somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্যাডিজম একালের কোন অন্ধকার দর্শন নাকি মানুষের নতুন কোন বিকৃত ধর্ম, যদিও এটি একটি পার্সোনাল ডিসঅর্ডার

১১ ই মে, ২০১৯ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই বেশিদিন নয় গত সপ্তাহে হবে হয়ত। আমি এমনিতেও হিন্দি বা তেলেগু মুভি কম দেখি। মহেশবাবুর স্পাইডার মুভিটা হুট করেই দেখছিলাম। আমার একটা প্রিয় টপিক ছিলো হিউম্যান ইঞ্জিনিয়ারিং। ওই যে সেটাই যেটাকে আমরা কারো মনের তথ্য সংগ্রহ করতে যা করি আর কি। যদিও অনেক জটিল বিষয়। সে যাই হোক। মুভিটায় প্রথম দিকেই দুটো খুন হয় মেরে ফেলার ধরনটা এমন ছিলো তাদের মেরে টুকরো টুকরো করে একসাথে মিশিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমে ভাবছিলাম মুভিটা আর দেখবো না। পরে একটা মেয়ের ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার দেখে মুভিটা দেখি। এমুভি দেখার সময় আমার Final destination 5 মুভির কথা মনে হচ্ছিল তাই আমি আর দেখতে চাইছিলাম না। কোন এক অজানা কারণে আমি Final destination 5 দেখতে পারি না। তারপর হুট করেই মাথায় স্যাডিজমের ব্যাপারটা ঘুরপাক খাচ্ছিলো। যদিও সেখানে ভিলেনকেও স্যাডিস্টই দেখানো হয়। কাল ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার ঘটনাটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছিলো।

স্যাডিস্ট হলো তারাই যারা অন্যদের কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়। মনোবিজ্ঞানে এটি মনোরোগের আওতায় পড়ে।
মজার ব্যাপার হলো এ রোগে আক্রান্ত প্রচুর মানুষ পৃথিবীতে বিদ্যামান। যদিও দূর্ঘটনার পূর্বে এ রোগ চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব। দশটা মানুষের মত তাদেরও চলাফেরা স্বাভাবিক। হুট করে আমার এটাকে অন্ধকার দর্শন বলা ঠিক না ভুল আমি সে বিষয়ে জ্ঞান কপচাতে আসি নি। দর্শনে জগৎ, জীবন, মানুষের সমাজ, জ্ঞানের পরিধি আলোচনা করা হয়। মানুষের চেতনার বিকাশে একটা স্তরে মানুষ তার পরিবেশ সম্পর্কে চিন্তা করে। ঠিক এই চিন্তাধারাতেই যদি মানুষ তার আনন্দ অপরকে কষ্ট দিতে পায়। কিংবা এই আনন্দের মাত্রা যদি কাউকে খুন করে কিংবা সম্প্রদায়কে খুন করে তাহলে কি আমাদের উচিত না এই স্যাডিস্টদের আলাদা দলভুক্ত করা। এরা অনেকটা বিভিন্ন ধর্ম থেকে এসে নিজেরা নিজেদের মতাদর্শে বিশ্বাসী থাকে। কিন্তু এদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে অন্যকে কষ্ট দেয়ায় আনন্দ লাভ করা। তাহলে এরাও একটা নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে দলভুক্ত। হতে পারে সেটা ISIS, হতে পারে কোন শেতাঙ্গ উগ্র সম্প্রদায় যারা বিভিন্ন ধর্ম থেকে এসে নিজেরা একটা ধর্মের মত মতবাদ তৈরি করেছে।

তাহলে এই স্যাডিস্টদের চেনার উপায় কি?
বাকেল'স এবং তার দল Short Sadistic Impuls Scale (SSIS) নামে একটি স্কেল ব্যবহার করেছিলো। যদিও এই ধরনের টেস্ট করার আগে কয়েকটি স্টেপ ফলো করা লাগে। এরপর কিছু কোশ্চিন থাকে।

কোশ্চিনগুলো নিম্নরূপ:

10 questions from the SSIS. Each one is rated simply as “describes me/this person” or “does not describe me/this person”:

1.I enjoy seeing people hurt.

2.I would enjoy hurting someone physically, sexually, or emotionally.

3. Hurting people would be exciting.

4. I have hurt people for my own enjoyment.

5.People would enjoy hurting others if they gave it a go.

6.I have fantasies which involve hurting people.

7.I have hurt people because I could.

8. I wouldn’t intentionally hurt anyone.

9.I have humiliated others to keep them in line.

10.Sometimes I get so angry I want to hurt people.

এই প্রশ্নে যেগুলো উত্তর হ্যা হবে সেগুলো যোগ করে এর স্কোর বের করতে হবে। তবে বয়সের রেঞ্জ হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ এবং শিক্ষিত ব্যক্তি। যদি স্কোর চার হয় তাহলে এটা স্বাভাবিক কিন্তু যদি চার থেকে পাঁচ কিংবা তার বেশি হয় আপনি স্যাডিস্টদের অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং মাত্রাও বেশি হবে।

আমি বলছি না এটা পুরো পুরি সত্য কিন্তু ইদানিং কালে হালের COC, PUBG মতো গেমও স্যাডিজম তৈরী করছে কি না আমাদের ভেবে দেখা উচিত। আমি শুধু একটা ধারণার প্রেক্ষিতে নিজের অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান শেয়ার করলাম। যদি এথেকে আপনার মনে কিছুটা ধাক্তা দেয়ার বৃথা চেষ্টা এর বেশি কিছু নয়। এর ওপর পর্যাপ্ত আর্টিকেলও নেই। যা আছে অনেকগুলোই সেক্সুয়াল ডিসফাংশন রিলেটেড। জানামতে ২০১৭সালে এ নিয়ে একটা রিসার্চ হয়েছিলো এর বেশি কিছু পড়েছি কিংবা সময় হয়ে ওঠে নি পড়ার মত। হুট করেই আমার চিন্তায় এর অবকাশ। আমার কাছে এটা একটা as part of the human experience.
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৯ দুপুর ২:১০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×