যেখান থেকে শুরম্ন সেখানেই শেষ। উৎপত্তি কিংবা বিনাশ, জন্ম এবং মৃতু্য সেখানেই এসে থামে, যেখান থেকে সে চলতে শেখে। লক্ষ্মীও ফিরলো বাড়ি।
সেই পুরোনো বাড়ি, মাধবিলতার ঝাড়, কদম গাছটা নু্যয়ে আছে মফস্বলী পুকুরের সবুজ জলে, এই সবুজ শ্যাওলার নয়, চারপাশে ঝুঁকে থাকা গাছের, নারকোল, শুপুরি, কৃষ্ণচূড়া।
বাবার মুখ ভার, মা চোখে অাঁচল চেপে কান্না সামলাচ্ছেন। ইচ্ছে হলো বাবার বুকের ভেতর চলে যায়, ছোট্টবেলার সেই লক্ষ্মীময়ী হয়ে, হলো না, যা হারায় তা হারায়, যা যায় তা চলে যায়।
লক্ষ্মী হাঁটে শব্দহীন, লক্ষ্মী খায়-দায় শব্দহীন, লক্ষ্মী ভাবে শব্দহীন
সত্দব্ধতার মূর্তি হয়ে লক্ষ্মী ভাবে, যেনো গত জনমের কথা, যে জনমে ও ছিল বিশাখা, তথাগতকে ভালোবেসে সে শ্রেষ্ঠীপুত্রকেও অগ্রাহ্য করেছিল, অথচ তথাগত গত হলো, ওর হলো না, পদ্মগন্ধা শরীরে গোখরো চুম্বণ দিলো ভালোবাসার, মানুষ ছুঁয়েও দেখলো না।
ঋতু বদলায়, দূরের পথ দিয়ে আসে যায়। কোনও কালে লক্ষ্মী চারসের দুধ খেতো রোজ, কোনও কালে লক্ষ্মীর পায়ের মল ঝুমঝুম ঝুমঝুম, যেনো বা হরিণি, অথচ আজ
আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী; আহা রাধার কি হইলো অনত্দরে ব্যাথা, কদম ভেসে যায় জলে, মাছে ঠুকরে খায় তার গন্ধমাদপ রোঁয়া, বাঁধানো ঘাটে বসে লক্ষ্মী মাছের সঙ্গে কথা বলে, যেনো বা এই জলে ডুবে আছে সেই মাছ, সে তো আসলে মাছ নয়, ডাইনীর শাপে সে হয়ে আছে মাছ, রাজকন্যা ছুঁলেই আবার হবে রাজকুমার, লক্ষ্মী ডাকে, কানে কানে মাছেদের বলে, ভালোবাসি, ভালোবেসেছি, ভালোবাসা কি ভোলা যায়, লক্ষ্মী কি পারে ঝাঁপি থেকে ঢেলে দিতে দীনতা?
পুকুরের জলে গোটা একটা আকাশ, আর তার পরনে সবুজপাড় শাড়ি, ঝুঁকে পড়া গাছের ছায়া - কাহিনী এক লক্ষ্মী-রাজকন্যার,
হাঁটু জলে নাইমা কইন্যা হাঁটু মাঞ্জন করে. . . . . . ওকি হো হো হো হো
মাঞ্জা জলে নাইমা কইন্যা মাঞ্জা মাঞ্জন করে. . . . . ওকি হো হো হো হো
কুঁচ জলে নাইমা কইন্যা কুঁচ মাঞ্জন করে . . . . . .. ওকি হো হো হো হো
সিঁথি জলে নাইমা কইন্যা কেশ মাঞ্জন করে . . . .. . ওকি হো হো হো হো
তারপর জলের রঙ লাল হয়, পৃথিবী জানে, সেই সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর ভাসান হলো; কিন্তু জলে যে সিঁদুর মেশে না, ভেসে থাকে জলের ওপর, আর ভেসে থাকা সিঁদুর খেয়ে আশেপাশে ভেসে থাকে কিছু মরা মাছ. . . (ক্রমশঃ)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



