
দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সন্ধাবেলা রাস্তা থেকে একটি ‘পথশিশুকে’ দেখে দয়াপরবশ হয়ে তুলে নিলেন নিজ বাসায়। আবেগপ্রবণ হয়ে গদগদ কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন, “ওগো, দেখো ছেলেটিকে আমি রাস্তায় পেলাম। দেখো, কত অসহায় ছেলেটি!” দার্শনিক শব্দটির সংজ্ঞা তার মধ্যে আরও শক্তভাবে আরোপিত হয়, যখন তার স্ত্রী দু’একটি অতিপ্রচলিত ‘মিনসে টাইপের’ গালি দিয়ে তাকে বলেন, “আহ, মরণ! এতো তোমারই ছেলে। তুমি রাস্তায় কীভাবে পেলে! তুমি কি কখনও তোমার সন্তানদের চিনবে না?”
দর্শন হলো বুদ্ধিমত্তা সহকারে জীবনের দুঃখকে বেছে নেবার বিদ্যা। দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি জীবনের মানে অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিজের সংসারের মানেটাই গেলেন ভুলে। অথবা জীবন সম্পর্কে খবর বের করতে গিয়ে তারা নিজেই ‘খবর’ হয়ে গেলেন।
শ্রোতার শুনতে পারা বা বুঝতে পারাটা আপেক্ষিক ব্যাপার। তারা কেবল হুঁ-হাঁ করে যেতে পারলেই হয়। সেটিও না পারলে, নিশ্চুপ থাকা আরও উত্তম। তাতে বক্তার কিছু যায় আসে না। দার্শনিক হলেন তিনি, যিনি অন্যের ঘুমের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ শুনানোটাই বড় বিষয় নয়, বলতে পারাটাই মুখ্য। ব্লগীয় রীতিতে বলা যায়, পাঠক পাওয়াটাই বিবেচ্য নয়, প্রকাশিত পোস্ট/বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারাটাই অগ্রগণ্য।
অথচ নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে পারেন তারা সকলের আগে। হয়তো একদিন আপনার কাছে স্বীকার করলেন, ‘আমার মুখটি যেন প্যান্টের জিপার। যতক্ষণে বুঝতে পারলাম এটি খোলা, ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে!’
অন্যের কাছে ধার পরিশোধের ক্ষেত্রে দার্শনিকেরা বরাবরই পিছিয়ে। সক্রেটিসের কথা খেয়াল আছে? হেমলক পান করার পর তার মনে পরলো যে, প্রতিবেশীর কাছে তার একটি মুরগি দেনা আছে। রহস্যটি হলো ঠিক এরকম: ‘যদি মনে করেন, আপনি বাঁচেন বা মরেন তাতে কারও কিছু যায় আসে না, তবে ধার আটকে দিতে শুরু করুন।’ অর্থাৎ দেনা পরিশোধে বিলম্ব করুন। দেখুন, আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী কীভাবে বেড়ে যায়!
দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সবকিছুকে আলাদাভাবে দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসেন। যেমন ধরুন সিগারেটের কথা। তিনি বললেন, ‘সিগারেট হলো কাগজ দিয়ে মোড়ানো কয়েক চিমটি তামাক, যার এক পাশে থাকে আগুন, অন্য পাশে এক বোকা।’ অথবা বললেন, ‘পায়ুপথে বায়ু বের হয় না যারা বলে, তারা আসলে তপ্ত বায়ুতে পূর্ণ একেকটি প্রাণী।’ (আহা, গ্যাস্ট্রিকের রোগীর জন্য এটি কতই না সত্য!) অথবা একটি সাদামাটা বিষয়কে গম্ভীর করে দিয়ে গম্ভীরতর কণ্ঠে তিনি হয়তো বলে ওঠলেন, ‘অনেক মানুষ কাজ পাবার পর আর কাজ খুঁজে না।’ অথবা বলে ওঠলেন, ‘চিরকুমার হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি একই ভুল একবারও করেন নি।’
দার্শনিকেরা যেমন হালকা বিষয়কে গম্ভীর করে তোলেন, তেমনি গম্ভীর বিষয়কে করে তোলেন আপত্তিজনকভাবে হালকা। জীবন কত রহস্যময় এবং গভীর তত্ত্বে পরিপূর্ণ, তাই না? অথচ জীবন সম্পর্কে তিনি বলে ওঠলেন, ‘জীবন যেন এক রোল টয়লেট পেপার: যেমন দরকারি, তেমনি দীর্ঘ!’
দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, ঘটনার গভীরে যার দৃষ্টি। ধরুন, কোন যুবক এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
-স্যার, একটি বিষয় আমি বুঝি না। ছেলে এবং মেয়ে একসাথে ঘুমালে কেন তাতে অন্যেরা আপত্তি করে?
-মেয়ে আর ছেলে একসাথে ঘুমালে কিছুই হয় না এবং আমি তাতে আপত্তি করার কিছুই দেখি না।
-তবে অন্যেরা কেন সেটিকে মেনে নেয় না? সমস্যাটি আসলে কোথায়? যুবকের প্রশ্ন।
-সমস্যা হলো যুবকদের নিয়ে: এরা তো কেবল ঘুমায় না! দার্শনিকের উত্তর।
সকলকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা, হ্যাপি নিউইয়ার!
•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ৩
•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ২
•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ১
——————–
[লেখাটি নিতান্তই মজা করার জন্য। ছবি ইন্টারনেট থেকে। প্রথম ও শেষ কৌতুকদ্বয় সংগৃহীত। পোস্টটি বন্ধ হওয়া ব্লগ থেকে স্থানান্তরিত।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

