somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা জাতি কিভাবে বিভক্ত হয় সেই গল্প বলছি…

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা জাতি কিভাবে বিভক্ত হয় সেই গল্প বলছি…

শুরুটা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে, একটি নির্দলীয় আরাজনৈ্তিক আন্দোলন।
এতে একাত্বতা ঘোষনা করেছিল দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সংগঠন, প্রত্যেক নাগরিক…
হাতে গনা কিছু জানোয়ার বাদে……

এরপর বলা হল এটা জামাত নিষিদ্ধ করার আন্দোলন।
এতেও সবাই খুশী। স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এই সংগঠনের যৌক্তিকভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নাই। আন্দোলন আগের চেয়েও জোরদার হল, সমর্থিত হল, প্রশংসিত হল…

এরপর বলা হল বিএনপি এবং জামাত ছাড়া যে কোন দল বা ব্যাক্তি এই আন্দোলনের অংশ।
এবার খুব একটা প্রশংসা পেলনা কথাটা। কারন এই আন্দোলনের প্রতি ৪ জন ব্যাক্তির মাঝে একজন এমন ছিল যে জীবনে কখনো না কখনো, কোন না কোন জাতীয়তাবাদী সংগঠন করেছে। এখান থেকে বিভক্তির শুরু।

এরপরও থেমে থাকেনি আন্দোলন। পরম মমতায় আম জনতা যখন আপন করে নিয়েছিল এই আন্দোলনকে, যখন অন্যান্য ইসলামিক সংগঠনও চেয়েছিল জামাত নিষিদ্ধ হয়ে যাক, যখন মাদ্রাসার মোল্লা-হুজুরেরাও যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবীতে সোচ্চার হয়েছিল, ঠিক তখনই কিছু হাম্বা বলে উঠল
“সকল ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে”
এবার সত্যিই আঘাত পেল জনতার বিরাট একটা অংশ। কারন দেশের ৩৮টি রাজনৈ্তিক সংগঠনের মাঝে ১২টি ইসলামিক, দেশের প্রতি ৪টি অর্থনৈ্তিক সংগঠনের মাঝে একটি ইসলামিক, দেশের প্রতি ৩টি সামাজিক সংগঠনের মাঝে একটি ইসলামিক, প্রতি ২টি পরিবারের মাঝে একটি ইসলামিক…

তাও চলছিল আন্দোলন… এত বিভক্তির পরেও সকল বিভক্তির উর্ধে ছিল যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের মহৎ উদ্দ্যেশ্য।

এরপর বলা হল এক ধর্মবিদ্বেষী মৃতদেহকে শহীদ উপাধী দিয়ে আন্দোলন কেন্দ্রে তার জানাজা পড়ানো হবে। যে নিজেই ধর্মকে ঘৃ্না করতো তার জোর করে জানাজা পড়িয়ে শুধু ধর্মকেই না, বরং সেই ধর্মবিদ্বেষীকেওঅপমান করা হল। এবার বিভক্তি পরিষ্কার। এতটা হিপক্রেসি সহ্য করাটা সত্যিই কঠিন…

এবার খন্ড খন্ড হয়ে পড়ল জনতা। এবং তার সুযোগটা নিতে এক মুহুর্ত দেরী করেনি প্রতিপক্ষ। শুরু হয়ে গেল তান্ডব। আর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত পেয়ে বাকী ১১ দলও এবার তাদের সাথে যুক্ত হল, যুক্ত হল মোল্লা-হুজুরেরা, যারা কিনা একসময় গলায় ঝুলিয়েছিল “ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই “

এবার আমার কিছু প্রস্ন আছে…
এই আন্দোলনে দলীয় রাজনীতি টানা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে ধর্ম টানা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে হিপক্রেসি করা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে কি শুধুই অনলাইন যোদ্ধাদের, জনতার না?
এই আন্দোলনে জনতার অনুভুতির কি কোনই মুল্য নেই?

আমার আর আপনার পরিচয় বাংলাদেশী এবং শুধুই বাংলাদেশী…
এতটুকু পরিচয় কি যথেষ্ট ছিল না???
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×