somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গায়ে মাখি স্বাধীন-সূর্যকিরণ

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গায়ে মাখি স্বাধীন-সূর্যকিরণ
মোহাম্মদ মাসুদ

’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়েই বাঙালী তার রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান) বিরুদ্ধে প্রথম জেগে ওঠে। নিজ স্বাধীনতা অর্জনে প্রতিবাদী সুর একত্রে ধ্বনিত করে। তবে পাকিস্তানী-শক্তি বাঙালীদের প্রাপ্য অধিকার ও অর্জিত ক্ষমতা থেকে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত করছিল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালী জয়লাভ করার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে বাঙালীকে পরাধীনতার বেড়ি পরিয়ে বাংলা ভূখণ্ডে একচেটিয়া আধিপত্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু স্বাধীন-পাগল বাঙালী ১৯৬২ সালে শিক্ষা-আন্দোলন ও ১৯৬৬ সালে ৬ দফা নিয়ে গর্জে ওঠে। ’৬৯-এর বাঙালী আরও দৃঢ় হয়ে রাজপথে নামে। গণ-আন্দোলনে মুখে আইয়ুব খানের পতন হয়, আসে ইয়াহিয়া খান। এ আন্দোলনে অনেক বাঙালী শহীদ হয়েছেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও জয়লাভ করা সত্ত্বেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা দেয়নি বাঙালীকে।
১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক এক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দেন- স্বাধীনতার। তাঁর তাৎপর্যময় ভাষণই স্বাধীনতার হীরকখণ্ডের আলোয় আলোকিত হয়েছে বাঙালী। প্রতিটি বাঙালী পেয়েছে আত্মমর্যাদার স্বীকৃতি। মৃত্যুকে পায়ে ঠেলে দিয়ে পাকিস্তানী জান্তাদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্য এদেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষ সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাংলার প্রতিটি প্রান্ত গর্জে উঠেছে তার অস্তিত্ব রক্ষায়, সবকিছুই ছিল উপেক্ষিত। একমাত্র স্বাধীনতার বিজয় ছাড়া।
রক্ত-কান্না-লাশ-সম্ভ্রমক্ষয়ী ৯ মাস যুদ্ধে বাঙালী অর্জন করে- স্বাধীন-সূর্য। এভাবেই ’৫২ থেকে ’৭১ পর্যন্ত নানা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ উদিত হয়। সন্তানহারা মা, ভাইহারা বোন, বাবাহারা সন্তানসহ স্বজনহারা প্রতিটি বেদানার্থ মুখও সেদিন জীবনের সেরা হাসিতে মেতেছিল। গায়ে মেখেছিল স্বাধীন-সূর্য আলো। আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ যেমন তাৎপর্যমণ্ডিত তেমনি অনুপ্রেরণার দীপ্ত-আলো হয়ে প্রজ্বলিত হয়ে আছে তরুণপ্রজন্মের নিকট।
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে

[প্রকাশিত, দৈনিক জনকণ্ঠ, চতুরঙ্গ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬]
- See more at: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×