কিছু কিছু মানুষ আছে যাদেরকে দেখলে মনে মনে বলি, "কখনও কি আয়নাতে মুখ দেখো না?" তারা যে কেমন, সেটি নিজেরাও জানে না। নেতিবাচক বিষয় নিয়ে নিজের অজ্ঞ থাকাটা নিজের জন্য ভালো নয়। কিন্তু আমি বলছি ইতিবাচক দিকগুলোর কথা। কোন ব্যক্তি যদি তার নিজের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে অসচেতন থেকে প্রাকৃতিক নিয়মেই সেগুলোকে বাড়িয়ে তোলে, সেটি দেখতে খুবই ভালো লাগে।
আমার একজন সুহৃদ আছে। প্রবাসী। ব্লগেই তার সঙ্গে পরিচয়। সে আমার লেখার অন্ধ ভক্ত। অন্ধ ভক্ত বলছি এজন্যে যে, সবসময় আমার লেখার প্রশংসা করে। সে কোন না কোনভাবে আমার লেখার ভালো দিকগুলোকে খুঁজে বের করবে। সেগুলোকে নিয়ে আকাশ সমান প্রশংসায় সে আমাকে ভাসিয়ে দেবে। হয় ব্লগ পোস্টে, নতুবা ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেবে তার মনের কথা। তার কথায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করি। নিজের লেখাগুলোতে চোখ বুলিয়ে প্রশংসার সত্যতা যাচাই করি। কী সঞ্জীবনী শক্তি আছে তার মন্তব্যে! অনেক বড় মনে হয় এই 'সাধারণ আমাকে'। এত শক্তি প্রশংসায়, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
সেই সুহৃদ প্রবাসে যে খুব সুখে থাকে, তা আমি জানি না। কথাবার্তায় বুঝা যায়, অনেক সংগ্রামী তার জীবন। মনে তার অনেক কথা জমা হয়ে থাকে। প্রাত্যাহিক জীবনের খুঁটিনাটি সে আমাকে বলে না; আমিও জানার প্রয়োজন বোধ করি না।
তার যে গুণটি আমাকে মুগ্ধ করে, সেটি মানুষের মধ্যে বিরল। সে নিজেও তা জানে না। সে নিজের দুর্বলতা অকপটে প্রকাশ করতে পারে। মানুষ হিসেবে নিজের ভুলগুলোকে সে নির্দ্বিধায় বলে ফেলে। আমি যে তাকে নীচু শ্রেণীর মনে করতে পারি, এবিষয়ে সে চিন্তিত নয়। কিছু বিষয় আছে, যা প্রকাশ করলে তার ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা প্রকাশ পায়, সেগুলোও সে বলে ফেলে। আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, তাতে তার প্রতি আমার মোটেও আগ্রহ কমে না, বরং শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে সে কত সজাগ!
সত্যিই দুর্বলতাগুলো তার মধ্যে আছে, নাকি সেগুলো তার নেতিবাচক চিন্তার ফল, তা জানি না। কিন্তু সে যে আন্তরিকভাবেই কথাগুলো বলছে, তাতে আমার কোন সন্দেহ থাকে না।
আমার মতো অর্বাচিন মনে করে, মানুষের সততার উত্তম দৃষ্টান্ত হলো নিজেকে সত্যিকারভাবে বিচার করতে পারা। আত্মমূল্যায়ন। টাকা নয়, পয়সা নয় - নিজের বিচার করার সততাই সততার এক নম্বর প্রমাণ। নিজের গুণ নিয়ে মানুষ কতই না ঢোল পেটায়! এই বিরল গুণটি তার আছে, অথচ সে তা জানে না! সততাই মানুষের সম্পদ। আমি মনে মনে মুগ্ধ হই তার এই অমূল্য সম্পদটির জন্য। আমার খুব তৃষ্ণা হয়, তার মতো সরলতার অমৃত পান করতে। সে কীভাবে এই আলো পেলো? আমি ভেবে অস্থির হই।
ঠিক একই কারণে এই লেখা পড়লেও, সে বুঝতে পারবে না এটি তার উদ্দেশ্যে লেখা! নিভৃতাচারী সেই সুহৃদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করার জন্য এই লেখা। কবি হলে হয়তো অনেক রূপক উপমা আর শব্দের মালা দিয়ে তাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিতে পারতাম। কিন্তু কবিত্বের জন্য তো আর বসে থাকা যায় না! আজ তার সম্পর্কে বলে নিজের মনকেই আলোকিত করছি। কিছুটা আত্মতৃপ্তিও নিচ্ছি।
প্রবাসী সুহৃদকে আজ আমি বলতে চাই, এই মহৎ গুণের কারণে তুমি একদিন অনেক উঁচুতে ওঠবে। জানি না সেটি গড়পরতা মানুষগুলো কোনদিন পরিমাপ করতে পারবে কিনা, কিন্তু যারা তোমার মতো মহৎ থাকতে চায় বা হতে চায়, তারাই এর মূল্যায়ন করে তোমাকে পুরষ্কৃত করবে জেনো। অতএব, এগিয়ে চলো বন্ধু! সকল মঙ্গল তোমার সঙ্গেই আছে।
------------------------------------
পুনশ্চ: মানুষ ও মানুষের কর্ম সম্পর্কে যে এত ইতিবাচক, সে কেন নিজের সম্পর্কে এতো কঠোর, বিষয়টি আমাকে চিন্তিত করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




