অরক্ষতি হুমায়ূন আহমদেরে ওষুধি বৃক্ষরে বাগান
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
বৃক্ষসখা ছিলেন। সকল প্রকার বৃক্ষের প্রতি তার অপরিসীম দরদ ছিল। শহরে বৃক্ষ নেই বললেই চলে। বৃক্ষ লালন-পালনের সুযোগ তো একদমই নেই। তাই বলে তিনি একান্তে বৃক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন না। নাছোড়বান্দা প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ শহর ছেড়ে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের শালবনের ভিতরে পিরুজালি গ্রামেই গড়ে তুললেন বৃক্ষের অভয়াশ্রম। নুহাশপল্লীকে বৃক্ষপল্লী বললেও ভুল হবে না। ১৯৯৮ থেকে মৃত্যুবধি তিনি রোপণ করেছেন প্রায় আড়াই হাজার ফলজ বনজ ওষুধি বৃক্ষ।
হুমায়ূন আহমেদ তার গল্প, উপন্যাস, নাটক ও সিনেমায় বৃক্ষকে পরম মমতায় তুলে ধরেছেন। ওষুধি বৃক্ষের গুণাগুণে মুগ্ধ হয়ে ঠিক করলেন একটি ওষুধি বৃক্ষের বাগান করবেন। নুহাশপল্লীর উত্তরদিকে খোলা মাঠের পাশেই ওষুধি বৃক্ষের বাগানটি। কয়েক প্রজাতির ৫০০ বৃক্ষ রোপণ করেছেন। বাহারি গুণাগুণের বৃক্ষগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন বন-জঙ্গল, নার্সারি দেশ-বিদেশ ঘুরে। রীঠা, ভৃঙ্গরাজ, বাসক, হরীতকী, কফি, লবঙ্গ, ইবতি, শিবপা-ি, লবঙ্গ, ব্লাডলিফ, পাহাড়ি বেল, খয়ার, পানবিলাসসহ বিচিত্র উদ্ভিদ রয়েছে এ বাগানে। বাগানটি অবশ্য তার অনাগত সন্তান রাশেদ হুমায়ূনকে উৎসগ করা।
ঈদের দিন বিকালে নুহাশপল্লীতে গিয়ে দেখা গেল দর্শনার্থীরা সহজেই বিলুপ্তপ্রায় এই ওষুধি বৃক্ষের বাগানে ঢুকে পড়ছে। বাগানটির চারদিকে বেড়া বা সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, সব শ্রেণী পেশার মানুষ সহজেই বাগানে ঢুকে পড়ছে। কেউবা বৃক্ষের পাতা ছিঁড়ছে, ঢাল ভাঙছে স্মারক হিসেবে সংগ্রহে রাখার জন্য। কেউবা কোনো রোগ থেকে মুক্তির জন্যও বৃক্ষ নষ্ট করছে। ঈদপরবর্তী ভ্যাকেশন চলায় দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোকের আগমন ঘটছে নুহাশপল্লীতে। নুহাশপল্লীর স্টাফ আসাদুজ্জামান খান জানান, গতকাল শুক্রবারও ১০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছিল। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকলেও তার প্রিয় বাগানটির এই অবস্থা দেখলে কষ্ট পেতেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....
ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?
বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঁশি

হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
হুলো বেড়াল

গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?
দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।