
ছবি আমার তোলা , আল সাইফ সমদ্র সৈকত । জেদ্দা
বুধবার ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে তিন প্রবাসী ভাইর সাথে রাস্তায় দেখা। একজন কাজ করে ভালো বেতনের একটি কোম্পানিতে বাকি দুইজন ৬০০ রিয়াল বতনের বলদিয়া ( পরিছন্ন কর্মী ) হিসেব জেদ্দায় কর্মরত। ভালো বেতন প্রবাসী সেই ভাইটি চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উপজেলার বাসিন্দা।
গল্প শুরুর প্রথম মিনিটে আমি চুপ হওয়ার শুরু।
এই অফিসে সেবা নিতে এসেছি আমার সাথে কাজ করে রনির বাড়ির পাশের একজন এই অফিসে কাজ করে । কাজে এসেছি কোন ঝামেলা ছাড়া কাজ শেষ করে ফেলেছি তাই ওই লোকের নাম্বার থাকা সত্ত্বেও কল দেইনি। এইখানে একটি বিষয় খারাপ লেগেছে । তাঁর খারাপ লাগার বিষয়টি শুনে আমার ভালো লাগেনি। যদিও আমি আমার উপর তাঁর খারপ লাগার বিষয়টি কাজ করবো। আমি প্রতিদিন ১৫০/১৭০ বার দাঁড়াই সেবা নিচ্ছিত করতে। এটি আমার কাজের অংশ । বাহ্ বাহ্ নেওয়ার কিছু নেই। আপনে এই এলাকায় থাকেন চিনবেন কল দিবো । নাম মোবারক। তাড়াতাড়ি বললাম ভাই কল দেওয়া লাগবে না। চিন্তা করলাম গল্প না হয় দীর্ঘ হবে না ।
কিছু প্রশ্ন করলো ছোট ছোট করে উত্তর দিলাম। রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী রনির বন্ধু , ১৭ বৎসর ধরে আছি আগে রিয়াদে ব্যবসা করতাম কাপডের । সৌদিকরণ নীতি শুরু হওয়ার পর ছেড়ে এই কোম্পানিতে কাফালা হয়েছি। এই মাসে চার হাজার রিয়ালের উপরে শুধুমাত্র কমিশন পেয়েছি। বৎসরে এক বার পাওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। স্বর্ণ কিনে ফেলেছি। কারণ বিপদে কাজে লাগবে দেশে চলে গেলেও।
এর মাঝে বলদিয়া কাজ করে টাংগাইল সখিপুর উপজেলার হাসান বলে উঠলো ভাই, আমরা ৬০০ রিয়াল বেতনের কাজ করি । আপনার পরামর্শ আমাদের পক্ষে যাবে না। কোন রকম পরিবার নিয়ে বেছে আছি। আমি ৯ বৎসর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে এসেছি । আমি অবাক হয়ে বলাল আপনে কি সত্য বলছেন। জি ভাই মিথ্যা কেন বলবো । গাইবান্ধা, বগুড়া , বরিশালের লোকজন সে কয়জনের সাথে কথা হয়েছে সবার ভিসার দাম শুনলে অবাক লাগে। আবার ভিসার ব্যবসা যারা করে তাদের ও দিকে লোকজন পছন্দ কারণ বেশী টাকায় ভিসা বিক্রি করতে পারে।
হাসান দেশে যাবে দুইমাসের ছুটিতে। সে কয়দিন থাকি এটাই শেষ ছুটি । প্রবাস কে বিদায় জানাবে দুই সন্তানের বাবা হাসান । এইখানে আসছি ২০ মিনিট এ কাজ শেষ চলে যাচ্ছি। আপনাদের তো আলাদা ইনকাম থাকার কথা? হাসান দুঃখের সাথে জানালো আমাদের মুদির আমাদের এমন জায়গায় কাজ দিয়েছে ওই এলাকায় সৌদি নাগরিকদের বসবাস নেই। টাকা ও নেই মুদির কে খুশী করে ভালো এলাকায় যেতেও পারি না। খুশী বলতে সে অন্য কিছু বুঝিয়েছে।
হাসানের সাথে অন্যজন চুপ তেমন কোন কথা বলেনি । হাসানের কথার সাথে সহমত জানিয়ে চুপ ছিলো। আমি মাঝে ইচ্ছে করে ফ্রি থাকলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাওকে দেখলে কথা বলার ইচ্ছে পোষণ করি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২১ রাত ২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



