স্বর্গের নির্মল বাতাস, অনিন্দসুন্দর অঙ্গন, নাম না জানা অসংখ্য পুষ্পরাশি, এরমাঝে লক্ষ্মী শুধু লৰপদ্মের ঝিল দেখেই অবাক, এই বুঝি সেই অবাকপদ্মের ঝিল! যেখানে সাপ আর ভ্রমর সত্যিই খেলা কওে; খানিক দূরেই চন্দন গন্ধের বন, লক্ষ্মী এগোয় এগুতে এগুতে প্রথমেই যার সঙ্গে দেখা সে এক নারী।
পরনে তার মহামূল্য আভরণ, সূতোহীন সূতোয় তৈরি পোশাকের ভেতর থেকে তার সুষমামঞ্জরি যেনো চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে, স্বর্গে কি সকাল-বিকেল নেই, সবসময়ই কি আলোটা এমন কনে-দেখা, মনে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকে সেই অসামান্যা সুন্দরের দিকে লক্ষ্মী।
ঃ আজই এলে বুঝি? কি নাম তোমার? (আহ্ কি মোলায়েম কণ্ঠ, যেনো মসলিনে-মসলিনে খস্খস্)
ঃ লক্ষ্মী।
ঃ ওমা তোমার গলার স্বরটি কি মিষ্টিগো, তা কি পাপ করেছো মেয়ে, যে স্বর্গে এলে?
ঃ একি বলছেন, পাপ করবো কেন? পাপ করলেতো নরকে যেতাম, এখানে তো এলাম পূণ্যবলে। মিথ্যে বলিনি, কারো উপকার ছাড়া অপকার করিনি, এক পুরুষে জীবন উৎসর্গ করেছি, তাই না. . .
ঃ ভুল করেছো মেয়ে, ভুল, মহাভুল, পূন্য নয়, পাপ করেছো। এসেছো তো স্বর্গে, এখন বুঝবে। দেখছো না কোন্ জন্মে কি পাপ করেছিলাম আর সে জন্যই এই স্বর্গে এসেছি মেনকা হয়ে, রম্ভা হয়ে। দেবতাদের কামতুষ্টিই আমার কাজ বুঝলে। তুমিও তাই, সীতা, দুর্গা, দ্রৌপদী, কুনত্দি সবাই, পূন্যি করে এসেছেন মর্তে, তাই এখন স্বর্গে, কিনত্দু তাদের কাজ কি? ইদ্র-বরম্নণ-অশ্বীনীদ্বয়, ব্রক্ষ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর আর তাবত পুরম্নষ দেবতাকে তুষ্টু করা। আরে একথা শোনোনি পুরম্নষের পূন্যের পুরম্নষ্কার হাজার সতী, আর নারীর পূন্যে পুরষ্কার শিব, আর সব পুরম্নষই তো শিব। মহাপাপ করেছো মেয়ে, মহা পাপ। তা এসেছো মেয়ে ভালো কথা, এখানে থাকো কিছুদিন সব বুঝতে পারবে। যাকগে, আমার সময় হয়েছে যাই গে, এুণি ইদ্রসভা বসবে। বেহুলা নাচবেন, যাবে নাকি দেখতে, আমাকে আবার ফ্থলের জোগাড় করতে হবে। যাবে যদি তো এসো।
লক্ষ্মী চলে মেনকার পেছন পেছন, ইস্ কি তার চলন, যেনো গজগামিনী; স্বর্গভ্থমির পুরম্নষ-দুর্বাটাও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে মেনকার পায়ের ছোঁয়ায়
(ক্রমশঃ)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




