somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানহ মন, খোঁজো তার সন্ধান

২৬ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধকে অতীত হিসেবে ভুলে যাওয়ার, আর সেই অতীত নিয়ে দুই পৰের কামড়াকামড়ির কারণে তাকে বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিতর্ক তোলার আজই উপযুক্ত দিন বটে; কারণ আজ যে ছাবি্বশে মার্চ, এই দিনেই যে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র পর্বটির উদ্বোধন হয়েছিল!! স্বীকার করতেই হচ্ছে, যিনি এই প্রসত্দাব রেখেছেন, আর যিনি বা যারা তাকে সমর্থন করছেন তারা নমস্য, শুকনো একটি অভিনন্দনে তাদের নন্দিত করলে কম করা হবে, গোটা জাতির উচিত তাদের সামনে নতজানু হয়ে দাঁড়ানো, নইলে তাদের চলবে না কারণ তারা গণতান্ত্রিক অধিকারের বলে জাতীয় সঙ্গীতের বদল চাইছেন, হয়তো চাইবেন কিছুদিনের মধ্যে পতাকা বদল করতে, কিংবা হয়তো আরও এগিয়ে গিয়ে চাইবেন মানচিত্র বদলের, ফিরে যেতে সাতচলিস্নশের মানচিত্রে, সেটাও 'ইহাদেও' গণতান্ত্রিক অধিকার। যে গণতান্ত্রিক অধিকারে একাত্তরে গরিষ্ঠ অংশ যুদ্ধ করেছে আর কিয়দংশ করেছে তার বিরোধীতা - এসব সবই পড়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের পর্যায়ে। হায়রে অধিকার, কি ব্যাধির তুমি হইলে শিকার!!


দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে অর্ধ শতাব্দীরও আগে, কিন্তু এখনও যে সব দেশ আক্রানত্দ হয়েছিল কিংবা সশস্ত্র বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল তারা সেই জ্বলজ্বলে ৰত (মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ের দগদগে ৰত আবার আমাদের তরম্নণ প্রজন্মের হৃদয়ে কোনও ব্যাথাই জাগায় না, তারা ব্যাথা-বিমুখ) এখনও শুধু বয়েই বেড়ায় না, তা জনসম্মখে প্রকাশ করে গর্বের সঙ্গে। পূর্ব ইউরোপিয় দেশগুলিতে যারা গিয়েছেন তারা দেখতে পাবেন প্রতিটি ছোট্ট শহরেও দ্বিতীয় বিশ্বুযুদ্ধের স্মৃতির মিনার, শিখা অনির্বাণ। এমনকি যারা জার্মানীতে আছেন তারাও দেখবেন যে, হিটলারের সেই আগ্রাসী আর হত্যা-তিয়াস তাদেরকে কতোখানি নতজানু করে রেখেছে। এখনও এসব দেশগুলির স্কুলের পাঠ্য বইতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূল। পোল্যান্ডের সপ্তম শ্রেণীর স্কুলপাঠ্য বইয়ের সবচেয়ে বড় অধ্যায়টি ক্রাকাউ শহরে হিটলারের ইহুদি-নিধনের ওপর। এখনও এইসব দেশের অধিকাংশ সাহিত্য, কবিতা আর সিনেমা নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকে ঘিরে। যারা জার্মানীতে রয়েছেন তারা গত বছর বার্লিনের থার্ড রাইখ খ্যাত ভ্থগর্ভস্থ বাঙ্কারে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের শেষ দিনগুলি নিয়ে নির্মিত ডাউনফল ছবিটি দেখে থাকবেন। এই ছবিটিতে নাৎসিদের প্রতি কৌশলে মমত্ব প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে, রাশিয়া সহ পুরোনো সোভিয়েত দেশগুলি এবং পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছবিটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি ব্রিটেনেও ছবিটি হলে প্রকাশের আগে একটি তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, এই ছবির বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং আপনার বিবেকের বিবেচনায় এটি দেখার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বয়স মাত্র পঁয়ত্রিশ, এরই মাঝে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীরা জাতীয় পতাকার দখল নিয়েছে আর যুদ্ধোত্তর প্রজন্মকে পেয়ে বসেছে ইতিহাস-বিমুখতায়। এখনও পর্যনত্দ বেঁচেবর্তে আছে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, তাই তারা এর ইতিহাস নিয়ে অবশ্যই টানাটানি করবেন, সেটাই সঙ্গত। এখনও পর্যনত্দ বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ একটি বড় নিয়ামক, এটাই সত্য কারণ শিৰিত ও বিভ্রানত্দ প্রজন্মের কাছে এর আবেদন না থাকতে পারে কিন্তু তারাই তো বাঙালি জাতির সর্বাংশ নয়, কিয়দংশ মাত্র, সবচেয়ে বৃহৎ যে অংশটি এখনও থাকে গ্রামে, যাদের কাজ এই কিয়দংশের মুখের গ্রাস জোগানো, দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা - তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব সীমাহীন। কারণ তাদের স্বজন হারানোর ৰতটি এখনও দগদগে, কিশোর বাবা কিংবা কিশোরী মায়ের লাল শাড়ি না হারানোর কষ্ট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জানা কারো মুখ থেকে স্বাভাবিক ভাবেই বেরিয়ে আসবে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার কথাই কারণ এদের কাছে শহুরে চাকচিক্য, বিলাসি জীবন আর সেই সঙ্গে সেই জীবনের অর্জিত পাপৰয়ের জন্য ধর্মটাই আসল, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জাতীয় ইতিহাসের আলোচনা 'কিইশে' লাগাটাই স্বাভাবিক।

শেষকথার শেষ কথাটি হলো, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মাত্র পয়ত্রিশ বছরের নয়, আটচলিস্নশে ভাষার দাবীতেও যদি এর শুরম্ন হয় তাহলে হিসেব কষে বের করুন এর বয়স কতো?

পুনশ্চ ঃ হাজার বছরের বাঙালি ইতিহাস ঘেঁটে দেখার সময় থাকলে সেখানেও ঝাঁক মেরে দেখুন, বাঙালি স্বাধীন কখনও ছিল না, ইতিহাসের এই উপাত্ত জানা না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ-বিমুখতা আসবেই, আসতে বাধ্য - দোষ আসলে কারো নয়, দোষ বাঙালি জাতির কপালের!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×