somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাঈনউদ্দিন মইনুল
উন্নয়ন ও মানবাধিকার কর্মী। শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্য কাজ করি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে কৌতূহলী।

কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ৪: দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি...

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সন্ধাবেলা রাস্তা থেকে একটি ‘পথশিশুকে’ দেখে দয়াপরবশ হয়ে তুলে নিলেন নিজ বাসায়। আবেগপ্রবণ হয়ে গদগদ কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন, “ওগো, দেখো ছেলেটিকে আমি রাস্তায় পেলাম। দেখো, কত অসহায় ছেলেটি!” দার্শনিক শব্দটির সংজ্ঞা তার মধ্যে আরও শক্তভাবে আরোপিত হয়, যখন তার স্ত্রী দু’একটি অতিপ্রচলিত ‘মিনসে টাইপের’ গালি দিয়ে তাকে বলেন, “আহ, মরণ! এতো তোমারই ছেলে। তুমি রাস্তায় কীভাবে পেলে! তুমি কি কখনও তোমার সন্তানদের চিনবে না?”

দর্শন হলো বুদ্ধিমত্তা সহকারে জীবনের দুঃখকে বেছে নেবার বিদ্যা। দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি জীবনের মানে অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিজের সংসারের মানেটাই গেলেন ভুলে। অথবা জীবন সম্পর্কে খবর বের করতে গিয়ে তারা নিজেই ‘খবর’ হয়ে গেলেন।


শ্রোতার শুনতে পারা বা বুঝতে পারাটা আপেক্ষিক ব্যাপার। তারা কেবল হুঁ-হাঁ করে যেতে পারলেই হয়। সেটিও না পারলে, নিশ্চুপ থাকা আরও উত্তম। তাতে বক্তার কিছু যায় আসে না। দার্শনিক হলেন তিনি, যিনি অন্যের ঘুমের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ শুনানোটাই বড় বিষয় নয়, বলতে পারাটাই মুখ্য। ব্লগীয় রীতিতে বলা যায়, পাঠক পাওয়াটাই বিবেচ্য নয়, প্রকাশিত পোস্ট/বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারাটাই অগ্রগণ্য।

অথচ নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে পারেন তারা সকলের আগে। হয়তো একদিন আপনার কাছে স্বীকার করলেন, ‘আমার মুখটি যেন প্যান্টের জিপার। যতক্ষণে বুঝতে পারলাম এটি খোলা, ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে!’


অন্যের কাছে ধার পরিশোধের ক্ষেত্রে দার্শনিকেরা বরাবরই পিছিয়ে। সক্রেটিসের কথা খেয়াল আছে? হেমলক পান করার পর তার মনে পরলো যে, প্রতিবেশীর কাছে তার একটি মুরগি দেনা আছে। রহস্যটি হলো ঠিক এরকম: ‘যদি মনে করেন, আপনি বাঁচেন বা মরেন তাতে কারও কিছু যায় আসে না, তবে ধার আটকে দিতে শুরু করুন।’ অর্থাৎ দেনা পরিশোধে বিলম্ব করুন। দেখুন, আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী কীভাবে বেড়ে যায়!


দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সবকিছুকে আলাদাভাবে দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসেন। যেমন ধরুন সিগারেটের কথা। তিনি বললেন, ‘সিগারেট হলো কাগজ দিয়ে মোড়ানো কয়েক চিমটি তামাক, যার এক পাশে থাকে আগুন, অন্য পাশে এক বোকা।’ অথবা বললেন, ‘পায়ুপথে বায়ু বের হয় না যারা বলে, তারা আসলে তপ্ত বায়ুতে পূর্ণ একেকটি প্রাণী।’ (আহা, গ্যাস্ট্রিকের রোগীর জন্য এটি কতই না সত্য!) অথবা একটি সাদামাটা বিষয়কে গম্ভীর করে দিয়ে গম্ভীরতর কণ্ঠে তিনি হয়তো বলে ওঠলেন, ‘অনেক মানুষ কাজ পাবার পর আর কাজ খুঁজে না।’ অথবা বলে ওঠলেন, ‘চিরকুমার হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি একই ভুল একবারও করেন নি।’


দার্শনিকেরা যেমন হালকা বিষয়কে গম্ভীর করে তোলেন, তেমনি গম্ভীর বিষয়কে করে তোলেন আপত্তিজনকভাবে হালকা। জীবন কত রহস্যময় এবং গভীর তত্ত্বে পরিপূর্ণ, তাই না? অথচ জীবন সম্পর্কে তিনি বলে ওঠলেন, ‘জীবন যেন এক রোল টয়লেট পেপার: যেমন দরকারি, তেমনি দীর্ঘ!’


দার্শনিক হলেন সেই ব্যক্তি, ঘটনার গভীরে যার দৃষ্টি। ধরুন, কোন যুবক এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
-স্যার, একটি বিষয় আমি বুঝি না। ছেলে এবং মেয়ে একসাথে ঘুমালে কেন তাতে অন্যেরা আপত্তি করে?
-মেয়ে আর ছেলে একসাথে ঘুমালে কিছুই হয় না এবং আমি তাতে আপত্তি করার কিছুই দেখি না।
-তবে অন্যেরা কেন সেটিকে মেনে নেয় না? সমস্যাটি আসলে কোথায়? যুবকের প্রশ্ন।
-সমস্যা হলো যুবকদের নিয়ে: এরা তো কেবল ঘুমায় না! দার্শনিকের উত্তর।



সকলকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা, হ্যাপি নিউইয়ার!





•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ৩
•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ২
•কৃত্রিম উপায়ে হাসুন ১


——————–
[লেখাটি নিতান্তই মজা করার জন্য। ছবি ইন্টারনেট থেকে। প্রথম ও শেষ কৌতুকদ্বয় সংগৃহীত। পোস্টটি বন্ধ হওয়া ব্লগ থেকে স্থানান্তরিত।]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৩৪
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×