প্রধান কারণ, তারা বাঙালি মুসলমান। তারা আরব, পারস্য কিংবা নিদেন পাকিসত্দানী মুসলমানও নন। এমনকি ভারতীয় মুসলমানও নন। এদের মুসলমানীত্ব যে কতোটা ভয়াবহ, যার প্রত্যৰ কোনও অভিজ্ঞতা এ ব্যাপারে নেই তাকে সেটা বলে কিংবা লিখে সেটা বোঝানো যাবে না। সেদিক দিয়ে বাঙালি মুসলমান এখনও অনেক বেশি উদার, অনেক সৃষ্টিশীল এবং আধুনিকতাকে গ্রহণ করার জন্য একেবারে অবারিত দ্বার না হলেও গবাৰটা অনত্দতঃ উন্মুক্ত রাখেন। এর প্রধান কারণ আর কিছুই নয়, প্রথমতঃ বাংলার মাটি, বীজ ফেললেই ফসল ফলে বলে মানুষের মনও নতুন কোনও বীজকে অঙ্কুরোদগমের সুযোগ করে না দিয়ে নিজেকে বন্ধা রাখতে আগ্রহী নয়। তাইতো ইসলাম খুব সহজেই এখানে একটি বিশাল মহীরূহ হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।
যাকগে আসল কথাটি বলি, সমপ্রতি সৌদি আরবের একজন দনত্দ চিকিৎসক রাজা আল সানি-র লেখা 'বানাত্ আল রিয়াধ' (দ্য গার্লস অব রিয়াধ) পড়ার পর মনে হলো, আসলে বাঙালি নারী না হয়ে যদি সৌদিতে জন্ম হতো তাহলে একটা গোটা জনম কেটে যেতো চোখের জলে, ধর্মের বর্মে বন্দী থেকে, ধর্মের নামে স্বামীর বেত খেয়ে, স্বপত্নীর কষ্ট সহ্য করে, রাসত্দায় বেরম্নলে মুখটা একটু খোলা রাখলে মতুয়া নামে একটি গ্রম্নপের সঁপাং চাবুকের বাড়ি খেয়ে আর সমাজের নিকৃষ্ট জীব হিসেবে আজীবন 'আওরাত' হয়ে।
রাজা আল সানি-ও এই গ্রন্থটি সৌদিতে নিষিদ্ধ কিন্তু বাইরে ইতোমধ্যেই সাড়া জাগিয়েছে কারণ সৌদি রাজতন্ত্রের কবলে ইসলাম যে কতোটা স্বৈরাচারী আর কতোটা নোংরায় ঠাসা তা এই বইতে উঠে এসেছে। নিকৃষ্ট যৌনতা যার মধ্যে সমকামিতা, বলাৎকার (সডোমি) আর বহুগামিতাও যে ধর্মের নাম দিয়ে চালানো হয় সেখানে সেটা এই বইতে এতো চমৎকার করে তুলে ধরা হয়েছে যে পড়লে আশ্চর্য হতে হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের হলো, বইটি লিখেছেন সৌদি আরবের অন্দরবাসিনী এক নারী, যিনি পেশায় দনত্দ চিকিৎসক।
এর কিছুদিন আগে পড়েছি ইরানি চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিরোসত্দামির কন্যার একটি সাৰাতকার। সেখানে তিনি ইরানি নারীদের জীবনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, আর পাকিসত্দানের কথা কি বলবো, সেখানে এখনও নারীর হাট রয়েছে। বহুদিন আগে এই হাটের ওপর একটি প্রতিবেদন পড়েছিলাম যেখানে উলেস্নখ ছিল যে, এই হাটের বেশিরভাগ পণ্য (নারী) বাংলাদেশের এবং এর ক্রেতা মূলতঃ সৌদিসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের শেখরা। এসব পড়ার পর মনে হয়েছে যে, খুব ভালো আছি বাংলাদেশে, বাঙালি নারী হয়ে জন্মে। কিন্তু এই ভালোটা সহ্য হচ্ছে জামায়াতের, তাইতো তারা সৌদির টাকায় ওয়াহাবিজমকে বাংলাদেশে আনতে চাইছে নারীকে করতে চাইছে ধর্মের পণ্য।
অথচ আমাদের 'আসত্দমেয়ে'-রা সেটা বুঝতে পারছেন না, যদি জন্মাতেন সৌদি কিংবা ইরানে তাহলে বুঝতেন নারী-জন্ম আসলে কতোবড় পাপ। যদি তাকে একা ফেলে স্বামী যেতো পরনারীতে তাহলে এই আসত্দ মেয়ে নাম নিয়ে ধর্মের ধ্বজা উড়ানি যে কোথা দিয়ে বেরিয়ে যেতো সেটা কল্পনা করেই হাসি পাচ্ছে, আবার দুঃখও হচ্ছে। দুঃখ এই জন্য যে, এ না পারছে রাজা আল সানির মতো সৌদি আরবে থেকেও ধর্মের বর্ম খুলে ফেলতে না পারছে বাংলাদেশের তুলনামূলক উদারতার সুযোগ নিয়ে আধুনিক ও মননশীল নারী হতে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




