বিছানার পাশে সাইড টেবিলে রাখা ক্যাসিও ঘড়ির বাজখাই চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে। হাত বাড়িয়ে ঘড়ির শ্বাসনালী (স্টপ বাটন) চেপে ধরি অভ্যেসমতো । ঘুম ভেঙ্গে যায় যদিও কিন্তু চোখবন্ধ থাকে। মনে করার চেষ্টা করি আজকে জরুরী কাজের তালিকায় কি কি আছে। আর গতকালের কোন কাজটা শুরু করেও শেষ করতে পারিনি। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তে বিষাদে ভরে যায় মনটা। আর তখন শুনতে পাই পাখীর কিচির মিচির শব্দ। মোবাইলে সেট করা এই অ্যালার্ম শুনার সাথে সাথেই লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ি। না হলে অফিসের বাস মিস করতে হবে। বাস মিস করলে অফিস কামাই দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। আর অফিস কামাই করলে অন্তঃত তিনজন বসকে ফোন করে জবাবদিহি করতে হয় যা অনেকক্ষেত্রে বিরক্তিকর ও কষ্টকর। তাই বাস যাতে মিস না হয় সেজন্য তাড়াতাড়ি সকালবেলার অতি আবশ্যিক কাজগুলো সেরে বাস স্টপের উদ্দেশ্যে বের হই।
বাসে প্রত্যেকের জন্য সিট নির্ধারিত। আমার সিটটা জানালার পাশে। পর্দা না সরিয়েও বুঝতে পারি সূর্য উঠতে এখনো কিছুটা বাকী। বাস চলতে শুরু করে। অন্তঃত দেড় ঘন্টার জার্নি। আমি চোখ বন্ধ করি, খুলে যায় মনের দরজা। মন ছুটে চলে ফেলে আসা অতীতের স্মৃতির সাগর সেচে কোন সুখকর স্মৃতির মুক্ত কুড়িয়ে আনতে। স্মৃতি কুড়ানো ভাল লাগা কষ্টের এক তীব্র অনুভূতি নিয়ে একসময় এসে পৌছাই অফিসে। শুরু হয় প্রাত্যহিক জীবনের এক চরম বিরক্তির অধ্যায়। অফিস ছুটি হয় পাঁচটায়। আমি অপেক্ষা করতে থাকি কখন পাঁচটা বাজবে, মুক্তি পাবো দম বন্ধ করা এই খাচা থেকে।
সন্ধায় বাসায় ফিরে যখন পেটপূজোর প্রস্তুতি নিতে থাকি তখন নিজের একাকিত্ব নিজের কাছেই খুব বড় হয়ে ধরা দেয়। সন্ধা শেষে রাত নামে। একাকিত্ব রুপ নেয় বিষণ্ণতায় । বিষণ্ণতা আমাকে গ্রাস করে অক্টোপাসের মতো। আমি প্রানপণ চেষ্টা করি বেরিয়ে আসতে। ক্লান্ত আমি একরাশ কষ্ট বুকের মধ্যে পাথর চাপা দিয়ে ঘুমুতে যাই। আমাকে জেগে উঠতে হবে আরেকটা একগুয়ে ক্লান্তিকর দিনের জন্য ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।
আলোচিত ব্লগ
সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন
'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
সিনেমা-গান-খেলাধুলা
আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।