চিত্র১
ছেলেটার যেন কি হয়েছে।অনেক রাত জাগে আর কি যেন ভাবে।তার কোন কাজে মনোযোগ নেই।ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকে।
চিত্র২
মেয়ে:ধুর কিছুই ভাল লাগে না...
-কেন?
নাহ। জানি না।
এমনই!
সত্যি।
এখনকার ছেলে মেয়েরা প্রায়শই এমনটা করে ও বলে।তাদের অনেক দুঃখ আছে।এমন ভাব যেন সব কিছু শেষ হয়ে গেল। কিন্তু কেন হচ্ছে।কি জন্য।তার দুঃখের কারনটা কি সেই সঠিক ভাবে বলতেই পারে না।
এক গবেষণায় দেখা গেছে ফেসবুক ব্যবহার করে এমন মানুষের সংখ্যা দিনিদিন বেড়েই চলেছে।আর তার সাথে অনেক সময় ধরে তা ব্যবহার করা।
২০১৪সালে Journal Computer in Human Behavior বলা হয়,
মাত্রা অতিরিক্ত অন্যের সুখের স্ট্যাটাস, ছবি,কোন জায়গায় বেড়ানোর ছবি,পারিবারিক ছবি,চেক ইন,খাবার ইত্যাদি মানুষের মধ্যে lower satisfaction তৈরী করে।
কারন একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার সাথে অন্যের তুলনা করে অবচেতন মনে।সে তো অনেক সুখে আছে,ভাল আছে, আমি হয়ত নেই--এমন মনোভাবের সৃষ্টি করে।
তার সাথে সাথে মনের গহীনে বন্ধুদের প্রতি একটা হিংসা তৈরী করে যা পরবর্তীতে হতাশা ও গভীর দুঃখবোধের পথ বাতলে দেয়।
আচ্ছা ধরে নিলাম তারা দুখী হল,হতাশাগ্রস্থ হল কিন্তু তারাই আবার পরদিন ফেসবুকে ফিরে আসে।এটা কে বলা হচ্ছে Affective Forecasting। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ভাবে যে হয়ত পরদিন তাদের জন্য ভাল কিছু আছে।কিন্তু না। এই আশাটায় মনের অজান্তে সুখকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।যার শেষ ফলাফল emotional decline। যা কিনা internet এর অন্য মাধ্যমগুলোর তুলনায় ফেসবুকে বেশী হয়।
আবার কিছু মানুষ আছে এমন যে সামনাসামনি তেমন কথা বলে না,পারে না বা সংকোচবোধ করে। কিন্তু তারাই ঠিকই ফেসবুকে নানান স্ট্যাটাস দেয় ও কথা বলে।যার ফলে natural interaction টা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।Communication gap চলে আসে।সে অপরাধবোধে ভুগে।
Krafsky(2010) কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারীর উপর গবেষনা চালান ও বই প্রকাশ করেন Facebook and Your Marriage. সেখানে তিনি প্রেমিক প্রেমিকা ও স্বামী স্ত্রীর কলহ,সন্দেহ প্রবণতাটা তুলে ধরেন।সেখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই খারাপ সম্পর্কের মাত্রাটা বেশী পান।
এবার আসি showOff এর ব্যপারটা।
Eli Pariserin বলেন মানুষ showoff করার মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক কে বেছে নিয়েছে।আর showoff বিষয়টি একজন ব্যক্তির insecurity feelings এর বহিঃপ্রকাশ। আমাকে জানুক বুঝুক আমাকে ভাল বলুক এইগুলো ঐ ব্যক্তিটি চায়।
যা অবচেতন ভাবেই গড়ে উঠছে।
অবশেষে,
প্রতিটি বিষয়েরই ভাল ও খারাপ দিক আছে।কোন কিছুই অতিরিক্ত ভাল নয়।আর সব সময় মনে রাখতে হবে ফেসবুকের নানা বিষয়ের সাথে নিজেকে তুলনা করা উচিত নয়।আর নিজেকে তুলনা করতে চাইলে গতকালকের আপনির সাথে আজকের আপনির তুলনা করুন।
তাহলে অনেকাংশেই কমে আসবে ভাল লাগগে না রোগটা।
হয়ত আপনার ফেসবুকে হাজার শত শত বন্ধু আছে।কিন্তু দিনশেষে ঐ আপনার বাবা মা ভাই বোনই হল সব।
ফেসবুক বন্ধুদের হয়ত সুখের সময় পাওয়া যাবে।কিন্তু চরম মুহুর্ত গুলোতে আপনার পরিবারই সব।
তাই পরিবারকে বেশী সময় দিন।প্রকৃতির সাথে বেশী মিশুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



