somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমস্যা চিহ্নিত, সমাধান যাত্রা!

০৭ ই মে, ২০১৫ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কক্সবাজারে সুপেয় পানি সঙ্কট চরমে (পর্ব-১)

মইন উদ্দীন (দৈনিক সমুদ্রকণ্ঠ) ॥
জেলা শহরে সুপেয় পানির সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার অধিকাংশ স্থানে ভূ-গর্ভস্থ মিঠাপানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। গত ৩ বছরে শহরের বাঁকখালী নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ ফুট নিচে নেমে গেছে পানির স্তর। এতে শহরের এক প্রান্তে পানীয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশিরভাগ নলকূপে সুপেয় পানির পরিবর্তে উঠে আসছে লবণাক্ত জল।
এভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান সচেতন মহল। ধারণা করা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫ বছরে তীব্র পানি সঙ্কটেই পড়বে না শুধু কক্সবাজারবাসী বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, ৫ বছর কক্সবাজারের কোথাও সুপেয় পানিই পাওয়া যাবে না।
সূত্রমতে, পৌর এলাকায় বসবাস করে ৩ লাখ মানুষ যেখানে রয়েছে ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। প্রতি ২৪ ঘন্টায় শহরে সুপেয় পানির চাহিদা ২০ লাখ গ্যালন যার মধ্যে ১২ লাখ গ্যালন পৌরবাসীর ও ৮ লাখ গ্যালন হোটেল-মোটেল জোন এলাকার চাহিদা। জানা যায, পৌরসভায় পানির সংযোগ রয়েছে ১২৫৭টি এবং গভীর নলকূপ রয়েছে ১৩টি যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অপ্রতুল।
সূত্রমতে, কক্সবাজারের ৩ ভাগের ২ ভাগ পানি লবণাক্ত। আর শহরে বাঁকখালীর নিকটবর্তী এমন কিছু এলাকা আছে যেই এলাকাগুলোতে সুপেয় পানি সোনার হরিণ। যার মধ্যে নুনিয়া ছড়া, কস্তুরা ঘাট এলাকা, এন্ডারশন রোড, বাজার ঘাটা, টেকপাড়া ও হাঙ্গরপাড়া অন্যতম। এসব এলাকায় পানিই জলের এতটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শহরে গভীর ও অগভীর নলকূপ বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে গৃহস্থালী ও পানীয়জলের চাহিদা পূরণ করা হয়। সাম্প্রতিককালে দ্রুত নগরায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার পাম্প স্থাপনের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। আর পাহাড় ও গাছ পালা কেটে সাবাড় করাকেও মূল সমস্যা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কক্সবাজার পৌরসভার একজন প্রকৌশলী জানান, শহরে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ১৫ ফুটের বেশি হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। গত ৩ বছরে ৪০ থেকে ৫০ ফুট নিচে নেমে গেছে পানির স্তর। মাত্র ১০ বছর আগেও শহরের এন্ডারশন রোড এলাকায় ১৮০ ফুট গভীরে নলকূপ বসিয়ে সুপেয় পানির স্তর পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ৩০০ থেকে ৩২০ ফুট গভীরে যেতে হয়।
মিঠাপানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে বাঁকখালী তীরবর্তী শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয়জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় স্থাপিত হাজার হাজার নলকূপ প্রতি বছর অকেজো হয়ে পড়ছে বলে জানা যায়।
শহর এলাকা ছাড়াও জেলার অধিকাংশ স্থানে ভূ-গর্ভস্থ মিঠাপানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ ঈদগাঁও অঞ্চলে মাত্র এক দশক আগেও ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীরে টিউবওয়েল বসিয়ে পানীয়জল পাওয়া যেত। এখন সেখানে প্রায় ২শ’ ফুট গভীরে যেতে হয়। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জেলার সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নভূমিসহ টেকনাফের অধিকাংশ এলাকায় পানীয়জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শহরের বাহার ছড়ার বাসিন্দা চাকুরিজীবি আমান উল্লাহ ও ফয়জুল হক জানান, আগে স্বাভাবিকভাবে পানি পাওয়া যেত। যদি পাম্পে সমস্যা হয় নলকূপ ছিল ভরসার পাত্র। আর এখন নলকূপ, পাম্পকে ছাড়িয়ে পি টিউবওয়েল পর্যন্ত কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিন পানির পিক আওয়ারে তাদের দূর্দশার শেষটুকু পোহাতে হয় উল্লেখ করে অতিস্বত্ত্বর এর সামধান চান তারা।
কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল মামুন ও সেভ দ্য নেচারের সভাপতি কল্লোল দে চৌধুরী বলেন, আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিরাপদ মতার ভিতরে রাখতে হবে। যেকোন উপায়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হবে। সেচ দতা ও পানির উৎপাদন মতা বাড়াতে হবে। চাষাবাদে ডিপ টিউবওয়েলের ব্যবহার বন্ধ করে পানির চাপ ঠিক রাখতে হবে। অন্যথায় এভাবে চলতে থাকলে খুব বেশি দেরী নেই যখন কক্সবাজার হবে মরুভূমি।
এদিকে কথা হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, নিরাপদ পানির দাবীতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। গত ক’দিন আগেও জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে সুপেয় পানির দাবীতে। কিন্তু এতে সংশ্লিষ্ট সকলে আন্তরিক না হলে মরুভূমিতে পরিণত হবে কক্সবাজার যা খুব বেশি দেরী নেই বলে জানান তিনি।
নিরাপদ পানির দাবীতে সোচ্চার প্রবীন এই সাংবাদিক আরো বলেন, আমাদের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। সমুদ্র সৈকত থেকে ডি-স্যালাইনেশন পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব। যদি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর একসাথে এব্যাপারে আন্তরিক হয় তাহলে অতি সত্ত্বর সুফল পাবে কক্সবাজারবাসী।
চলবে…
(বি:দ্র: আগামী পর্বে থাকছে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষনে সুপেয় পানি সঙ্কটের সমাধান)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×