somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম কিভাবে অপরাধ দমনে সহায্য করে : ১ম পর্ব

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম এবং অপরাধঃ
***********
ধর্ম একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান।ধর্ম হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে সমাজ নিয়ন্ত্রণের মোক্ষম হাতিয়ার। যার মাঝে ধর্মীয় বিশ্বাস নেই সে অনেকটা মানসিক বিকারগ্রস্থ রোগীর মত জীবনযাপন করে,কারন একজন মানুষের জীবনে যে অসীম চাহিদা ও ইচ্ছা থাকে তার সবটুকু এই সল্প জীবনে মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হয় না এর ফলে সে হতাশায় ভুগতে থাকে আর এই হতাশার প্রতিক্রিয়া সে নানা ধরনের সমাজ বিরুদ্ধ কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করে,অপরদিকে একজন ধর্মীয় বিশ্বাসবোধ সম্পন্ন মানুষ যে কি না পরকালে বিশ্বাসী হয় তার অনেক আশা আকাংখার মধ্যে সবগুলো যদিও এই স্বল্পস্থায়ী দুনিয়াতে পূরণ নাও হয় তারপরেও সে আশার মাঝে থেকে একধরণের নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করে কারন সে বিশ্বাস করে তার জন্য আরেকটি দুনিয়া অপেক্ষা করছে যেখানে তার অপূর্ণ ইচ্ছা ও চাহিদাগুলো পূরণ হবে,ফলে সে চিন্তা করে এখানে অর্থাৎ এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে তার সব আশা আকাংখার বস্তু না পেলেও চলবে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও অপরাধঃ

মানুষ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে,প্রত্যেকটি মানুষই একধরণের অপরাধ সুলভ স্বভাব নিয়ে জন্মায় অর্থাৎ জন্মগতভাবেই তার মধ্যে একধরণের অপরাধ করার প্রবণতা থাকে ফলে সে সুযোগ পেলেই নিজেকে অপরাধের মধ্যে সম্পৃক্ত করে,আর যেটুকু সময় সে ভালো থাকে অর্থাৎ অপরাধমুক্ত থাকে ঐটুকু সময় সে নিজকে সমাজে ভালো প্রমান করার জন্য একধরনের অভিনয় করে,নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে আই মিন বেঁচে থাকার তাগিদে একধরনের ড্রামা করে কিন্তু আমরা জানি একজন অভিনেতা সারাক্ষণ অভিনয় করেন না,অভিনয় করা সম্ভবও না আর বাস্তব সম্মতও নয়, তখন সে এই অপরাধ থেকে কিভাবে বাঁচবেন???একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায় কিন্তু.........খুব সহজ উত্তর,সর্বদা আল্লাহ্‌কে (সৃষ্টিকর্তাকে) স্মরণ করুন,আল্লাহ্‌র ভয় নিজের মাঝে রাখুন,সৃষ্টিকর্তা আপনাকে প্রত্যেকটি মুহূর্ত দেখছে,পরকালের পুরষ্কারের আশা নিজের মাঝে গেঁথে ফেলুন তখন আর আপনাকে ভালো থাকার জন্য এত এত অভিনয় করা লাগবে না তখন মহাকাশে গিয়েও আপনি অপরাধ করার সাহস পাবেন না কারন একটাই কেউ দেখুক বা না দেখুক সৃষ্টিকর্তা দেখছে।

অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে,যখন একজন মানুষের দ্বারা যখন কোন অপরাধ সংগঠিত হয় তখন তার মাঝে ঐ সংগঠিত অপরাধের জন্য আইনের মাধ্যমে যে শাস্তির বিধান আছে তা আর কাজ করে না অথবা মানুষের তৈরি আইন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তন করা যায় ফলে চাইলেই রায় তার পক্ষে নিয়ে যেতে পারে অথবা সে চিন্তা করে কিভাবে অপরাধটি করলে আইনের চোখ ফাকি দেয়া যাবে অথবা সে অপরাধটি করার পর ঘুষ দিয়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার চিন্তা করে কিন্তু তখন যদি তার মাঝে মৃত্যুর ভয় কিংবা পরকালের কঠিন শাস্তির ভয় থাকে অথবা সৃষ্টিকর্তার ভয় থাকে তাহলে সে অপরাধ করবে না কারন এই ভয় তাকে সর্বদা তাড়িয়ে বেড়ায় কারন তার প্রতিটি অপরাধের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহি করতে হবে, যা মনুষ্যসৃষ্ট কোন ভয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

একজন অবিশ্বাসী মানুষ যার চিন্তার ব্যাপ্তি হচ্ছে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে কেন্দ্র করে,যার চাহিদা হচ্ছে এই পৃথিবীর ভোগের সামগ্রীগুলোই এবং দ্বিতীয় কোন চান্স তার সামনে নেই কারন সে পরকালের জীবনকে অস্বীকার করে ফলে সে যেকোনো মূল্যে এই পৃথিবীর জীবনকে উপভোগ্য করে তুলতে চাইবে বৈধ কিংবা অবৈধ যেকোনো উপায়েই হোক না কেন।যেহেতু সে পরকালে সৃষ্টিকর্তার সমুখে দাঁড়ানোর ভয় নেই,আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহিতার চিন্তা তার অন্তরে নেই ফলে ফলে সে তার চাহিদা পূরণ করার জন্য যেকোনো অপরাধ করার জন্য প্রস্তুত থাকে কারন সে মনে করে যদি কোন রকমে এই অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়া যায় তাহলে আর তার কোন ভয় থাকবে না,কিন্তু একজন মুমিন বান্দা যে বিশ্বাস করে যদিও বা কোন অপরাধ করে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে পার পাওয়া যায় কিন্তু শেষ বিচারের দিন মহান বিচারক আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে যেখানে এক যাররা (একটি ধুলি কনার ৭০ ভাগের এক ভাগকে বলা হয় এক যাররা) পরিমান অপরাধ করেও কেউ মাফ পাবে না। তাহলে এইবার আপনিই বিচার করুন কে সমাজের জন্য বিপজ্জনক একজন ধার্মিক লোক নাকি একজন অবিশ্বাসী লোক????? আসা করি উত্তর পেয়ে গেছেন।আবার একজন ধার্মিক লোক বিশ্বাস করে সে যদি এই দুনিয়াতে অপরাধ থেকে বেঁচে থাকতে পারে তাহলে পরকালে তার জন্য অনেক পুরষ্কার অপেক্ষা করছে ফলে একজন ধার্মিক লোক পুরষ্কারের আসায় হলেও সে অপরাধ থেকে বিরত থাকে কিন্তু একজন অধার্মিক মহাশয় কিসের আসায় নিজেকে অপরাধ থেকে নিবৃত করবেন ????

অবিশ্বাসীদের হাতে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ধার্মিকদের তুলনায় কয়েক গুন বেশি,সমকামিতা,বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আই মিন লিভ টুগেদার তো পান্তা ভাত!!!!!!অথচ এই বিষয়ে মুমিনদেরকে আল্লাহ্‌ কঠিন থেকে কঠিনতর হুশিয়ারি দিয়েছেন পরকালে ভয়াবহ আজাবের ব্যবস্থা রেখেছেন ফলে মুমিনরা বরাবরই এই বিষয় থেকে দূরে থাকে পক্ষান্ত
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×