পরিপূর্ণ হলাম। 'বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ' পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও! এখানে বাংলা পড়া যায়, বাংলায় লেখা যায়। অতিরিক্ত কিছু ডাউনলোড করতে হয় না। আমি যে কম্পিউটার থেকে এই পোস্ট লিখছি, এর সব এপ্লিকেশন অন্য ভাষার। এমনকি ইন্টারনেটের ইন্সট্রাকশনগুলোও ভিনদেশি। (ইংরেজিকে ইন্টারনেটে আর ভিনদেশি মনে হয় না।)
সুন্দর দু'টি লেখা স্টিকি হয়ে আছে সামু'র নির্বাচিত কলামের ওপর। নোটিশ বোর্ডে আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে ব্লগারদের জন্য। ইত্তেফাকের হোমপেইজে আগে থেকেই সামু'র নির্বাচিত কলামের ৪/৫ টি পোস্ট দেখা যেতো। এখন থেকে ব্লগারদের লেখা আরও প্রচার পাবে এবং বিশেষ কিছু লেখা প্রিন্ট মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। এটি ব্লগারদের জন্য বিরাট বড় সংবাদ। কর্তৃপক্ষ ভালো নেটওয়ার্কিং করছেন, বুঝা যায়। আমরা চাই, সামহোয়ারইন ব্লগ যেমন জৈষ্ঠ্য ব্লগসাইট, তেমনি তার জৈষ্ঠ্যতা ধরে রাখুক গতিশীল নেতৃত্ব এবং সময়োপযোগী ও কার্যকর সঞ্চালনা দিয়ে।
ওষুধের চেয়েও দরকারি হলো খাদ্য, কারণ আমরা খেয়ে বেঁচে থাকি; ওষুধ খাই কেবল অসুখ হলে। জীবন রক্ষাকারী খাবারের প্রস্তুত ও সরবরাহে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগ নিচ্ছে চিরকালের ভেজাল ও লোভী ব্যবসায়ীরা। এসব বিবেকহীন ব্যবসায়ীরা কীভাবে বারবার রক্ষা পেয়ে বারবার ফিরে আসে, আমরা সেটি জানি না। জানতে চাই-ও না। আমরা চাই নিরাপদ খাবার। যথাযথ মূল্য পরিশোধ করার পর নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন খাবারটি খেতে পাওয়া আমাদের ন্যায্য অধিকার। সহব্লগার কাণ্ডারি অথর্বের অনুসন্ধানী পোস্টটি যেমন 'নাগরিক সাংবাদিকতার' চমৎকার দৃষ্টান্ত, তেমনি সময়োপযোগী।
পড়তে চাইলেও প্রিয় লেখাগুলো পড়ার সুযোগ পাচ্ছি না। তাহলে, বেড়ানোর সময় পাবো কই! যা হোক, সকলকে আসন্ন উৎসবের শুভেচ্ছা দেবার জন্য এই পোস্ট। উৎসবের পরই ফিরে আসবো চিরচেনা শহর, ঢাকায়! ফিরে আসবো প্রিয় কর্মজীবনে। একই পরম্পরায় ফিরে আসবো সহব্লগারদের কাছে। ফিরে এসে সাধ্যমতো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। সকলকে পবিত্র দিনের আগাম শুভেচ্ছা! উৎসবের আনন্দে সকলেই মাতুন!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




