আগের চাইতে এখন মিডিয়ায় নারীদের পদচারণা বহুগুণে বেড়েছে । কিন্তু মিডিয়াতে কি নারীদেরকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে??
টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন চিত্রগুলোতে নারীদেরকে এখনও হেয় করে উপস্থাপন করা হয় । রান্না ভালো হয়নি বলে স্বামী-শাশুড়ী বউকে বকছে আর মেয়েটি কান্নাকাটি করছে । ঠিক সে সময়ই তার সমস্যার সমাধান নিয়ে এল গুঁড়া মসলা ।
আবার বহুদিন পর ছেলে মায়ের সাথে দেখা করতে এসে মায়ের কষ্ট লাঘবের জন্য বের করল গুড়া মসলা আর মা খুশি হয়ে ছেলে কে বললেন সত্যিকারের রাঁধুনি আনার জন্য ।
উপরের দুইটি বিজ্ঞাপনেই নারীকে শুধুমাত্র রাঁধুনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
আবার ক্রিমের বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে যে, কালো মেয়ের চাকুরী কিংবা বিয়ে হচ্ছে না কিন্তু যেই না ক্রিম মেখে রং ফর্সা হল অমনি তার সকল সম্ভাবনার দ্্বার খুলে গেল । যেন মেয়েদের প্রধানতম গুণ গায়ের ফর্সা রং ।
আরো দুটি বিজ্ঞাপনের কথা না বললেই নয় । প্রথমটি বাড়ীর এবং পরেরটি গাড়ীর । বাড়ীর বিজ্ঞাপনে দেখায় প্রেমিক প্রেমিকাকে বিভিন্ন জিনিস দেয়ার অঙ্গিকার করছে কিন্তু কোন ভাবেই খুশি করতে পারছে না । শেষে যেই না বাড়ী দেয়ার কথা বলল তখনি আহ্লাদে গদগদ প্রেমিকার উত্তর-"এটাও প্রতিদিন একটি করে?"
আবার গাড়ীর বিজ্ঞাপনে প্রেমিকের গাড়ী মাঝপথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রেমিকা গান গাইতে গাইতে অন্য ছেলের সঙ্গে ভালো গাড়ীতে চড়ে ভুউউউম........
নারী যেন শুধু বাড়ী-গাড়ী পেলেই সুখী । এগুলো পেলে ভালোবাসার মানুষকে ছাড়তে কোন আপত্তি নেই ।
আরো কিছু বিজ্ঞাপন আছে যেখানে নারীর কোন কাজই নেই কিন্তু একজন নারীকে পর্দায় আনতে না পারলে যেন বিজ্ঞাপনটাই অসম্পূর্ন । আমি ভেবে পাই না সেভিং ফোমের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে রেজার, ব্লেড এসবের ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশে নারী কেন??
ভাবতে অবাক লাগে এই একুশ শতকের ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে নারীকে এভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে ।অথচ গনমাধ্যমগুলো চাইলেই নারীদের সঠিকভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সহায়তা করতে পারে ।
কাল 8ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস । আগের চাইতে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলার নারী । বর্তমানে নারী বলতে চোখে ভেসে ওঠে সচেতন নারীর মুখ । আজকের দিনে নারীরা সবক্ষেত্রেই গভীর দায়িত্বশীলতার সাথে স্ব-স্ব কর্মস্থানে কাজ করছেন । তাই বলে কি এদের কোন সমস্যা নেই? অবশ্যই আছে । বৈষম্য, নির্যাতন, বখাটেদের অত্যাচার, ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপ আরও নানাভাবে নারীদেরকে ঘায়েল করা হচ্ছে । কিন্তু এগুলো কি তাদের দমিয়ে রাখতে পেরেছে ? বরং আরো বিপুল উৎসাহে, নব প্রেরণায় উজ্জিবিত হয়ে তারা সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে ।
আদ্যিকালের ধ্যান আঁকড়ে রেখে অনেকেই নারীকে দেখতে চায় সনাতনরূপে । আর এ জন্যই টিভি সিরিয়াল, নাটক, চলচিত্রে নারীর সনাতন মূর্তিটিই চোখে পড়ে । নারী হবে পুতুলের মত রূপসী, কোমল, পুরুষের মনোরঞ্জনকারী, সেবাদাসী, সন্তান পালনকারী এবং অবশ্যই মেধাহীন --এ রূপেই তো অনেকেই দেখতে চায় নারীকে ।
তাই গনমাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ যতো বৃদ্ধি পাবে সচেতনতা ততোই বাড়বে । নারীদের বর্তমান অবস্থান থেকে বের করে আনতে এগিয়ে আসতে হবে নারীদেরকেই । বলিষ্ঠ, আত্মপ্রত্যয়ী নারীর জন্য উন্মুক্ত হোক সম্ভাবনার বিশাল দুয়ার । সকল নারীদের জন্য নারীদিবসের শুভেচ্ছা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



