somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষৃক্ষ ও তার নতুন বিষফল - 1

৩১ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব আর স্বাধীনতা নিয়ে এই বস্নাগে কিছু লিখলেই অনেকের শরীরে বিচ্ছু লাগে, কারো কারো আবার হাত নিশপিশ করে। তারা সরাসরি শারীরিক হুমকি-ধামকিও দিয়ে থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে পাকিসত্দানীরাও যেখানে স্বীকার করে যে, পাকিসত্দান ভেঙেছে আওয়ামী লীগ ও তার নেতা শেখ মুজিব, সেখানে আজ পয়ত্রিশ বছর পর পাকিসত্দানপন্থীদের নাতি-নাতনিরা বলে, আওয়ামী লীগ বা শেখ মুজিবের কোনও ভ্থমিকাই নাকি ছিল না - কথায় বলে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়, আসলে তা নয়, ধানের চেয়ে খড়কুটা দামী, হোক খড় গরম্নর খাবার এবং গোবরেই তার সমাপ্তি।

26শে মার্চ ইয়াহিয়া খান পাকিসত্দান রেডিওতে পাকিসত্দানী জাতির উদ্দেশ্যে (এরকম কোনও জাতি আদৌ আছে কি না সেটা আজকের পাকিসত্দানীরাও জানে না) ভাষণে বলেছিল, "শে মুজিবুর রহমানের অসযোগ আন্দোলন ছিল দেশদ্রোহীতা। সে আর তার দল তিন সপ্তাহব্যাপী পাকিসত্দানী কতর্ৃপৰকে অস্বীকার করেছে। তারা সন্ত্রাস করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। সে যে ঘোষণাসমূহের প্রসত্দাব করেছিল তা নিছক ফাঁদ। তার জানা ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হলে এগুলো শুধু কাগুঁজে ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। প্রকৃতপৰে তখন পূর্ণভাবে স্বাধীন ৰমতা প্রতিষ্ঠা করতো। তার ঔদ্ধত্য, একগুয়েমি ও কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ একটি শর্তই পূরণ করে আর তাহলো ওই ব্যক্তি ও তার পাকিসত্দানের শত্রম্ন, কারণ তারা পাকিসত্দান ভাঙতে চায়। তারা পূর্ব পাকিসত্দানকে সার্বিক ভাবে স্বাধীন করতে চায়। সে ট্রেটর, এই অপরাধ উইল নট গো আনপানিশড" _ পাকিসত্দানী সামরিক জানত্দা এমনকি সাধারণ মানুষের মনের কথাই ছিল এটি, এমনকি আজও পয়ত্রিশ বছর পরেও এর হেরফের হয়নি। আশ্চর্য লাগে ভাবতে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে এই পঁয়ত্রিশ বছর পরেও একটি গোষ্ঠী ইয়াহিয়ার ভাষাতেই কথা বলে, তার মানে কি এটাই যে, বাঙালিকে আবার এই পাকিপন্থী বাঙালির বিরম্নদ্ধে অস্ত্র ধরতে হবে?

তিন আর ত্রিশে এখানে বেশ হচ্ছে দেখে মনে হলো আজ যারা তিন নিয়ে কথা বলছে তারা জানে না যে, ত্রিশ লাখের মধ্যে নিহত হিন্দুর তালিকা দীর্ঘ। আর বাংলাদেশের নয়া-মুসলমানেরা জৈষ্ঠ মাসে নতুন পানি পাওয়া হাঁসের মতোই খলবল করে নিজেদের অতি মাত্রায় মুসলমান প্রমাণ করে লাখে লাখে হিন্দুদের এই দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো, ৰতিগ্রস্থ হওয়া কিংবা ধর্ষিতা হিন্দু নারী নেই আজ বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে সাৰ্য দেওয়ার জন্য - আর এই সুযোগে পাতি শেয়ালেরা প্রশ্ন তুলছে। এক শেয়াল বলছে, " ক্যায়া হুয়া, ক্যায়া হুয়া?"
উত্তরে আরেক শেয়াল বলছে, "হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া"।

