somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নির্জন শাহরিয়ার
নিজের সম্পর্কে লিখার মত অত বড় দার্শনিক হয়নি। সহজ, মুক্তচিন্তা, স্বাধীনচেতা, পরোপকারী, ন্যায় ও সুন্দরের পূজারী

পুলিশ হেফাজতের নামে ধর্ষণ! রক্ষকই এখন ভক্ষক।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ভুল পথে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চলে আসে ছোট্ট মেয়েটি। সন্ধ্যা হয়ে আসায় রাস্তার পাশে বসে কাঁদছিল সে। নিরাপত্তার কথা ভেবে স্থানীয় লোকজন তাকে তুলে দেয় পুলিশের হেফাজতে। কিন্তু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা পরের দিন আদালতে হাজির না করে তাকে তিন দিন থানায় আটকে রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। হুমকির মুখে প্রথমে আদালতকে না জানালেও কারা হেফাজতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ফাঁস হয়ে যায় কিশোরী মেয়েটির ওপর বর্বর নির্যাতনের কথা।

গত ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় ঘটে এ বর্বরতা। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে গোবিন্দগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. তারিক হাসান মেয়েটির জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিমও গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওসির দাবি, মেয়েটির বাড়ির খোঁজখবর নিতেই তাকে দেরি করে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মেয়েটির বয়স ১৬ দাবি করা হলেও বাস্তবে আরো কম হবে বলে মনে করছেন কারাগারের কর্মচারীরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাস্তা নামক স্থানে ওই কিশোরীকে স্থানীয় লোকজন কান্নাকাটি করতে দেখে। সে ভুল পথে ফরিদপুর থেকে গাইবান্ধায় চলে আসে বলে জানায়। পরে লোকজনের অনুরোধে স্থানীয় ইউপি সদস্য থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই আকমল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ওই দিন রাতেই থানায় নিয়ে যায়। কিশোরীকে উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু কিশোরী পুলিশি হেফাজতে থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু এর পরও ওই দিন পুলিশ কিশোরীটিকে আদালতে হাজির করা থেকে বিরত থাকে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে পুলিশ কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। জানা গেছে, পুলিশের ভীতি প্রদর্শনের মুখে ওই দিন মিয়েটি আদালতে কিছু বলেনি। আদালত কিশোরীকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের একটি সূত্র জানায়, ১ অক্টোবর মঙ্গলবার কিশোরীটি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন কারাগারের জেলারসহ অনেকের কাছে মেয়েটি জানায়, গোবিন্দগঞ্জ থানায় আটক রেখে তিন পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে পরে বিষয়টি প্রশাসন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে গত ২ অক্টোবর বুধবার বিকেলে ওই কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি। দেরিতে পরীক্ষার ফলে আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি শেখ দেলোয়ার হোসেন প্রথমে কিশোরীটিকে উদ্ধারের পর বিলম্বে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা এবং তিন দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু পরে আইনি বাধ্যবাধকার বিষয়টি এই প্রতিনিধি তুলে ধরলে ওসি আগের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর নয়, তাকে ২৯ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে ওসি বলেন,‘আমার কাছে কেউ ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ করেনি। তাই কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।’দেরিতে আদালতে হাজির করার ব্যাপারে ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন,‘এটা একটা মিসিং কেস। মেয়েটির ঠিকানা বের করার জন্য আমরা সময় নিই। মেয়েটিকে আমরা ২৯ তারিখ ভোরে পাই। সে যে ঠিকানা দিয়েছিল, আমরা খোঁজখবর নিয়ে ওই ঠিকানার অস্তিত্ব পাইনি। ৩ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে নিখোঁজ সংবাদও প্রকাশ করি।’ ওসি দাবি করে বলেন, তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ছুটিতে যান।

ছুটি শেষে থানায় যোগ দেন ২ অক্টোবর। এরপর ওই দুই দিন থানার দায়িত্বে ছিলেন ওসি (তদন্ত) মেহেদি রাসেল। তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার থানায় ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি থানায় নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারে চলে গেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন এএসপি (হেডকোয়ার্টার) আব্দুল কুদ্দুস ও বি সার্কেল মাহবুব হোসেন। তাঁদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. আহাদ আলী জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। যখনই মেয়েটি আনা হবে, তখনই তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×