somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুল বউ

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাই এই গোলাপ ফুলডা কয় টেহা?
একশো টাকা ভাই।
কি কন এত টেহা?এক্টু কম রাহেন ভাই।একশো টেহা দিয়া একদিনের খাওন খাওয়া যায়।
না ভাই।ফুল আর কাফন একদামে কিনতে হয়।এসবে কোন দামাদামি চলে না।
মজিদ মিয়া কোন কথা কয় না।দোকান থেকে বেড়িয়ে পড়ে।এই একডা ফুলের দাম নাকি একশো টেহা।দুদিন পর যে ফুল নষ্ট হয়ে যাইবো সে ফুল এত টেহা দিয়া কিনার কোন মানে আছে?দোকানদারের আর দোষ কি?বড় বড় মাইনষেরা যদি এত দাম দিয়া ফুল কিনে তাইলে দাম বাড়াইতে বেডাগো কি সমস্যা?এক দল মানুষ আছে হেরা দাম দিয়া ফুল কিনে রাস্তায় ফালাইবো আর,আরেক দল মানুষ পা দিয়া রাস্তায় ফুল পারাইবো।ফুলের জীবন তো মাইনেষের জীবন থেইক্যাও খারাফ।

আমেনা ঝি এর কাজ শেষ করে বাসায় এসে গোসল করে।গোসলের পর আয়নার সামনে বসে নিজেকে একটু দেখে।বড় ভাল লাগে তার।বড় মেডামের কাছ থেইক্যা চাইতেই আয়নাডা দিয়া দিছে।আয়নাডার কোনায় একটু ভাংগা,তাতেই ফালাইয়া দিব।কপালডা ভালা আমি সামনে আছিলাম।মেডামরে কইতেই একটা হাসি দিয়া কইলো;ভাংগাডা নিবি ক্যান আমেনা?আমি একটা কিনে দেই তোরে!না মেডাম,কিইন্যা দেওন লাগবো না,এইডাই চলবো।আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে যায়।তোর স্বামীরে পাঠাইয়া দিস।এত বড় আয়না তুই একা নিতে পারবি না।তারে কইস লোক নিয়ে এসে নিয়ে যাইতে।
উনারে কইতেই সে লোক নিয়ে আয়না নিয়ে আসছে।লোকটা ঘরে থাকলে আমেনা আয়নার সামেন বসে না।বলে,আয়নার এতবার নিজেরে দেহনের কি আছে?পুরুষ মানুষ বুঝে কি আয়নার মর্ম।ইদানীং কি খিটখিটে হইছে?হুদাহুদি চিল্লায় লোকটা।আমেনার মেজাজ খারাফ হয়।কিন্তু লোকটারে কিছু কয় না,লোকটার মন অনেক ভালা।
আয়নাডা অনেক বড়।পুরো শরীরডা দেখা যায়।ব্লাউজ ছাড়া আমেনা আয়নার সামনে বসে গুন গুন গান করে গায়।এক সময় আমেনার শরীর কেপে উঠে,আমেনা লজ্জা পায়।

বাড়ি ফিরতেই মজিদের সাথে হাবুর চোখে চোখ পড়ে।হাবু হাক দিয়ে উঠে;আরে ওই মজিদ্যা আজ কামে যাও নাই?হাবুরে মজিদ দেখতে পারে না,মেয়ে ছেলের দিকে কু নজরে তাকায়,আজেবাজে কথা কয়।আমেনাও তারে কয়েকবার হাবুর কথা কইছিল।মজিদ কিছু কইতে পারে না,হাবু অনেক বড় বড় লোকের সাথে উঠা বসা,তারে সবাই ভয় পায়।তারে কেওই কিছু কওনের সাহস পায় না।
কি মিয়া খাড়াইয়া আছো ক্যা?তোমার হাতে ওইডা কি?মজিদ কোন কথা বলার প্রয়োজন মনে করে না।হাতের জিনিসটা আড়াল করে সে তড়িগড়ি করে চলে যায়।
পানের পিক ফেলতে ফেলতে হাবু বিড়বিড় করে বলে;শালা হাবাইত্তা!

বাড়িতে ডুকেই মজিদ দেখে আমেনা পিঠ খোলা শরীরে আয়নার সামনে বসে বিড়বিড় করে কি যেন কয়?এই আয়না আসার পর নতুন ডং শুরু হইছে।মজিদের মেজাজ খারাফ হয়।
কিরে মাগী!দুয়ার খোলা রাইখ্যা কাপড় সব খুইল্যা তোর ভ্রাতারের লাইগ্যা বইস্যা আসোস নাকি?আমেনা ভয় পেয়ে যায়।কোন রকম শরীরে কাপড় প্যাচাইয়া চুপ থাকে।কোন কথা কয় না।
খাম্বার মত দাড়াইয়া আসোস ক্যা ,যা ভাত দে?খিদা লাগছে।
খাওন চাওনে ,আমেনা সস্তি ফিরে পায়।এক দৌড়ে পাকের ঘরের চলে যায়,যেন এখান থেকে চলে যেতে পারলেই এখন বাচে।একটা ভয়,লজ্জা আমেনার মনের ভিতর কাজ করে।


তুই খাইসিস?
হ খাইসি,মেডামের বাসায়।আমেনা মিথ্যা কথা কয়।লোকটার খাওন দেইখ্যা আমেনার খুব মায়া লাগে।লোকটা কি সুন্দর শিশুগো মত খাইতাছে।কে কইবো,এই লোকটা রেগে গেলে কত খারাফ হয়?লোকটার অনেক ক্ষিদা লাগছে।কেমনে গ্রোগ্রাসে খাওন গিলতাছে।মাঝে মাঝে মিথ্যা কওনের একটা সুখ আছে।আমেনা এইডা এখন খুব ভাল বুঝে।
আবার কি কামে যাইবেন?
হ যামু আসরের ওয়য়াক্তে।তাইলে একটু জিরান।আমি আপনেরে বাতাস করি।
ওই পলিথিনে তোর জন্য একটা গিপট আনছি।খুলে দেখ।আমেনা কোন কথা কয় না।আয়নার পাশে তাকাইতেই দেখে সত্যিই একটা পলিথিন।আমেনা তাড়াতাড়ি করে পলিথিন খুলে অবাক হয়ে যায়।লোকটার আজ হইছে কি?লোকটা দেখি ফুল নিয়ে আইছে,বেলী ফু্লের মালা।মালাডা বাসি হয়ে গেছে ,তাতে কি?আমেনা মাথায় মালাডা গুজে আয়নায় নিজেকে দেখে।আমেনার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ে,হাউমাউ করে উঠে।
মজিদ ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে।আমার বঊডা অনেক সুন্দর।আমি এত গালি গালাজ করি,তাও আমারে কোন রাগ দেখায় না।মনডা ভালা।শুধু একটু মাথায় দোষ আছে।আয়নার সামনে একা একা বিড়বিড় কইরা কি জানি কয়?মাথায় ফুল গুজানে আমেনারে ফুলপরীর মত, না না ফুলপরী না।ফুলবউ এর মত লাগছে।মজিদের দু’চোখ চোখ জলে ভিজে আসে।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:৪৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×