আমি কেন ভাগ্যে বিশ্বাস করিনা প্রশ্ন আসতে পারে। আমার জবাব একটাই- কারন ভাগ্য বলতে কিচ্ছু নেই বলে। ওটা একটা অদৃশ্য শাব্দিক বিষয়; যা মানুষের ব্যর্থতার দায়ভার বহন করে। মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য নিয়ামক খুঁজে। এটা মানুষের একটা জন্মগত বৈশিষ্ট্য। ব্যর্থতার দায়ভার চাপিয়ে দেয়ার জন্য 'ভাগ্যের' চেয়ে প্রিয় বন্ধু মানুষের আর নাই
আমি বিশাল কাজ করে বললাম আমি এটা ভাগ্যের সহায়তা ছাড়াই করেছি; ভাগ্য বিশ্বাসীরা তা জোর গলায় নাকচ করে দিবে। বলবে- তোমার ভাগ্যে এরই ফলাফল লেখা ছিল। আবার যদি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার করে বললাম- ভাগ্য বলতে কিচ্ছু নেই। সবই কর্ম। এখানেও ভাগ্য বিশ্বাসীরা বাম হাত ঢুকিয়ে বলবে- তোমার ভাগ্যে এটাই লেখা ছিল যে, তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার করবে। কিন্তু এখানে কিছু 'কিন্তু' থেকে যায়। ভাগ্যই যদি সব কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে বলবো- আমাদের পূর্বপূরুষগণ খুব খারাপ ভাগ্যের অধিকারী ছিল। তারা ফ্যানের বাতাস পায় নাই; তারা টিভি দেখে নাই; তারা মোবাইল দূরের কথা টেলিফোন স্বপ্নেও দেখে নাই
আমি উপাসনা করতে গেলাম না- এটা কি আমার কপালের লিখন? আমি লুইচ্ছাগিরি করতে লাগলাম সমানে- এটাই কি আমার ভাগ্য। আমি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছি/ আমি বোমা মেরে মানুষ উড়াচ্ছি/ আমি আত্মহত্যা করছি- এটাই কি ভাগ্য? যদি তাই হয়; তবে, বলবো- আমার সব ধরনের অপরাধ ও কৃতকর্মের জন্য সৃষ্টিকর্তাই দায়ী। কারণ তিনি আমার সব কিছু জন্মের আগেই কপালে লিখে দিয়েছেন। দুনিয়াতে যা কিছু করেছি- তাতে আমার কোনো হাত ছিলনা। আমি চেষ্টা করেছি ভালো থাকতে, পারিনি। কারন ভাগ্যে লেখা ছিল! আমি নিরপরাধ! বাহ বাহ ভাগ্য দেখি আমাকে বেহেস্তেও নিয়ে যাচ্ছে...
একটা শিশু রাজপ্রাসাদে জন্মালো; আর একটা শিশু ঢাকার কোনো বস্তিতে। এটা কি ভাগ্য? ভাগ্য বিশ্বাসীদের মতে, এটা ভাগ্যই। শিশুদ্বয়ের কপালের লিখন। আমার প্রশ্ন এটা যদি ভাগ্য হয়, তবে- সৃষ্টিকর্তা বর্ণবাদী (!)। তিনি নিজেই সৃষ্টি করেন যতসব বৈষম্য। ভাগ্যে যারা বিশ্বাস করেন, তারা এটা মেনে নিয়েই 'ভাগ্যকে' বিশ্বাস করবেন আশা রাখি
কেউ কেউ বলবে- কর্মের মাধ্যমেই ভাগ্য গড়া যায়। আমি তাদের সাথে একমত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







