somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ জীবন লাগে না ভাল আর..

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিছানার পাশে সাইড টেবিলে রাখা ক্যাসিও ঘড়ির বাজখাই চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে। হাত বাড়িয়ে ঘড়ির শ্বাসনালী (স্টপ বাটন) চেপে ধরি অভ্যেসমতো । ঘুম ভেঙ্গে যায় যদিও কিন্তু চোখবন্ধ থাকে। মনে করার চেষ্টা করি আজকে জরুরী কাজের তালিকায় কি কি আছে। আর গতকালের কোন কাজটা শুরু করেও শেষ করতে পারিনি। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তে বিষাদে ভরে যায় মনটা। আর তখন শুনতে পাই পাখীর কিচির মিচির শব্দ। মোবাইলে সেট করা এই অ্যালার্ম শুনার সাথে সাথেই লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ি। না হলে অফিসের বাস মিস করতে হবে। বাস মিস করলে অফিস কামাই দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। আর অফিস কামাই করলে অন্তঃত তিনজন বসকে ফোন করে জবাবদিহি করতে হয় যা অনেকক্ষেত্রে বিরক্তিকর ও কষ্টকর। তাই বাস যাতে মিস না হয় সেজন্য তাড়াতাড়ি সকালবেলার অতি আবশ্যিক কাজগুলো সেরে বাস স্টপের উদ্দেশ্যে বের হই।

বাসে প্রত্যেকের জন্য সিট নির্ধারিত। আমার সিটটা জানালার পাশে। পর্দা না সরিয়েও বুঝতে পারি সূর্য উঠতে এখনো কিছুটা বাকী। বাস চলতে শুরু করে। অন্তঃত দেড় ঘন্টার জার্নি। আমি চোখ বন্ধ করি, খুলে যায় মনের দরজা। মন ছুটে চলে ফেলে আসা অতীতের স্মৃতির সাগর সেচে কোন সুখকর স্মৃতির মুক্ত কুড়িয়ে আনতে। স্মৃতি কুড়ানো ভাল লাগা কষ্টের এক তীব্র অনুভূতি নিয়ে একসময় এসে পৌছাই অফিসে। শুরু হয় প্রাত্যহিক জীবনের এক চরম বিরক্তির অধ্যায়। অফিস ছুটি হয় পাঁচটায়। আমি অপেক্ষা করতে থাকি কখন পাঁচটা বাজবে, মুক্তি পাবো দম বন্ধ করা এই খাচা থেকে।

সন্ধায় বাসায় ফিরে যখন পেটপূজোর প্রস্তুতি নিতে থাকি তখন নিজের একাকিত্ব নিজের কাছেই খুব বড় হয়ে ধরা দেয়। সন্ধা শেষে রাত নামে। একাকিত্ব রুপ নেয় বিষণ্ণতায় । বিষণ্ণতা আমাকে গ্রাস করে অক্টোপাসের মতো। আমি প্রানপণ চেষ্টা করি বেরিয়ে আসতে। ক্লান্ত আমি একরাশ কষ্ট বুকের মধ্যে পাথর চাপা দিয়ে ঘুমুতে যাই। আমাকে জেগে উঠতে হবে আরেকটা একগুয়ে ক্লান্তিকর দিনের জন্য ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮


গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?

মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?

শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৯



বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬


ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×