somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শত জনমের ভাগ্য যে বাঙালি মুসলমান পরিবারে জন্মেছিলাম

১৩ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৃষ্টিকর্তায় যদি আনত-বিশ্বাস থাকতো তাহলে তার কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করতাম, বাঙালি মুসলমান পরিবারে জন্ম দিয়েছেন বলে। কিন্তু তা যেহেতু নেই তাই ধন্যবাদটি পিতা-মাতাকেই, তাদের শারীরি-খেলার ফসল হিসেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। প্রশ্ন তুলতে পারেন কেন হঠাৎ এই ধন্যবাদের জোয়ার উঠলো।

প্রধান কারণ, তারা বাঙালি মুসলমান। তারা আরব, পারস্য কিংবা নিদেন পাকিসত্দানী মুসলমানও নন। এমনকি ভারতীয় মুসলমানও নন। এদের মুসলমানীত্ব যে কতোটা ভয়াবহ, যার প্রত্যৰ কোনও অভিজ্ঞতা এ ব্যাপারে নেই তাকে সেটা বলে কিংবা লিখে সেটা বোঝানো যাবে না। সেদিক দিয়ে বাঙালি মুসলমান এখনও অনেক বেশি উদার, অনেক সৃষ্টিশীল এবং আধুনিকতাকে গ্রহণ করার জন্য একেবারে অবারিত দ্বার না হলেও গবাৰটা অনত্দতঃ উন্মুক্ত রাখেন। এর প্রধান কারণ আর কিছুই নয়, প্রথমতঃ বাংলার মাটি, বীজ ফেললেই ফসল ফলে বলে মানুষের মনও নতুন কোনও বীজকে অঙ্কুরোদগমের সুযোগ করে না দিয়ে নিজেকে বন্ধা রাখতে আগ্রহী নয়। তাইতো ইসলাম খুব সহজেই এখানে একটি বিশাল মহীরূহ হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।

যাকগে আসল কথাটি বলি, সমপ্রতি সৌদি আরবের একজন দনত্দ চিকিৎসক রাজা আল সানি-র লেখা 'বানাত্ আল রিয়াধ' (দ্য গার্লস অব রিয়াধ) পড়ার পর মনে হলো, আসলে বাঙালি নারী না হয়ে যদি সৌদিতে জন্ম হতো তাহলে একটা গোটা জনম কেটে যেতো চোখের জলে, ধর্মের বর্মে বন্দী থেকে, ধর্মের নামে স্বামীর বেত খেয়ে, স্বপত্নীর কষ্ট সহ্য করে, রাসত্দায় বেরম্নলে মুখটা একটু খোলা রাখলে মতুয়া নামে একটি গ্রম্নপের সঁপাং চাবুকের বাড়ি খেয়ে আর সমাজের নিকৃষ্ট জীব হিসেবে আজীবন 'আওরাত' হয়ে।

রাজা আল সানি-ও এই গ্রন্থটি সৌদিতে নিষিদ্ধ কিন্তু বাইরে ইতোমধ্যেই সাড়া জাগিয়েছে কারণ সৌদি রাজতন্ত্রের কবলে ইসলাম যে কতোটা স্বৈরাচারী আর কতোটা নোংরায় ঠাসা তা এই বইতে উঠে এসেছে। নিকৃষ্ট যৌনতা যার মধ্যে সমকামিতা, বলাৎকার (সডোমি) আর বহুগামিতাও যে ধর্মের নাম দিয়ে চালানো হয় সেখানে সেটা এই বইতে এতো চমৎকার করে তুলে ধরা হয়েছে যে পড়লে আশ্চর্য হতে হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের হলো, বইটি লিখেছেন সৌদি আরবের অন্দরবাসিনী এক নারী, যিনি পেশায় দনত্দ চিকিৎসক।

এর কিছুদিন আগে পড়েছি ইরানি চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিরোসত্দামির কন্যার একটি সাৰাতকার। সেখানে তিনি ইরানি নারীদের জীবনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, আর পাকিসত্দানের কথা কি বলবো, সেখানে এখনও নারীর হাট রয়েছে। বহুদিন আগে এই হাটের ওপর একটি প্রতিবেদন পড়েছিলাম যেখানে উলেস্নখ ছিল যে, এই হাটের বেশিরভাগ পণ্য (নারী) বাংলাদেশের এবং এর ক্রেতা মূলতঃ সৌদিসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের শেখরা। এসব পড়ার পর মনে হয়েছে যে, খুব ভালো আছি বাংলাদেশে, বাঙালি নারী হয়ে জন্মে। কিন্তু এই ভালোটা সহ্য হচ্ছে জামায়াতের, তাইতো তারা সৌদির টাকায় ওয়াহাবিজমকে বাংলাদেশে আনতে চাইছে নারীকে করতে চাইছে ধর্মের পণ্য।

অথচ আমাদের 'আসত্দমেয়ে'-রা সেটা বুঝতে পারছেন না, যদি জন্মাতেন সৌদি কিংবা ইরানে তাহলে বুঝতেন নারী-জন্ম আসলে কতোবড় পাপ। যদি তাকে একা ফেলে স্বামী যেতো পরনারীতে তাহলে এই আসত্দ মেয়ে নাম নিয়ে ধর্মের ধ্বজা উড়ানি যে কোথা দিয়ে বেরিয়ে যেতো সেটা কল্পনা করেই হাসি পাচ্ছে, আবার দুঃখও হচ্ছে। দুঃখ এই জন্য যে, এ না পারছে রাজা আল সানির মতো সৌদি আরবে থেকেও ধর্মের বর্ম খুলে ফেলতে না পারছে বাংলাদেশের তুলনামূলক উদারতার সুযোগ নিয়ে আধুনিক ও মননশীল নারী হতে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×