দুঃখজনক সত্যি হচ্ছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরেও যেখানে দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল প্রায় মোট জনসংখ্যার কুড়ি শতাংশ, সেখানে বর্তমানে তা এসে ঠেকেছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত শতাংশে। এই তথ্য মনগড়া নয়, বাংলাদেশের আদমশুমারী দেখেই সেটা যে কেউ প্রমাণ করতে পারেন। প্রশ্ন হলো, কেউ মারা গেলে তার তো একটা নথি থাকবে, অথবা কেউ নিখোঁজ হলে থানায় তা নিয়ে মামলা হবে, রেকর্ড থাকবে, কিন্তু এই যে একটি নির্দিষ্ট ধর্মাবিশ্বাসীদের একটি বিরাট অংশ দেশ থেকে কোনও কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হলো, তার কিন্তু কোনও রেকর্ড নাই। বিষয়টি স্যাটায়ার করে হয়তো আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর বংশবৃদ্ধির ৰমতা লোপ পেয়েছে!! কিন্তু সেটা যেমন সত্যি নয়, তেমনই এটাই ধ্রম্নব সত্যি যে, তারা নিখোঁজ হয়েছে। ঢালাও ভাবে কেউ বলবেন যে, তারা ভারতে চলে গেছে; কিন্তু প্রমাণ আর এর পেছনে কারণ না উলেস্নখ করে ভারত যাওয়া নিয়ে সন্দেহ করার অধিকার যে কোনও গবেষকের রয়েছে এবং থাকবে।

আমি বিশ্বাস করি, সুমন চৌধুরীর আলোচ্য দ্বি-জাতি তত্ত্ব আর আমাদের আজকের বাঙালি-বাংলাদেশী বিতর্কের মাঝেই রয়েছে এর উত্তর। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় বাঙালিত্ব বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশী হিসেবে জাতীয়তার সারকামসাইজড্ করা হয়েছে, তারপর এখন ধীরে ধীরে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং এরপর আসত্দে আসত্দে বাংলাসত্দানে বিশ্বাসী হওয়ার দাবি উঠবে এবং তারপর কি হবে সেটা ভবিতব্যই জানে।

তাই এই মুহূর্তে এটাই বাসত্দবতা যে, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরে একচোখা জিন্নার দ্বি-জাতি তত্ত্ব মিথ্যা প্রমাণ করলেও সেই বিষবৃৰের ফল বাঙালি এখনও খেয়ে চলেছে, জেনে এবং না জেনে; তিন আর ত্রিশ লাখের প্রশ্নটা তাই এই গাছেরই বীজদের মুখেই আমরা শুনি। এই রক্তবীজের বংশধরেরাই মারের হুমকি দেয়, রগ কাটে, জবাই করে, বোমা মারে, বাংলাকে আফগান বানাতে চায়; এটা করতে পারলে তাদের সুবিধা কি জানেন? তারা তখন ধর্মের তাবিজ বেচতে পারবে দুই হাতে, নইলে রাষ্ট্র ৰমতা দিয়ে একজন প্রকৃত ধার্মিকের কি দরকার? কবরে তো আর ৰমতা যাবে না, কিন্তু তারা তো পার্থিব ৰমতায় বিশ্বাস করে, পরকালে তাদের বিশ্বাসই নাই, নইলে নিজামী কিংবা মুজাহিদ ইমাম হইয়া জুম্মার নামাজ পড়াবে, মানুষরে ধর্মের বাণী শুনাবে আর দিন শেষে এক গৃহসত্দের বাড়িতে খানা খাইয়া, দাঁড়ি চুলকাইতে চুলকাইতে গিয়া বউয়ের সঙ্গে বিছানায় ঢুকবে, আর বছর বছর আলস্নায় তাগোর ঘরে 'মাল' দেবে _ কিন্তু তারাতো তা করছে না, তারা ৰমতা চাইতেছে, একাত্তরে চেয়েছিল, পায় নাই; এখন আবার চাইতেছে, এবং ৰমতার জন্য শক্তি প্রয়োগ করতাছে।

অবশ্য এসব নিয়ে কথা বললেই, আমাকে পায়ে পা পঁ্যাছিয়ে (?) ঝগড়া করার অপরাধে অপরাধী করে বস্নগ-গড়ায় তুলবেন। কিন্তু তাতে আপত্তি নাই, কারণ আমি জানি যে, এখনও পর্যনত্দ বঙ্গপুঙ্গবের অনেকেরই সেই বুকের পাটা হয়নি, যে বুকের পাটায় কোনও নারীর যুক্তিকে শুধু যুক্তি হিসেবে দেখতে পাবেন। একই প্রশ্ন, একই যুক্তি কোনও পুরম্নষ তুললে সেটা হয়ে যায় তর্ক কিংবা বিতর্ক, কিন্তু সেটা কোনও মেয়ে তুললে হয় ঝগড়া। আমি সেই ঝগড়ুটে-র খেতাব মাথা পেতে নিলাম কিন্তু তাতে কি সত্য মিথ্যা হবে? হবে না।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×