সব্যসাচীরা এদিক ওদিক দু’কুল সামলাতে পারেন। আমার সেরকম কোন গুন নেই। লিখতে গেলেই আমি যেন কেমন, লেখার মধ্যে বাস করে ফেলি। হয়ত প্রফেসর ক্লাসে পড়াচ্ছেন, জিগ্যেস করছেন, ইজ এভ্রিথিং ক্লিয়ার? সবার মাথা দুলছে। আমিও দুলছি । “ ইয়েস এভ্রিথিং ইজ ক্লিয়ার”।
আসলে নাথিং ইজ ক্লিয়ার। আমার দুলন্ত মাথা হয়ত তখন কোন গল্পের চরিত্র স্থির করছে।
সবে একটা বই লিখেছি আমি। একটা বই লিখলে তাকে কখনও লেখক বলা যায় না। বই আজকাল অনেকেই লেখে। তবে লিখতে যেয়ে একটা জিনিষ বুঝেছি, খুব সামান্য কিছু লিখতে হলেও অনেকটা পড়তে হয়। একটা বই যেন অনেকটা স্থায়ী ধনুকের মত। যার তীর একবার ছুড়লে আর কখনও ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই একটা বই প্রকাশের আগে বারবার দেখতে হয় ভুল কিছু লিখে ফেলিনি তো, বিভ্রান্তিকর কিছু নয়তো? কারন ছাপা হয়ে গেলে তা আর রদ বদল করার সুযোগ থাকে না।
আমেরিকা নিয়ে যখন ব্লগে লিখতাম, রোজকার জীবনে যা দেখতাম, তাই ই লেখা হত। কিন্তু বই প্রকাশ ব্যাপারটা যখন আসল, তখন বারবার ইন্টারনেটে তথ্যগুলো ঝালিয়ে নিতে হল। মনগড়া কিছু লিখে ফেলিনি তো! এভাবেই যেন লেখার সাথে আমার অনেকটা বসবাস হয়ে গেল।
আমরা যারা বই পড়ি, আনন্দ পাবার জন্য পড়ি। এই আনন্দ যে শুধু গল্পের বই পড়লেই পাওয়া যায়, একথা সঠিক নয়। পাঠ্য পুস্তক পড়েও অনেকসময় গভীর আনন্দ পাওয়া যায়। স্কুলে কলেজে অনেকেই দেখবেন অংক বিজ্ঞানের বইগুলো পড়ে অনেক ভাল গল্পের বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পেয়েছেন। বিতৃষ্ণা যে কখন জাগে নি, সে কথা অস্বীকার করছি না।
আমি এবার পাঠ্য পুস্তক থেকে গভীর আনন্দ নেব ভেবেছি। তাই একটা বিরতি নেব। বইটি প্রাপ্তিস্থান সেকারনেই আরেকবার জানিয়ে দিচ্ছি।
লেখালেখির জগতে আমার সবে হামাগুড়ি। বইটি পড়ে অনেকেরই হয়ত ভাল লাগেনি। আমার মন খারাপ হবে ভেবে হয়ত পাঠ প্রতিক্রিয়া জানান নি। কিন্তু অনেকেই আবার জানিয়েছেন, আমাকে লিখেছেন। কত ক্ষুদ্রতা কত অসংখ্য দুর্বলতা আমার, তবুও আপনাদের সবার কথায় মনে হয়েছে, আপনারাও যেন সেদিন ডাকোটার নিঃসঙ্গ রাস্তায় আমার সাথে হেঁটেছেন। অনেকেই বলেছেন, “মেয়ে তুমি আরও লেখো”
আমার এক অদ্ভুত পাঠক আছে, পেশায় রিটায়ার্ড ন্যাভাল আর্কিটেক্ট। বয়স জানি না, আন্দাজ ৬০ এর কাছাকাছি। এই অদ্ভুত পাঠকটি প্রতিটি লেখার পর আমাকে ইমেইল করেন। খুশি করার জন্য উনি শুধু প্রশংসাই করেন না, অনেক ভুলও ধরিয়ে দেন। এই অসম্ভব, বিনয়ী, বই পড়ুয়া পাঠক আমার ভক্ত কিনা সে কথায় যাব না, তবে আমি তার ভক্ত হয়ে গেছি। পাঠক অনেকসময় আমাকে মজার অনেক কিছু লিখে পাঠিয়েছেন। সে গল্প না হয় আর একদিন তার অনুমতি নিয়ে বলা যাবে।
ভাল থাকবেন।
প্রাপ্তি স্থান (ঢাকা বই মেলা ) : স্টল ১৩-১৪, জ্যোতিপ্রকাশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গন
প্রাপ্তি স্থান (খুলনা বই মেলা ) : স্টল ৭, প্রকাশনীঃ বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড, পাবলিক লাইব্রেরী
মুল্যঃ ১৫০ টাকা।
http://rokomari.com/book/94709

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



