রাত ১১টায় ফোন-
তনু: কি করছো?
আমি: এই ঘুমোনোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম।
তনু: মানে!! আমি না বললাম আমার কাজ আছে। এত তাড়াতাড়ি ঘুমোনোর কি আছে। সারাদিনতো কাজ কর আর আমার কাজ করতে বললেই ঘুম পায়? এই জন্য তোমাকে আমার ভাল লাগেনা।
আমি: না না ঘুমাইনি, রেডি হচ্ছিলাম যাই হোক বল কি কাজ।
তনু: শোননা, আমাদের ম্যাডাম (ওর কলেজের অধ্যাপিকা)নারী সচেতনতার একটা বিষয় নিয়ে কাজ করেন। আমাদের একটা কাগজ (প্রশ্নপত্র সার্ভের জন্য) দিয়েছেন আর বলেছেন পূরন করে জমা দিতে।
আমি: তো? পূরন কর, জমা দাও।
তনু: শোননা, একটু করে দাও। বেশী ঝামেলা নেই আমি একটা করে প্রশ্ন করছি তুমি উত্তর দাও। আমি অনেকখানি করে ফেলেছি তোমাকে বেশী করতে হবেনা (খালি নাম ঠিকানা লিখেছে)চিন্তা নেই।
আমি: বল।
(বেশী ঝামেলা পাকালাম না, না বলে দিলে সপ্তাহ খানেক গালাগালি করবে)
তনু: এখানে লেখা আছে আপনার কি মনে হয় নারীদের আরও ক্ষমতায়িত করা প্রয়োজন? বলনা কি লিখবো?
আমি: তোমার কি মনে হয়?
তনু: হ্যা, ঠিক নারীদের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়া উচিত। আমরা তোমাদের সবকথা শুনব কেন? কি ব্যাপার তুমি কিছু বল। কি লিখব?
আমি: নারীদের হাতে কোন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি? মানে কোন কাজটা নারীরা করতে পারবেনা শুধু পুরুষরাই করবে বলা হয়েছে? আমার মনে হয় আগে নারীদের আগে ঠিক করা উচিত সেই ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ তারা করতে পারবে কিনা। আগে নারীদের মধ্যে সেই ক্ষমতা গ্রহনের আত্ববিশ্বাস আছে কিনা জানা উচিত।
তনু: ঠিক আছে, ঠিক আছে। তোমাকে বললেই শুধু আলতু ফালতু কথা। এটাই লিখলাম। এবার বল, তোমার কি মনে হয় এই সমাজে নারীরা অবহেলিত? নারীদের জন্য কি সংরক্ষনের ব্যাবস্থা থাকা উচিত?
আমি: আমারতো মনে হয় বর্তমানে পুরুষরাই অবহেলিত।
তনু: কেন? উল্টাপাল্টা কথা বল কেন।
আমি: না, আমিতো দেখি বাসে, ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত স্থান। অসুস্থ পুরুষও সেখানে বসার জায়গা পায়না। খালি দেখে বসতে গেলেও পুরুষরাই বলে, দাদা, হয় ফাইন দেবেন নয় মহিলাদের কাছে গালি খাবেন কিন্তু।
তনু: বেশী কথা বোলনা। কি লিখবো বল।
আমি: সংরক্ষন অবশ্যই সুবিধা দেয়। তবে সংরক্ষন মেনে নেওয়া মানে, নিজেদের দূর্বলতা স্বীকার করে নেওয়া।
তনু: আচ্ছা এবার বল নারীমুক্তি এবং নারীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য কি করা উচিত বলে আপনার মনে হয়?
আমি: তোমার কি মনে হয়?
তনু: নারীদের আরও শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন। তাদের আরও বোঝানো প্রয়োজন।
আমি: তোমার ম্যাডামের নারীমুক্তি ঘটাতে, নারীদের চাইতে পুরুষদের শিক্ষিত এবং বুঝিয়ে মানসিক পরিবর্তন ঘটানোর বেশী প্রয়োজন। অল্পবয়সী মেয়েদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে।
তনু: এর জন্যই না তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করেনা। খালি ট্যাঁরা কথা। কেন যে তোমাকে বলতে গেছিলাম (ওটাই ওর শেষ প্রশ্ন ছিল। মাঝখানের গুলো লিখিনি বোর হবেন তাই)
আমি: ঠিক আছে শোন প্রশ্ন গুলো আর উত্তর একবার প্রথম থেকে পড়।
তনু: কেন?
আমি: যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাই। ভুল উত্তর দিলেতো তোমার প্রেষ্টিজ থাকবে না।
তনু: ঠিক, ঠিক,। হ্যা, আপনার কি মনে হয় নারীদের আরও ক্ষমতায়িত করা প্রয়োজন?
আমি: তুমিতো সত্যি কথা বল, আমি তোমার ফোন রিসিভ না করে যখন বলি ব্যাস্ত আছি তখন তুমি বল আমি কেন তোমার মত সত্যি বলিনা। তো কালকে একটা সত্যি কথা বলতে পারবা?
তনু: কেন পারবো না, নিশ্চই পারবো।
আমি: শোন, কালকে যখন ম্যাডামকে এটা জমা দিবা, তখন ম্যাডাম উত্তর দেখে জিজ্ঞাসা করবেন কেন তোমার এটা মনে হয়? বলবা, ম্যাডাম এটা আমার বয়ফ্রেন্ড করে দিয়েছে আমি কিছু জানিনা।
তনু: এই জন্যই তোমাকে কোন কাজের কথা বলিনা। আমার স্যারকে দিয়ে এটা করালেই ভাল হত। তোমার মত এত ট্যারা কথা শুনতে হতনা। জান, আমার সব বান্ধবী তাদের স্যারকে দিয়ে করাচ্ছে। আমারই দোষ তোমাকে বলতে গেছি। তুমি আর আমাকে ফোন করবা না। আমার বিপদের সময়ই যদি তোমাকে না পাই তবে আর লাভ কি? সরি ফর ডিস্টার্বিং ইউ।
আমি: ভগবান, এই নারীমুক্তি!!!
( আমার কথা শেষ করার আগেই ফোন কেটে দিয়েছে)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


