দাদু একসময় ব্যপকহারে মুরগী পালত । আর সেই মুরগীর থাকার জন্য বিরাট এক খোঁয়াড় বানানো হয়েছিল । সেই খোঁয়াড়ই ছিল আমাদের হেডকোয়ার্টার । হাইসেন নারে ভাই, খোঁয়াড় হলেও সত্যিকারের তিন গোয়েন্দাদের হেডকোয়ার্টারের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না । দৈর্ঘ্যে 5/6 ফুট, ইটের দেয়ালে গোল গোল কয়েকটা ফুটা ( আমাদের জানালার কাজ করত ), টিনের চাল, আর সাথে একটা দরজা ছিল । সেটাতে আবার তালাও লাগানো যেত
হেডকোয়ার্টারে আমাদেরকে কুঁজো হয়ে ঢুকতে হত । আমরা সুবিধার জন্য মেঝেতে চটের বস্তা বিছিয়ে দিয়েছিলাম । ছোটখাটো একটা বাক্স ছিল ভেতরে । সেটার ভেতরে আমাদের দরকারী জিনিস যেমন, অস্ত্রপাতি, টাকাপয়সা, কয়েকরকমের বিস্কুট, চকোলেট, কয়েকটা গোয়েন্দাগল্পের বই ছিল । অস্ত্রপাতি ছিল মোট 3টা, একটা কাঠের ইয়াব্বড় তলোয়াড়, জংধরা এবং হাতলভাঙা একটা ফলকাটার ছুরি আর নিজেদের হাতে বানানো তীরধনুক । তলোয়ার আর ছুরি থাকতো আমার কাছে( যেহেতু আমি নেতা) আর তীরধনুক মুন্নীর কাছে । তন্বী ছিল রবিন অনেকটা দুধভাত টাইপের তাই কোন অস্ত্র তাকে দেয়া হয়নি । প্রতিদিন দুপুরে আমাদের মিটিং বসতো । মিটিঙে আলোচনা-টালোচনা কিছুই হত না, ু বিক্কু খেতাম, লুডু খেলতাম নয়তো বসে বসে পিচ্চি দুইটারে তিন গোয়েন্দা পড়ে শুনাতাম ।
তিন গোয়েন্দারা যেমন পুরোনো অকেজো জিনিস দিয়ে কত্ত দরকারী জিনিস বানাতো আমাদের সেই সুযোগ ছিল না । কারন সব পুরোনো অকেজো জিনিস বিক্রি করে ফেলতো দাদু । তাই যে জিনিসগুলো আমাদের পছন্দের ছিল সেগুলো আমরা চুরি করে হেডকোয়ার্টারে গায়েব করে ফেলতাম । এভাবে আমাদের সংগ্রহশালা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ।
কিন্তু সেই সুদিন বেশিদিন আর রইল না । আমাদের হেডকোয়ার্টারে হঠাৎ করে জিনিস চুরি যেতে লাগল । বেশিকিছু না, দুই একটা বিস্কুট আর তা না হলে 2/3 টাকা । ধরা পড়ার কথা না কিন্তু প্রতিদিন বের হওয়ার সময় সবকিছু গুনে খাতায় লিখে রাখতাম বলে চুরিটা ধরা পড়ল । কিন্তু তাই বলে গোয়েন্দা হেডকোয়ার্টারে চুরি?? এত রীতিমত দিনেদুপুরে ডাকাতি । এইটাই ছিল আমাদের গোয়েন্দা জীবনের প্রথম কেস । এই কেস সমাধান করতে গিয়ে মাথার নাট-বল্টু সব ঢিলা হয়ে গিয়েছিল ।
বিস্তারিত না হয় আরেকদিন লেখব ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




