গাঙেয় ব-দ্বীপ এলাকার এক গ্রামে এক টুপি-বিক্রেতা বাস করতেন, দিনমান টুপি তৈরি করে তিনি পাশের গাঁয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন। একদিন টুপি তৈরি করে পাশের গাঁয়ে যাচ্ছেন, পথিমধ্যে এক বিশাল বন পড়লো, আর আকাশে সেদিন ছিল টুপি-ফাটা রোদ। তো সেই টুপিওয়ালা কি করলেন, টুপির ঝুড়িটা পাশে রেখে একটা গাছের গুড়িতে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। টানা অনেকৰণ ঘুম দিয়ে উঠে কানত্দি দূর করলেন কিন্তু ঘুম থেকে জেগে দেখেন পাশে ঝুড়ি পড়ে আছে কিন্তু টুপিগুলো নেই। লোকটার তো তখন হাহাকার অবস্থা, তার রম্নটিরম্নজি বলে কথা।
যাই হোক লোকটা হতভম্ভের মতো আশেপাশে তাকাতে লাগলেন। দেখলেন গাছের ওপর একদল বানর বসে আছে এবং প্রত্যেকের মাথায় তার সেই সুন্দর টুপিগুলো শোভা পাচ্ছে। লোকটি মরিয়া হয়ে চিনত্দা করতে লাগলেন কি করা যায়, কি করা যায়। শেষে কি ভেবে নিজের মাথা থেকে টুপিটা খুলে ছুড়ে ফেলে দিলেন। টুপি বিক্রেতা জানতেন যে বানরেরা অনুকরণ প্রিয়, তাই সঙ্গে সঙ্গে তারাও মাথা থেকে টুপিগুলো ফেলে দিলো এবং টুপি বিক্রেতা টুপিগুলো কুড়িয়ে ঝুড়ি ভরে নিয়ে মহানন্দে বিক্রি করে এলেন পাশের গাঁয়ে।
দিন যায়, কালের চাকা ঘোরে। টুপিওয়ালা বৃদ্ধ হলেন, তার ছেলেও বৃদ্ধ হলো, নতুন যুগ এলো, টুপির চাহিদা যেনো আগের থেকে বেড়েই যাচ্ছে বেড়েই যাচ্ছে, তাই বৃদ্ধর নাতিও টুপি ব্যবসাতেই নেমে পড়লো। বাড়ির সবাই টুপি বানায়, আর বৃদ্ধর উনিশ বছরের নাতি গিয়ে বিক্রি করে আসে আশেপাশের হাটে।
এখন আর সেই দীর্ঘ বনশ্রী নেই, কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ সরকারের বনরৰা প্রকল্পের কারণে বেশ একটু বন এখনও টিকে আছে। আর ঘর থেকে বেরিয়ে কিছুদূর বসে করে গিয়ে সেই বনের ভেতর দিয়েই হেঁটে অন্য একটি জায়গায় যেতে হবে বৃদ্ধর নাতিকে টুপি বিক্রি করতে।
বৃদ্ধ তার নাতিকে ডেকে বললেন, "দাদু তোমাকে তো যেতে হবে ওই জঙ্গল পেরিয়ে। জানো তো ওই জঙ্গলে বেশ কিছু শাখামৃগ বাস করে। একবার তারা আমার সব টুপি নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বুদ্ধিবলে আমি সেগুলো উদ্ধার করি। যদি তারা তোমার টুপিগুলিও নিয়ে যায়, তাহলে তুমিও আমার মতো মাথা থেকে টুপি খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেবে আর দেখবে সঙ্গে সঙ্গে ওরাও তোমাকে অনুকরণ করছে আর তখনই তুমি সেগুলো কুড়িয়ে সেখান থেকে ঝটপট চলে আসবে, কেমন?"
নাতি বললো, "আচ্ছা দাদু, ভাববেন না, আমি আপনার কথা মতোই কাজ করবো"।
সকালে খেয়ে-দেয়ে বেরম্নতে বেরম্নতে নাতির প্রায় দুপুর হয়ে গেলো আর বাসে করে বেশ কিছুৰণ গিয়ে সেই জঙ্গল পেরম্ননোর সময় নাতির এতোটাই কানত্দি লাগতে লাগলো যে, সেও একটি গাছের পাশে ঝুড়িটি রেখে খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধানত্দ নিলো।
কিছুৰণের মধ্যেই নাতি ঘুমিয়ে গেলো। বেশ খানিকৰণ ঘুম শেষে জেগে দেখলো তার দাদুর মতো তার টুপিগুলোও উধাও এবং ওপরে গাছের দিকে তাকিয়ে দেখলো একদল বানর সেগুলো পরে হুঁটোপুটি করছে। নাতি আর চিনত্দিত হলো না, সঙ্গে সঙ্গে সে দাদুর শিখিয়ে দেওয়া কথা মতো তার নিজের মাথা থেকে টুপিটা ফেলে দিলো। কিন্তু কি আশ্চর্য কোনও বানরই তাকে অনুকরণ করে মাথা থেকে টুপি ফেলছে না। উপরন্তু একটি টুপিছাড়া বানর অন্য গাছ থেকে নেমে এসে নাতির ফেলে দেওয়া টুপিটা মাথায় পরে লাফ দিয়ে গাছে ওঠার সময় নাতির কানের কাছে মুখ এনে বললো, "দাদা কি তোমার একলাই আছে"।
(এর অল্প কিছুকালের মধ্যেই বাংলাদেশ অতি দ্রম্নত ছেয়ে গেলো টুপিতে এবং আধুনিক টুপি পরিহিত শাখামৃগগণ হাতে বেসবল ব্যাট নিয়ে নেমে গেলো মানুষকে টুপি পরানোর কাজে)।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



